কাওরান বাজারে মার্কেটে আগুন, পুড়েছে দেড় শতাধিক দোকান
কাওরান বাজারে মার্কেটে আগুন, পুড়েছে দেড় শতাধিক দোকান
২০১৬-০৫-০২ ০২:৪৫:৫৮
প্রিন্টঅ-অ+


রাজধানীর কাওরান বাজারের হাসিনা মার্কেটে আগুন দেড় শতাধিক দোকান পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিট রাত ৯টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিভে যায়। রবিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ঘটনাস্থলে থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ তদারকি করেন।

টিনশেড দোতলা হাসিনা মার্কেটের বড় অংশ জুড়ে ছিল আদা, রসুন, পেঁয়াজ ও গুঁড়ো মরিচের পাইকারি দোকান। এছাড়া, উত্তর অংশে ছিল হলুদ-মরিচ গুঁড়া করার মিল। পাশাপাশি লেপ-তোষক ও খাবারের দোকান ছিল এই মার্কেটে।
এর আগে ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরের ডিউটি অফিসার আতাউর রহমান আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২২টি ইউনিটের কাজ করার কথা জানিয়েছিলেন। তবে প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির কোনও পরিমাণ জানাতে পারেননি তিনি।

ওই মার্কেটের দোতলায় থাকতেন একটি ওষুধ কোম্পানির কর্মচারী সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তিনিসহ কয়েকজন দৌড়ে বাইরে চলে আসেন।

মার্কেটের ৬৩ নম্বর দোকানের মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, তার দোকানে ১০ লাখ টাকার মালামাল ও কিছু নগদ টাকা ছিল। সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

মাটি স্টোরের মুদি দোকানদার দেলওয়ার হোসেন বলেন, তার দোকানে আড়াই লাখ টাকার মাল ও নগদ দেড় লাখ টাকা ছিল। সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

জানা গেছে, মার্কেটটির মূল নাম ‘উত্তর কাওরান বাজার ব্যবসায়ী জনকল্যাণ সমিতি মার্কেট’ হলেও এটি হাসিনা মার্কেট নামেই পরিচিতি। সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন জানান, এই মার্কেটে ১৮১টি দোকান রয়েছে। এর মধ্যে ১৭৮টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ইচ্ছা করেই ফায়ার সার্ভিসের লোকেরা খবর পাওয়ার পর প্রথমবার পানি নিয়ে আসেননি। তারা আগুন নেভানোর জন্যও আন্তরিক ছিলেন না। যেখানে আগুন লেগেছে, সেখানে তারা প্রথমে পানি দেননি। পাইকারি খুচরাপণ্যের বাজার হওয়ায় এখানে কয়েকশ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (অপারেশন) মোজাম্মেল হক বলেন, প্রথম পর্যায়ে পানির স্বল্পতা ছিল। সেজন্য আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লেগেছে। আগুনে দেড় শতাধিক দোকান পুড়ে ভস্ম হয়ে গেছে?। ঘটনা তদন্তে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বলেন, এখানে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, চাইলে তাদের পুনর্বাসন করা হবে। তিনটি মার্কেট প্রস্তুত আছে। সেখানে তাদের পুনর্বাসন করা হবে। পুড়ে যাওয়া মার্কেটে যেমন বৈধ দোকান আছে, তেমনি অবৈধ দোকানও আছে। আমরা ইচ্ছা করলে আগেই তাদের সরিয়ে দিতে পারতাম। কিন্তু আমরা তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছিলাম।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ঝড়ের সময় বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। আগুন নিয়ন্ত্রণের জন্য ফায়ার সার্ভিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ দেড় শতাধিক কর্মী কাজ করেন বলেও জানান তিনি।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর