মার্কিন প্রতিষ্ঠান থেকে বহনযোগ্য যন্ত্র কিনছে বিটিআরসি
মার্কিন প্রতিষ্ঠান থেকে বহনযোগ্য যন্ত্র কিনছে বিটিআরসি
২০১৬-০৫-১০ ০২:৫৬:৫৫
প্রিন্টঅ-অ+


তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এর অংশ হিসেবে মার্কিন প্রতিষ্ঠান বেনটিভের কাছ থেকে বহনযোগ্য ১০টি তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ যন্ত্র কিনছে প্রতিষ্ঠানটি। এ-সংক্রান্ত একটি চুক্তিও হয়েছে। শিগগিরই এসব যন্ত্র সরবরাহ শুরু হবে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

হাতে বহনযোগ্য তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ সরঞ্জাম কিনতে গত বছরের ৪ জুন দরপত্র আহ্বান করে বিটিআরসি। ১৫টি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের কাগজপত্র সংগ্রহ করলেও জমা দেয় ছয়টি। পরবর্তীতে দরপ্রস্তাব যাচাই করে মূল্যায়ন কমিটি দুটি প্রতিষ্ঠানকে অযোগ্য ঘোষণা করে। আর প্রাপ্ত প্রস্তাবগুলোর ভিত্তিতে চারটি প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়।

সংক্ষিপ্ত এ তালিকায় সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে তালিকার শীর্ষে স্থান পায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান বেনটিভ এলএলসি। প্রতিষ্ঠানটি ৩ কোটি ৩১ লাখ টাকায় এসব যন্ত্র সরবরাহ করতে পারবে বলে দরপ্রস্তাবে জানায়। কাস্টমস শুল্ক, মূসক ও অন্যান্য হিসেবে এর সঙ্গে আরো ৩০ শতাংশ অর্থ ব্যয় হবে। এ বাবদ ব্যয় হবে প্রায় ৯৯ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে হাতে বহনযোগ্য তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ যন্ত্র কিনতে বেনটিভকে কার্যাদেশ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

বিটিআরসির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, টেলিযোগাযোগ সেবা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিয়মিত তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ করছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় দেশে টেলিযোগাযোগ সেবার উন্নয়ন ও ব্যাপ্তি বেড়েছে। আর সেবার এ বিস্তৃতির পাশাপাশি তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। এজন্য নতুন যন্ত্র সংগ্রহ করছে কমিশন।

তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম শক্তিশালী করতে বিদ্যমান ব্যবস্থার উন্নয়নে ২০১৫-১৬ অর্থবছর ২৩ কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় হাতে বহনযোগ্য তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ যন্ত্র সংগ্রহে ৪ কোটি ৫৫ লাখ, স্থায়ী পর্যবেক্ষণ স্টেশনের উন্নয়নে ৯ কোটি ৯৮ লাখ ও ভ্রাম্যমাণ পর্যবেক্ষণ স্টেশনের উন্নয়নের জন্য যন্ত্রাংশ কিনতে ৮ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে ক্রয় পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।

২০০৮ সালে ‘স্ট্রেনদেনিং দ্য রেগুলেটরি ক্যাপাসিটি অব বিটিআরসি’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের টিসিআই ইন্টারন্যাশনাল ইনকরপোরেশনের কাছ থেকে তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য ৫০ লাখ ডলার ব্যয়ে বিভিন্ন যন্ত্রপাতি সংগ্রহ করা হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রণযোগ্য একটি ব্যবস্থার আওতায় কাজ করা এসব যন্ত্রপাতির মাধ্যমে তরঙ্গের দক্ষ ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেয়া তরঙ্গের সুষ্ঠু ব্যবহার ও পর্যবেক্ষণ করছে কমিশন।

বর্তমানে দেশব্যাপী ছয়টি স্থায়ী (ফিক্সড), পাঁচটি ভ্রাম্যমাণ (মোবাইল) ও একটি স্থানান্তরযোগ্য (পোর্টেবল) পর্যবেক্ষণ স্টেশন ও তিনটি স্পেকট্রাম অ্যানালাইজারের মাধ্যমে বেতার তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। রাজধানীতে বিটিআরসির প্রধান কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে মূল কেন্দ্রীয় স্টেশনটি। আর বাকি পাঁচটি স্থায়ী স্টেশন স্থাপন করা হয়েছে চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বগুড়া ও রংপুরে।

এছাড়া প্রয়োজন অনুযায়ী দেশব্যাপী তরঙ্গ পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করা হয় ভ্রাম্যমাণ পাঁচটি পর্যবেক্ষণ স্টেশন। মূলত স্থায়ী স্টেশনগুলোর আওতার বাইরে থাকা এলাকার পর্যবেক্ষণকাজে ভ্রাম্যমাণ স্টেশনগুলো ব্যবহার করছে কমিশন। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মাধ্যমে ২০ কিলোহার্টজ থেকে ৩ গিগাহার্টজ পর্যন্ত তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ ও এর উত্স শনাক্ত করা যায়। স্পেকট্রাম অ্যানালাইজারের মাধ্যমে ৯ কিলোহার্টজ থেকে ২৬ দশমিক ৫ গিগাহার্টজ পর্যন্ত তরঙ্গ পর্যবেক্ষণ সম্ভব। এছাড়া অন্য স্টেশনগুলোর মাধ্যমে ২০ মেগাহার্টজ থেকে ৩ গিগাহার্টজ পর্যন্ত তরঙ্গ শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করতে পারে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এদিকে পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বিদ্যমান স্টেশনগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন আরো স্থায়ী পর্যবেক্ষণ স্টেশন স্থাপনেরও পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের। প্রাথমিকভাবে বরিশাল, কক্সবাজার ও রাজশাহীতে নতুন তিনটি স্টেশন স্থাপনের সুপারিশ করেছে কমিশনের তরঙ্গ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। এছাড়া দুটি ভ্রাম্যমাণ এবং ঢাকা ও চট্টগ্রামের স্থায়ী স্টেশনের সক্ষমতা বাড়ানোরও সুপারিশ করেছে বিভাগটি। নতুন তিনটি স্টেশন সংগ্রহে প্রায় ১২ লাখ ৮৩ হাজার এবং দুটি স্থায়ী ও দুটি ভ্রাম্যমাণ স্টেশনের সক্ষমতা বাড়াতে প্রায় ৯ লাখ ৫৪ হাজার ডলার ব্যয় হতে পারে।

এ খাত থেকে আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশই আসছে তরঙ্গ বরাদ্দ ফি ও তরঙ্গের বার্ষিক চার্জ বাবদ। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫-০৬ থেকে ২০১১-১২ অর্থবছর পর্যন্ত তরঙ্গ ফি বাবদ নিয়ন্ত্রক সংস্থার আয় হয়েছে ৫ হজার ৬৮৪ কোটি টাকা। ২০১২-১৩ অর্থবছর এ খাত থেকে ২ হাজার ৪৯৮ ও ২০১৩-১৪ অর্থবছর থ্রিজির তরঙ্গ বরাদ্দ বাবদ চার সেলফোন অপারেটরের কাছ থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮২ কোটি টাকা আয় হয়েছে। আর ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তরঙ্গ বাবদ বিটিআরসি আয় করেছে ৪০৯ কোটি টাকা।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর