আতঙ্কের নাম ডায়াবেটিস
আতঙ্কের নাম ডায়াবেটিস
২০১৫-১১-০১ ১৩:৫৫:৫৬
প্রিন্টঅ-অ+


ডায়াবেটিসে আক্রান্ত অনেকটা কাবু লিপি বেগম। মনে হচ্ছে ৫০ বছরের বৃদ্ধা। কয়েকটি দাঁতও পড়ে গেছে তার। তিন মাস পরপর হাসপাতালে রক্ত দিতে আসতে হয় তাকে। ২৪ বছর বয়সেই এ তরুণীর শরীরে ডায়াবেটিস নামের রোগটি বাসা বাঁধে। এখন তার বয়স ৩৫। আরেক ডায়াবেটিস রোগীর স্ত্রী তাহেরা বেগম; তার স্বামী মো. হারুন ডায়াবেটিস আক্রান্ত হওয়ার পর কি ধরনের আচরণ করছে তার বর্ণনা দিতে গিয়ে বললেন, ‘বাচ্চাদের মতো আচরণ করে সে। বেশি খাবার দিলে বলে আগে মেরে ফেলতে চাচ্ছু। আর কম খাবার দিলে খুব রেগে যায়।’

রাজধানীর শাহবাগে বারডেম জেনারেল হাসপাতাল। যা মানুষের কাছে বিশেষত ‘ডায়াবেটিক হাসপাতাল’ হিসেবেই পরিচিত। খুব সকাল এখানে আসলে বহির্বিভাগে ডায়াবেটিক রোগীদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়বে। কেউবা নির্ধারিত কক্ষে ডায়াবেটিসের বই জমা দিয়ে অপেক্ষা করছেন; কখন নির্ধারিত কক্ষ থেকে ডাক্তার তাকে ডাকবেন। এদের মধ্যে কেউ এসেছেন এক মাস পর, কেউবা ১৫ দিন।

বাংলাদেশে দিন দিন ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে ডায়াবেটিস এখন মহামারী হয়ে উঠছে। সারা বিশ্বে এটি একটি আতঙ্কের নাম হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলাদেশে এই রোগীর সংখ্যা প্রায় ৮৪ লাখ। বছরে বাড়ছে আরও ১ লাখ রোগী। আগামী ২০ বছরে এ সংখ্যা পৌঁছবে ১ কোটি ২০ লাখে। বর্তমানে দেশে ডায়াবেটিস রোগীদের অর্ধেকই জানে না তারা এতে আক্রান্ত। ফলে তারা থাকছেন চিকিৎসা আওতার বাইরে। বাংলাদেশে এমন না জানার সংখ্যা ৩০ লাখ। বিশ্বে ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪০ কোটির মতো। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে বিশ্বে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে ৫০ কোটি ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করলে রোগী নিজেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সব বয়সের মানুষই আজ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিবছর দ্বিগুণ হারে বাড়ছে নতুন নতুন ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা। সচেতনতার অভাবে অনেকেই এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমানে সারা বিশ্বে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দশমে। নানা কর্মসূচি অব্যাহত রাখার পরও দেশের ৮৪ লাখ ডায়াবেটিক রোগীর মাত্র ২৫ ভাগকে স্বাস্থসেবার আওতায় আনতে পেরেছে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি। প্রতি বছর ১৪ই নভেম্বর বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস পালন করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ডায়াবেটিস এমন এক রোগ, স্বাস্থ্যশিক্ষাই যার প্রধান চিকিৎসা। অসচেতনতার কারণে ডায়াবেটিসজনিত জটিলতায় প্রতিবছর মৃত্যুরণ করছে অসংখ্য মানুষ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফ উদ্দিন বলেন, অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে জীবনযাপন পদ্ধতি ও খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপক পরিবর্তনের কারণে ডায়াবেটিস মহামারী আকার ধারণ করছে। ডায়াবেটিস যে হারে বাড়ছে তাতে আমাদের এখনই এ রোগ প্রতিরোধে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে। আর যারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত তাদের সচেতন করে তুলতে হবে, যাতে তারা ডায়াবেটিসকে সুনিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ, স্বাভাবিক ও কর্মঠ জীবন নিশ্চিত করতে পারে। ঘন ঘন ডায়াবেটিস পরীক্ষা করাতে হবে। এক পর্যায়ে পৌঁছলে অনেক জটিল রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে ডায়াবেটিস। তিনি জানান, সারা দুনিয়ার অর্ধেক রোগী জানে না তার ডায়াবেটিস হয়েছে। বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস) ডায়াবেটিস প্রতিরোধে ২০০৮ সালে একটি নীতিমালা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছিল। কিন্তু এখনও পর্যন্ত অনুমোদন হয়নি বলে তিনি জানান।

বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি (বাডাস) সূত্র জানায়, টাইপ-২ ডায়াবেটিস শতকরা ৭০ ভাগেরও বেশি প্রতিরোধযোগ্য। প্রাথমিকভাবে ডায়াবেটিস প্রতিরোধের লক্ষ্যে বাডাস কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সমপ্রতি বাডাস কর্পোরেটভিত্তিক ডায়াবেটিস প্রতিরোধ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এ কর্মসূচির অধীনে বিভিন্ন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে স্বল্পমূল্যে ডায়াবেটিস নির্ণয় ও প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যশিক্ষা দেয়া হবে। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে জাতীয় নীতিমালার একটি খসড়া তৈরি করে তা সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এতে যেসব বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে- ফাস্টফুড ও কোমল পানীয়ের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। পাঠ্যপুস্তকে যাতে প্রতিটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত হয় সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ নেয়া উচিত। স্কুল-কলেজে খোলা মাঠ রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এককভাবে না পারলেও কয়েকটি স্কুল বা কলেজ সম্মিলিতভাবে একটি খেলার মাঠের ব্যবস্থা করে সে ব্যাপারে বাধ্যবাধকতা আরোপ করা যেতে পারে। টিভি-রেডিও-সংবাদপত্রে সচেতনতামূলক বিজ্ঞাপন বা স্লোগান প্রচারের ব্যবস্থা করা। এলাকাভিত্তিক ওয়াকিং ক্লাব, সুইমিং ক্লাব ইত্যাদি গড়ে তোলা। গৃহায়ন কর্মসূচির অনুমতি দেয়ার সময় হাঁটাচলার জন্য পর্যাপ্ত রাস্তা ও খেলাধুলার জন্য কিছুটা জায়গা রাখার বিধান রাখা যেতে পারে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে স্বাস্থ্যশিক্ষার ব্যবস্থা রাখতে হবে। বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে (যেমন: মসজিদে খুতবার সময়) ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও সুস্বাস্থ্য রক্ষা সংক্রান্ত সচেতনতামূলক বক্তৃতা করার ব্যাপারে ধর্মীয় নেতাদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

শুধু উন্নত বিশ্বেই নয়, উন্নয়নশীল এবং অনুন্নত বিশ্বেও ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, শহরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গ্রামেও বাড়ছে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা। বর্তমানে শহরে ১০ ভাগ মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। অন্যদিকে গ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা ৮ ভাগ। আরও ১০ শতাংশ লোক ডায়াবেটিস হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

তারা জানিয়েছেন, এটি প্রতিরোধে এখনই জনসচেতনতা তৈরি করতে হবে। তা না হলে কিছুদিনের মধ্যে এ রোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এমনই তথ্য জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) এন্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস ও হরমোন) বিভাগ। প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান বিশ্বে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা প্রায় ৪০ কোটি। ২০৩০ সালে এই সংখ্যা ছাড়িয়ে যাবে ৫০ কোটিতে। বাংলাদেশে আশির দশকে ডায়াবেটিক রোগী সংখ্যা ছিল যেখানে মাত্র ২ শতাংশ এটি এখন শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় ১০ শতাংশ ছুঁয়েছে এবং গ্রামাঞ্চলে ৮ শতাংশ। এছাড়াও প্রি-ডায়াবেটিস (ডায়াবেটিস-এর আগের ধাপ)-এর হার আরও প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ বিএসএমএমইউর এন্ডোক্রাইনোলজি (ডায়াবেটিস ও হরমোন) বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে আশির দশকে যেখানে মোট ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ২ শতাংশ, সেখানে এখন গ্রামাঞ্চলেও ডায়াবেটিসের সামগ্রিক প্রবণতা ৮ শতাংশের মতো। এভাবে ক্রমশ ডায়াবেটিস বাড়তে থাকলে শুধু ডায়াবেটিসের কারণেই দেশের অর্থনৈতিক ভারসাম্য হবে মারাত্মক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। তাছাড়া, ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যার কারণে দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেয়ে হার্ট অ্যাটাক, কিডনি ফেইলিউর, অন্ধ হয়ে যাওয়া, পায়ে পচন, এমনকি পা কেটে ফেলা পর্যন্ত লাগতে পারে। এত বড় বৈশ্বিক এই স্বাস্থ্য সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ বা প্রতিরোধে দরকার জনসচেতনতা এবং জনসম্পৃক্ততা। সময়মতো ইন্টারভেনশন (খাদ্যাভ্যাস, জীবনযাত্রার পরিবর্তন), নিয়মিত হাঁটার মাধ্যমে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ডায়াবেটিস প্রতিরোধ সম্ভব বলে জানান তিনি।

ডা. ফরিদ উদ্দিন বলেন, এই রোগ দ্রুতগতি বাড়ছে। দেশের ভয়াবহ পরিস্থিতি ডেকে নিয়ে আনতে পারে। এখনই সময় প্রতিরোধ করা। প্রি-ডায়াবেটিস অবস্থায় একে ধরতে পারলে বিনা চিকিৎসায় কমানো যাবে। ডায়াবেটিসের সঙ্গে লাইফ স্টাইল জড়িত। পরিকল্পনাকারীদের সতর্ক হওয়া জরুরি। নতুনভাবে স্কুল তৈরির সময়ে স্কুলে খেলার মাঠ রাখতে হবে। ১০ থেকে ১২ শতাংশ বাচ্চা মোটা হচ্ছে। তারা ফাস্টফুড খায়। কায়িক পরিশ্রম করে ব্যালেন্স ডায়টের প্রতি উৎসাহী করতে হবে।

তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে দেশে গর্ভবতী ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যা শতকার ২০ থেকে ৩০ শতাংশ। এই সংখ্যা ২০ বছর আগে ৫ থেকে ১০ শতাংশ ছিল। এটা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। ইউরোপীয়দের তুলনায় জন্মগতভাবে এশিয়ার মানুষের ডায়াবেটিস বেশি হয় বলে অধ্যাপক ফরিদ উল্লেখ করেন।

আগামী ২০ বছরে ডায়াবেটিক রোগীর সংখ্যা পৌঁছবে ১ কোটি ২০ লাখে। বাংলাদেশে প্রায় ৩০ লাখ লোকই জানেনা তারা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। সমপ্রতি এমনই তথ্য দিয়েছে বেসরকারি সংস্থা হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ডা. বিলাল হোসেন বলেন, বাংলাদেশে ২০ থেকে ৬৫ বছর বয়সের লোকজন এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।

কেউস স্টাডি-এক: মানোয়ার হোসেন (মানু)। বয়স ৫৫। রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ঢালকার নগরের ৪৫/চ-এর এক নম্বর বাসায় থাকেন তিনি। ৪০ বছর বয়সে তার ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। ১৫ বছর ধরে এই রোগে ভুগছেন মানু। এখন নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হয়। বললেন, সকালে ১৬ ইউনিট আর রাতে ১২ ইউনিট। ডায়াবেটিসের ওষুধ নিয়মিত খাওয়ার পর তার একটু ভাল লাগে। ইনসুলিনের দাম ৪২০ টাকা। প্রতিদিন কমপক্ষে এক ঘণ্টা হাঁটার পরামর্শ চিকিৎসকের। তার খাওয়ার তালিকায় রয়েছে সকালে দুটি রুটি, দুপুরে ভাত, সামান্য সবজি ও রাতে দুটি রুটি। যেসব খাবার খাওয়া যাবে না তার মধ্যে রয়েছে- মাংস (গরু), মাছ, আম, মিষ্টি জাতীয় ফল। বারডেম হাসপাতালের সেবায় তিনি সন্তুষ্ট বলে উল্লেখ করেন।

কেউস স্টাডি-দুই: ‘বাচ্চাদের মতো আচরণ করে সে। বেশি খাবার দিলে বলে আগে মেরে ফেলতে চাচ্ছু। আর কম খাবার দিলে খুব রেগে যায়।’ এই কথাগুলো বলেছেন, ডায়াবেটিক রোগী মো. হারুনের স্ত্রী তাহেরা বেগম। অসুস্থ হারুন চিকিৎসকের কক্ষে বসে আছেন ডায়াবেটিসের বই নিয়ে। কক্ষের বাইরে চেয়ারে বসে স্বামীর অপেক্ষা করছেন তার স্ত্রী। এই ফাঁকে এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় তার। বলেন, তিন বছর আগে তার স্বামীর ডায়াবেটিস ধরা পড়ে। এখন তার বয়স ৬০। কাজ কর্ম করতে পারে না। আগে ছোটমোট ব্যবসা করতেন। অভাব অনটনের মধ্য দিয়ে দিন যাচ্ছে। দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন হারুনের পরিবার। এক মাস বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী দুই মাস পর হাসপাতালে আসতে হয়। ডাক্তারদের নিদের্শ অনুযায়ী মিষ্টি জাতীয় কোন খাবার খাওয়া যাবে না। এছাড়া মাটির নিচের আলু, মুলা, কচু। টক জাতীয় খাবার সামান্য খাওয়া যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এই হাসপাতাল থেকে তিনি ফ্রি সেবা পাচ্ছেন বলে হারুনের স্ত্রী জানিয়েছেন। মাত্র ইনসুলিনের জন্য ১০৫ টাকা দিতে হয় তাকে।

