সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল বগুড়ার ঐতিহাসিক নবাববাড়ি
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে রক্ষা পেল বগুড়ার ঐতিহাসিক নবাববাড়ি
২০১৬-০৫-০৬ ১২:০৬:২৮
প্রিন্টঅ-অ+


সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপে বিক্রি হয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহি নবাববাড়ি (নবাব প্যালেস) অবশেষে রক্ষা পেল। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীরর স্মৃতি বিজরিত বাড়িটি ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্বিক গুরুত্ব থাকায় সরকার বাড়িটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব ছানিয়া আক্তার স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি বৃহস্পতিবার বগুড়া জেলা প্রশাসকের কাছে পৌছেছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী নবাব বাড়ির (পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী সৈয়দ মোহাম্মদ আলী চৌধুরীরর স্মৃতি বিজরিত বাড়ি) ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্বিক গুরুত্ব থাকায় ১৯৬৮ সালের পুরাকীর্তি আইন (১৯৭৬ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী পুরাকীর্তি হিসেবে সংরক্ষণ যোগ্য বিবেচিত হওয়ায় সরকার উল্লেখিত বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী নবাব বাড়িটি সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ লক্ষে বর্নিত পুরাকীর্তিটি সংরক্ষণ বিজ্ঞপ্তি জারী ও পরবর্তী গেজেটে তা প্রকাশের প্রয়োজনিয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্টদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বগুড়ার ঐতিহ্যবাহি নবাববাড়ি (নবাব প্যালেস) কিনতে একটি মহল দীর্ঘদিন যাবৎ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছিল। এ অবস্থায় বগুড়ার সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ আন্দোলন শুরু করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা রক্ষা হয়নি। বগুড়ার তিনজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ১ একর ৫৫ শতক জমি ও স্থাপনা কিনে নেন ২৭ কোটি ৪৫ লাখ ৭ হাজার টাকায়। আর এই সম্পত্তি বিক্রি করেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধান মন্ত্রী মোহাম্মাদ আলীর দুই ছেলে সৈয়দ হামদে আলী চৌধুরী ও সৈয়দ হাম্মাদ আলী চৌধুরী। বগুড়া সদর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে গত ১৭ এপ্রিল নবাববাড়ি বিক্রির দলিল সম্পাদন হয়। এর পর দিন থেকেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নবাববাড়ি বিক্রির সংবাদ প্রকাশ হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠন নতুন করে আন্দোলন শুরু করে। তারা নবাববাড়িটি সংরক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেন। এরপর পরই নবাববাড়িটি সরকারিভাবে সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

উল্লেখ্য,বগুড়া শহরের সূত্রাপুর মৌজার ১৭০৮ নং দাগে অবস্থিত নবাবাড়ির মোট সম্পত্তির পরিমাণ তিন একর ৭৫ শতক বা প্রায় ১০ বিঘা। এর বেশির ভাগ সম্পত্তি অনেক আগেই বিক্রি হয়ে গেছে। এই সম্পত্তির উপর ক্রেতারা গড়ে তুলেছেন আল আমিন কমপ্লেক্স, টিএমএসএস মহিলা মার্কেট, শরীফ উদ্দিন সুপার মার্কেট ও বহুতল বাণিজ্যিক ভবন রানার প্লাজা।

সর্বশেষ এক একর ৫৫ শতক জমির উপর ছিল মরহুম মোহাম্মাদ আলী ও তার স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের কবরসহ নবাববাড়ী। ১৮৮৪ সালে নবাব বাড়িটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সরকারি মূল্য হিসেবে স্থাপনা সহ এই বাড়ি বিক্রি হয়েছিল ২৭ কোটি ৪৫ লাখ ৭ হাজার টাকায়। এটা কিনেছিলেন যৌথভাবে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মমতাজ উদ্দিনের ছেলে ও বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মাছুদুর রহমান মিলন, ব্যবসায়ী শফিকুল হাসান জুয়েল ও আলহাজ্ব আব্দুল গফুর। গত ১৫ এপ্রিল বিক্রেতা মরহুম মোহাম্মাদ আলীর দুই ছেলে সৈয়দ হামদে আলী চৌধুরী ও সৈয়দ হাম্মাদ আলী চৌধুরী দলিলে স্বাক্ষর করেছেন এবং ১৭ এপ্রিল দলিল রেজিস্ট্রি (দলিল নং -৪৩১৮ ) সম্পাদন হয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর