চার দেশীয় ট্রেন চলাচল চুক্তির প্রস্তাব ভারতের
চার দেশীয় ট্রেন চলাচল চুক্তির প্রস্তাব ভারতের
২০১৬-০৫-১০ ০২:৫৫:১৬
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত ও নেপালের (বিবিআইএন) মধ্যে সড়কপথে মোটরযান চলাচলে চুক্তি সই হয়েছে গত বছরের জুনে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে চলতি বছর জানুয়ারিতে চার দেশীয় মোটরযান চলাচল শুরুর কথা থাকলেও নানা জটিলতায় তা পিছিয়ে গেছে। তাই এবার চার দেশীয় ট্রেন চলাচল চুক্তি করতে চায় ভারত। এর আওতায় চার দেশের মধ্যে যাত্রী ও পণ্যবাহী উভয় ধরনের ট্রেন চলাচল করবে।

চার দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচলে বিবিআইএন রেল চুক্তির খসড়া এরই মধ্যে প্রণয়ন করেছে ভারত। এ ব্যাপারে মতামত চেয়ে বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানে চিঠিও দিয়েছে দেশটি।

গত ২৫ এপ্রিল ভারতীয় হাইকমিশন থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, উপআঞ্চলিক সহযোগিতা ও বিবিআইএন অঞ্চলে কানেক্টিভিটি বাড়াতে গত জানুয়ারিতে ঢাকায় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক হয়। সেখানে সার্ক রেল চুক্তির আদলে বিবিআইএন রেল চুক্তির বিষয়টি উঠে আসে। এর ভিত্তিতে হাইকমিশনের পক্ষ থেকে চুক্তির খসড়া পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে বলে প্রত্যাশা করেছে ভারতীয় হাইকমিশন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ এপ্রিল চুক্তির খসড়াটি বাংলাদেশ রেলওয়েতে পাঠায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

চুক্তির খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়াতে চার দেশের মধ্যে রেলসংযোগ জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে পণ্য ও যাত্রী চলাচল বাড়ছে। বিষয়টি বিবেচনা করে পণ্য পরিবহন ও পর্যটনের জন্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। এতে বিবিআইএনভুক্ত চার দেশের মধ্যে বাধাহীনভাবে ট্রেনে পণ্য ও যাত্রী পরিবহন করা যাবে।

চুক্তির শর্তে বলা হয়, সীমান্ত এলাকার বিদ্যমান, নির্মাণাধীন বা প্রস্তাবিত রেলপথ, বর্ডার চেঞ্জিং পয়েন্ট, গেজ ইন্টারচেঞ্জ স্টেশন, ফেরি ইন্টারচেঞ্জ পয়েন্ট বা রেলসংযুক্ত কনটেইনার টার্মিনাল আন্তর্জাতিক পরিবহনের জন্য ব্যবহার করা যাবে। এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুযোগ থাকতে হবে। তবে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় কোনো রেল চুক্তির সঙ্গে বিবিআইএন চুক্তি সাংঘর্ষিক হবে না।

যাত্রীবাহী ট্রেন চালানোর ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সময়ের সমন্বয়, রেক (যাত্রীবাহী বগির সেট) সংযোগ বা শেয়ার, রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা, চার্জ ইত্যাদি পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। চুক্তিবদ্ধ দেশগুলো ট্রানজিট পয়েন্টে কাস্টম, ইমিগ্রেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করবে।

একইভাবে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলেও সময়, চার্জসহ বিভিন্ন শর্ত পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে। এক্ষেত্রে আদর্শ মানের ওয়াগন ব্যবহার করতে হবে। পণ্যমানের কারিগরি পরীক্ষায়ও একটি সমঝোতাভিত্তিক ব্যবস্থা চালু করা হবে। তবে প্রতিটি দেশ নিজস্ব ভূখণ্ডে নিরাপত্তা ও অন্যান্য সাধারণ সুবিধা নিশ্চিত করবে।

বিবিআইএনের আওতায় চার দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচলের জন্য প্রাথমিকভাবে নয়টি রুট চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ-ভারত রুট রয়েছে চারটি। প্রথমটি হলো ভারতের দিল্লি থেকে কলকাতা হয়ে গেঁদে/পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়ে দর্শনা/বেনাপোল হয়ে ঢাকা, আখাউড়া/গঙ্গাসাগর দিয়ে ভারতের আগরতলা পর্যন্ত। দ্বিতীয় রুটটি দিল্লি থেকে কলকাতা, পেট্রাপোল-বেনাপোল, ঢাকা হয়ে মৌলভীবাজারের শাহবাজপুর দিয়ে ভারতের মহিশাসন, ইম্ফল পর্যন্ত। তৃতীয় রুটটি ভারতের দিল্লি থেকে কলকাতা হয়ে বাংলাদেশের খুলনা দিয়ে মংলা বন্দর পর্যন্ত। আর চতুর্থ রুটটি ভারতের ইম্ফল থেকে আগরতলা হয়ে আখাউড়া দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত।

এর বাইরে বাংলাদেশ-ভারত-নেপাল রুট হবে তিনটি। প্রথমটি নেপালের বীরগঞ্জ থেকে ভারতের রেক্সল-সিঙ্গাবাদ হয়ে বাংলাদেশের রোহনপুর দিয়ে মংলা বা চট্টগ্রাম বন্দর পর্যন্ত। দ্বিতীয় রুটটি নেপালের বিরাটনগর থেকে ভারতের জাইগাঁও, রাধিকাপুর হয়ে বাংলাদেশের বিরল দিয়ে খুলনা হয়ে মংলা বন্দর পর্যন্ত। আর তৃতীয় রুটটি হচ্ছে নেপালের বারিবাস, ইনারওয়া হয়ে ভারতের জয়নগর, রাধিকাপুর দিয়ে বাংলাদেশের বিরল ও খুলনা হয়ে মংলা বন্দর পর্যন্ত।

এছাড়া মংলা বা চট্টগ্রাম বন্দর থেকে চিলাহাটি হয়ে ভারতের হলিদাবাড়ি, হাশিমারা দিয়ে ভুটান যুক্ত হবে বিবিআইএনে। আর ভারতের হলদিয়া, কলকাতা, রেক্সল দিয়ে নেপাল যাবে ট্রেন।

বিবিআইএনের আওতায় চার দেশ ভ্রমণে এক বছরের জন্য মাল্টিপল ভিসা অনুমোদন করা হবে। আর কাস্টম ও ইমিগ্রেশনের ব্যবস্থা করা হবে প্রতিটি দেশে প্রবেশ বা প্রস্থান পয়েন্টে।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আমজাদ হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, সার্কের আওতায় ট্রেন চলাচলে ২০১৩ সালে চুক্তির প্রস্তাব করেছিল ভারত। তবে পাকিস্তানের আপত্তিতে তা আটকে যায়। তাই প্রাথমিকভাবে চার দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচলে চুক্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরবর্তীতে পাকিস্তান, আফগানিস্তান এতে যুক্ত হতে পারবে।

তিনি আরো বলেন, চুক্তির বিভিন্ন দিক যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই এ বিষয়ে মন্তব্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতে পাঠানো হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিদেশ এর অারো খবর