কেউস স্টাডি-তিন: ডায়াবেটিস রোগে অনেকটা কাবু লিপি বেগম। মনে হচ্ছে ৫০ বছরের বৃদ্ধা। কয়েকটি দাঁতও পড়ে গেছে তার। তিন মাস পর পর হাসপাতালে রক্ত দিতে আসতে হয় তাকে। ২৪ বছর বয়সেই এই তরুণীর শরীরে ডায়াবেটিস নামের রোগটি বাসা বাঁধে। এখন তার বয়স ৩৫। কেরানীগঞ্জের কোনাখোলায় তার বাড়ি। দরিদ্র পরিবারেরই লিপির বাস। তার স্বামী দর্জির কাজ করে কোন রকমে সংসার চালান। ফলে ডায়াবেটিসের ওষুধ কেনা তার পক্ষে সম্ভব হয় না। ফলে বারডেম হাসপাতালের দেয়া ফ্রি ওষুধের ওপর তার বেঁচে থাকাই মূল ভরসা। তার শরীরের বাসা বাঁধা রোগটি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অনেকাট কান্নায় ভেঙে পড়েন লিপি। বললেন, হাসপাতাল থেকে এক মাস পর পর ২১০ টাকা দিয়ে ইনসুলিন নিতে হয়। বাকি ওষুধ ফ্রি দেয় হাসপাতাল। কিছু ওষুধ দেখিয়ে তিনি বলেন, ১৫ দিনের জন্য প্রি-ভাস, ডাওমিন ও এভাস ১০ মিলি গ্রামের ওষুধগুলো ফ্রি দিয়েছে হাসপাতাল। নিয়ম মেনে খাবার খেতে হয় তাকে। মন চাইলে সব খাবার খাওয়া যায় না। অর্থাৎ রসনা সাবধান। দিনে কমপক্ষে এক ঘণ্টা হাঁটতে হয়।

বারডেম: বাংলাদেশ ডায়াবেটিক এন্ডোক্রাইন ও মেটাবলিক ডিজঅর্ডার গবেষণা ও পুনর্বাসন সংস্থা (বারডেম)। ঢাকার শাহবাগে অবস্থিত, যা বারডেম হাসপাতাল নামে পরিচিত। অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ ইব্রাহিম কর্তৃক ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এটি। এই হাসপাতাল ও সংস্থা বাংলাদেশের ডায়াবেটিক রোগীদের চিকিৎসা দেয়। এটি বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির ও প্রধান কার্যালয়। ১৫তলা বিশিষ্ট একটি বিল্ডিং। বারডেম-১ এ সিট ৫৭৩টি এবং বারডেম-২ (মহিলা ও শিশু) সিট সংখ্যা ১২৮টি। সবমিলে ৭০১টি সিট রয়েছে। এর ৩০ শতাংশ সিটের রোগীরা ফ্রি চিকিৎসা সুবিধা পান। প্রতিদিন গড়ে ২৫০০ থেকে ৩,০০০ রোগী বহিঃবিভাগ থেকে চিকিৎসা নেন। ভর্তি হন ১০০ থেকে ১২০ জন। গড়ে প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ জন মারা যান। ৫২৫ জন ডাক্তার এবং একই সংখ্যক নার্স মিলে আড়াই হাজার কর্মকর্তা, কর্মচারী রয়েছে। উইকিপিডিয়া সূত্র মতে, এটি বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ হাসপাতাল এবং এখানে সর্বাধুনিক ডায়াগনস্টিক ল্যাব আছে। ডায়াবেটিক চিকিৎসা ছাড়াও সকল ধরনের এবং জটিল ও দুরারোগ্য ব্যাধির ও চিকিৎসা এখানে হয়ে থাকে।
হাসপাতালটির উপ-পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. নাজিমুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, আধুনিক সব চিকিৎসাই হয় এখানে। নিবন্ধিত রোগীর সংখ্যা ৬৭ হাজার।
(ফরিদ উদ্দিন আহমেদ)

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বাস্থ্য এর অারো খবর