চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ১৫ মে পর্যন্ত সময় পেল সরকার
চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ১৫ মে পর্যন্ত সময় পেল সরকার
২০১৬-০৫-০৪ ০২:৪৬:৪৮
প্রিন্টঅ-অ+


দেশের দুই সেলফোন অপারেটর রবি আজিয়াটা ও এয়ারটেল বাংলাদেশের একীভূতকরণ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে ১৫ মে পর্যন্ত সময় পেয়েছে সরকার। সরকারের পক্ষ থেকে সময় বাড়ানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন আদালত।

দুই সেলফোন অপারেটর কোম্পানির একীভূতকরণের বিষয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল ২ মে। এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হলে সরকার আরো এক মাস সময় চেয়ে আবেদন করে। কিন্তু শুনানির পর আদালত আগামী ১৫ মের মধ্যে মূল্যায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে সরকারকে নির্দেশ দেন।

বিটিআরসির আইনজীবী ব্যারিস্টার রেজা-ই রাকিব বলেন, আদালতের কাছে চার সপ্তাহ বা এক মাস সময় চেয়েছিল সরকার। তবে শুনানি শেষে ১৫ তারিখ পর্যন্ত সময় দিয়েছেন আদালত।

প্রতিষ্ঠান দুটির একীভূতকরণের সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে জানতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি জনমত যাচাইয়ের জন্য গণশুনানির আয়োজন করে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি। গণশুনানিতে একীভূতকরণ প্রস্তাবের বিষয়ে গ্রাহকস্বার্থ, বাজার প্রতিযোগিতা, কর্মীদের চাকরির নিশ্চয়তা ও তরঙ্গের সুষ্ঠু ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া একীভূতকরণের ফলে আর্থসামাজিক ও কারিগরি প্রভাব যাচাইয়ের জন্য পৃথক দুটি সমীক্ষাও করে বিটিআরসি। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের (এআইইউবি) অধ্যাপক ড. এবিএম সিদ্দিক হোসেন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক ব্যবসায় বিভাগের অধ্যাপক ড. এসএম মাহফুজুর রহমানের নেতৃত্বাধীন দুটি দল যথাক্রমে কারিগরি বিষয় ও আর্থসামাজিক প্রভাব মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করে। এ দুটি সমীক্ষার প্রতিবেদন ও গণশুনানি থেকে পাওয়া মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠায় বিটিআরসি। এর পর নিজেদের সুপারিশসহ প্রতিবেদনটি অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম একীভূত করার সম্ভাবনার বিষয়ে গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর আলোচনা শুরু করে প্রতিষ্ঠান দুটি। একীভূতকরণের প্রক্রিয়া সম্পন্নের উদ্দেশ্যে অনুমতি চেয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির কাছে আবেদন করে রবি আজিয়াটা ও এয়ারটেল বাংলাদেশ। ওই চিঠির অনুলিপি দেয়া হয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের প্রতিমন্ত্রী ও সচিবকে। পরে চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি একীভূতকরণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তির ঘোষণা দেয় কোম্পানি দুটির মূল প্রতিষ্ঠান আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ (আজিয়াটা) ও ভারতী এয়ারটেল লিমিটেড (ভারতী)।

ঘোষণায় জানানো হয়, প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে একীভূত প্রতিষ্ঠানটির ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ শেয়ার নিয়ন্ত্রণ করবে আজিয়াটা। অন্যদিকে ভারতী ২৫ শতাংশ ও বাকি ৬ দশমিক ৭ শতাংশ শেয়ার থাকবে জাপানের এনটিটি ডকোমোর কাছে।

রবি ও এয়ারটেলকে টুজি ও থ্রিজি লাইসেন্সের আওতায় বিভিন্ন ব্যান্ডে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মোট ৩৯ দশমিক ৮ মেগাহার্টজ তরঙ্গ। এর মধ্যে টুজির তরঙ্গ হিসেবে ৯০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে রবিকে ৭ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ ও এয়ারটেলকে ৫ মেগাহার্টজ তরঙ্গ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ১৮০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে রবিকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৭ দশমিক ৪ মেগাহার্টজ ও এয়ারটেলকে দেয়া হয়েছে ১০ মেগাহার্টজ বরাদ্দ। এছাড়া থ্রিজির তরঙ্গ হিসেবে দুটি প্রতিষ্ঠানকেই ২১০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডে ৫ মেগাহার্টজ করে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

দেশের সেলফোন অপারেটরদের মধ্যে গ্রাহকসংখ্যার ভিত্তিতে রবি ও এয়ারটেলের অবস্থান যথাক্রমে তৃতীয় ও চতুর্থ। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ শেষে রবির গ্রাহকসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার ও এয়ারটেলের ১ কোটি ১ লাখ।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর