উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উৎপাদন ‘ডিফিকাল্ট চয়েস’ : অর্থমন্ত্রী
উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উৎপাদন ‘ডিফিকাল্ট চয়েস’ : অর্থমন্ত্রী
২০১৬-০৫-১০ ০২:১২:০৭
প্রিন্টঅ-অ+


বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উৎপাদনকে ‘ডিফিকাল্ট চয়েস’ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

সোমবার সচিবালয়ে ‘ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (ডিসিসিআই)-এর সঙ্গে এক প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় ডিসিসিআই নেতারা বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নে গুরুত্বারোপ করলে এর জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুতের ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থা এখনো দুর্বল। কিন্তু কয়লার ক্ষেত্রে আমাদের চ্যালেঞ্জটা কী?’

এ সময় ডিসিসিআই নেতারা বিদ্যুৎকেন্দ্রে আমদানিকৃত কয়লার পরিবর্তে দেশীয় কয়লা ব্যবহারের সুপারিশ করেন।

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ফুলবাড়িতে মাইনিং করে কয়লা উৎপাদনের জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু এটা ভেরি ডিফিকাল্ট চয়েস। আর কিছু না হোক, এখান থেকে বহু লোক স্থানান্তরিত করতে হবে। তারচেয়ে প্রধানমন্ত্রী কয়লা আমদানির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেটাই ভালো।

প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরও বলেন, আমাদের এখন গ্যাস মার্কেটের দিকে যেতে হবে। আগামী দুই বছরের মধ্যে (ডিসেম্বর ২০১৭ সালের পর) গ্যাসের বাজার ব্যবসায়ীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে জানিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে মুহিত বলেন, আপনারা এখন থেকেই এ ব্যাপারে পরিকল্পনা শুরু করতে পারেন।

বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সবচেয়ে প্রধান কর্তব্য হচ্ছে দারিদ্র্য দূরীকরণ। ১৯৭২-৭৩ সালে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত। ৪০ বছরে এটা ২২ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে এসেছে। কিন্তু এখনো দেশের এক-পঞ্চমাংশ লোক দরিদ্র। দেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হলে অনেক সময় এদিকে নজর দেওয়া হয় না। কিন্তু দারিদ্র্য বিমোচনের দিকে আমাদের নজর রাখতে হবে।

প্রাক-বাজেট আলোচনায় ডিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে সংগঠনের প্রস্তাবসমূহ তুলে ধরেন সংগঠনের সভাপতি হোসেন খালেদ। সংগঠনের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি হুমায়ুন রশিদ, সহ-সভাপতি খ. আতিক-ই-রাব্বানী, এফসিএ, পরিচালক এ কে ডি খায়ের মোহাম্মদ খান, কামরুল ইসলাম, এফসিএ, মামুন আকবর, মোক্তার হোসেন চৌধুরী, ওসমান গনি, রিয়াদ হোসেন, সেলিম আকতার খান, ডিসিসিআই মহাসচিব এ এইচ এম রেজাউল কবির প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ডিসিসিআইয়ের বাজেট প্রস্তাবে আয়কর আইন ও বিধি সংক্রান্ত ১৫টি, আয়কর হার পরিবর্তন সংক্রান্ত ১৫টি, আমদানি ও সম্পূরক শুল্ক নীতি আইন বিধি সংক্রান্ত ৮টি, আমাদনি ও সম্পূরক শুল্ক হার পরিবর্তন সংকান্ত ৪৮টি, মূল্য সংযোজন কর নীতি, আইন ও বিধি সংক্রান্ত ৩টি এবং মূল্য সংযোজন কর হার পরিবর্তন সংক্রান্ত ৩টি প্রস্তাব রয়েছে।

এর মধ্যে আবাসন খাতসহ উৎপাদনমুখী খাতে শর্তসাপেক্ষে অপ্রকাশিত আয় বিনিয়োগের সুযোগ; ব্যক্তি শ্রেণীর করদাতার করমুক্ত আয়ের সীমা আড়াই লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৩ লাখ টাকা নির্ধারণ; পুঁজিবাজারে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত লভ্যাংশ আয়করমুক্ত ঘোষণা; প্যাকেজ ভ্যাট চালু রাখা; নতুন গাড়ি আমদানি উৎসাহিত করা; জ্বালানি তেলের মূল্য আরও কমানো ও গ্যাসের মূল্য না বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর