আজ আবাহনী বনাম আবাহনী
আজ আবাহনী বনাম আবাহনী
২০১৬-০৫-০৭ ০১:৪৬:২৩
প্রিন্টঅ-অ+


অনুশীলন শুরু হতে তখনও দুই ঘণ্টা বাকি। এরই মাঝে পুরোদস্তুর ড্রেসআপ করে ক্লাব টেন্টে হাজির ইংলিশ লি টাক; যাকে কি-না অনুশীলনের সময় ছাড়া সাধারণত কখনই ক্লাবে দেখা যায় না। সেই লি টাকই গতকাল ক্লাবের রুমগুলোতে ঘুরে ঘুরে সতীর্থদের খোঁজখবর নিলেন। রাত পোহালেই আবাহনী বনাম আবাহনী (ঢাকা ও চট্টগ্রাম) শিরোপার লড়াই। বিষয়টি নাকি খুব নাড়া দিচ্ছিল আবাহনীর (ঢাকা) নতুন এ নির্ভরতার প্রতীককে। তাই আগেভাগে ক্লাবে চলে এসে দলের জুনিয়র ফুটবলারদের মধ্যেও ফাইনালের উত্তাপটা তাতিয়ে দিতে চাইলেন ইতিমধ্যে টুর্নামেন্টে তিন গোল করা এ মিডফিল্ডার। পাঁচ বছর পর কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলতে যাচ্ছে আবাহনী। শিরোপার জন্য ধানমণ্ডিবাসী কত মরিয়া? যা কি-না ঢাকায় পা রেখেই বুঝে গেছেন ইংলিশ লি।

হালের প্রতাপশালী শেখ জামালকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে ফাইনালে নাম লেখানো আবাহনীর খাঁখাঁ করা শোকেসে একটি ট্রফিই হতে পারে প্রচণ্ড খরতাপে বৃষ্টির পরশ। তা ক্লাবের লাল দেয়ালের দিকে তাকালেও বোঝা যায়। শেষ ২০১১ সালে ফেডারেশন কাপ ও স্বাধীনতা কাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আকাশি-হলুদরা, মাঝে একটি লীগ শিরোপা ছাড়া ভাণ্ডারে আর কিছু জমা পড়েনি। ট্রফির পরিসংখ্যানই বুঝিয়ে দিচ্ছে কতটা ক্ষুধার্ত আবাহনী তাঁবু। আমাদের দল অনেক বছর ধরেই কোনো সাফল্য পায় না। মৌসুম শুরুর টুর্নামেন্টেই যখন ফাইনালে উঠেছি, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগটা কাজে লাগাতে চাই আমরা। প্রতিটি প্লেয়ারই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য অনেক কষ্ট করছে_ বলেন অধিনায়ক আরিফুল ইসলাম। এ বছরই প্রথমবারের মতো পেশাদার ফুটবলে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন আরিফুল। অধিনায়কত্ব-যুগের সূচনাটা ট্রফি জয়েই স্মরণীয় করে রাখতে চান এ স্টপারব্যাক। ভারপ্রাপ্ত কোচ অমলেশ সেনও যেন নির্ভার, শেষ দুটি ম্যাচ যেভাবে খেলেছি, সেই খেলা ধরে রাখতে পারলে আমরা চ্যাম্পিয়ন হবো।

ফাইনাল নিয়ে ঢাকা আবাহনী যেমন নির্ভার, ঠিক ততটাই রোমাঞ্চের ভেলায় ভাসছে চট্টগ্রাম আবাহনী। টাইব্রেকার নামক ভাগ্যের খেলায় উইঙ্গার জাহিদ ও গোলরক্ষক রানার হাত ধরে শেখ রাসেলকে টপকে ফাইনালে নাম লেখানোর রোমাঞ্চের উচ্ছ্বাসটা যে এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। তবে এবার আর টাইব্রেকারের উত্তপ্ত কড়াইয়ে পা দিতে চায় না শেখ কামাল ক্লাব কাপজয়ী দলটি, ৯০ মিনিটেই রেজাল্ট চাই, টাইব্রেকার পর্যন্ত যেতে চাই না_ বলেন অধিনায়ক জাহিদ হোসেন। প্রতিপক্ষ অধিনায়ক বন্ধু আরিফুলের মতো জাহিদেরও প্রথম অধিনায়কত্বের স্বাদ। দুই বন্ধুর মধ্যে কে যে হাসে শেষ হাসি, তার জন্যই যত অপেক্ষা?

দুই দলের মধ্যে শেষ লড়াইয়ে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত শেখ কামাল টুর্নামেন্টে ঢাকা আবাহনীকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল স্বাগতিক আবাহনী। কিন্তু স্বাধীনতা কাপ টুর্নামেন্টের ফ্ল্যাশব্যাকে চোখ রাখলেই মনে হতে বাধ্য, দিনটি হতে যাচ্ছে ঢাকা আবাহনীর আক্রমণভাগের বিপক্ষে চট্টগ্রাম আবাহনীর রক্ষণভাগের লড়াই। লি টাক-সানডে চিজোবা-কামারা সারবা ত্রিফলা যে ছন্দে আছে, রেজাউল-সৈকতদের জন্য এই ত্রয়ীকে আটকানোটাই যে বড় চ্যালেঞ্জ। টুর্নামেন্টে মোট ১১ গোল করা ঢাকার এ তিন বিদেশিকে আটকাতে নিজের রক্ষণভাগের সঙ্গে মিডফিল্ডার তারিক আল জানাবিকেই খাটতে হবে দাঁতে দাঁত চেপে। চট্টগ্রাম শিবিরে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এই ছকেই এগোচ্ছে তারা। অন্যদিকে ঢাকার দলটির রক্ষণভাগে আরিফ ও তপুর মাঝে যে যে ফাঁকফোকর ছিল, তা তো ক্রোয়েশিয়ান কোচ ড্রাগো মামিচ ঢাকায় পা রেখেই হোল্ডিং মিডফিল্ডে ফয়সাল মাহমুদকে জুড়ে দিয়ে সেরে ফেলেছেন। স্ত্রীর অসুস্থতার জন্য দেশে ফিরে গেলেও ফাইনালের ডাগ আউটে শেষ পর্যন্ত নাকি দেখা যেতেও পারে এ ক্রোয়েশিয়ানকে। তাই যদি হয়, আজ হতে যাচ্ছে ঢাকার মাঠে নতুন দুই বিদেশি কোচের মস্তিষ্কের লড়াই।

নতুন মৌসুমে বড় দলের তকমা গায়ে লাগিয়েই প্রথমবারের মতো ঘরোয়া ফুটবলের বড় কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে চট্টগ্রাম আবাহনী। একটি শিরোপাই হতে পারে পুরো মৌসুমের জ্বালানি, বিষয়টি সামনে এনেই শিষ্যদের তাতিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন চট্টগ্রাম কোচ জোসেফ পাবলিক।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ক্রীড়া এর অারো খবর