ছোট্ট মেসনের গল্প
ছোট্ট মেসনের গল্প
২০১৫-১১-১৩ ০৮:৪৯:৫৪
প্রিন্টঅ-অ+


মেঝেতে উপুড় হয়ে শুয়ে রয়েছে খুদে। মনের আনন্দে মায়ের আই-ফোন ঘেঁটে চলেছে সে। আর ঠিক তার পাশেই একই রকম আধশোয়া ভঙ্গিতে বছর ছাব্বিশের এক যুবক। তিনিও বুঁদ। তবে ফোনে নয়, কাঁচিতে। আড়াই বছরের মেসনের চুল কাটতে ব্যস্ত তিনি।

সম্প্রতি এ ছবিই ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে। নীচে লেখা ছোট্ট মেসনের গল্প।

অটিজমে আক্রান্ত মেসন। এটি একটি নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল ডিসঅর্ডার। অর্থাৎ স্নায়ুর গঠনে গোলযোগ রয়েছে। তার ফলে বহির্জগতের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ে শিশুটি। এ রোগে আক্রান্ত মেসনের যখন ১৮ মাস বয়স, তখন শেষ বার তাকে চুল কাটাতে নিয়ে গিয়েছিলেন মা ডেনি ডেভিস। কানে একটা ক্লিপের খোঁচা খেয়ে খুব ভয় পেয়ে যায় মেসন। তার পর থেকে কিছুতেই আর চুল কাটাতে দিত না ছেলে। কানের কাছে কিছু আনলেই ভয়ে কাঁদতে শুরু করে দিত সে। অসুস্থ ছেলের সমস্যা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন পোর্ট ট্যালবটের বাসিন্দা ডেনি।

এমন ভাবেই চলছিল। হঠাৎই এক দিন বন্ধুমহলে জেমস উইলিয়ামসের নামটা কানে আসে ডেনির। পেশায় হেয়ার স্টাইলিস্ট বছর ছাব্বিশের যুবক নাকি বাচ্চাদের দারুণ সামলাতে পারে। ‘মেসনকেও যদি ভুলিয়ে রাজি করাতে পারেন...’, এই আশাতেই মেসনকে জেমসের কাছে নিয়ে যান মহিলা। কিন্তু এমন কিছুও যে ঘটতে পারে, কল্পনাও করতে পারেননি তিনি।

“নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না আমি। অন্য কেউ হলে মেসনকে কিছুতেই এত সময় দিত না, অন্য খদ্দেরের বিষয়েই আগ্রহ দেখাত। কারণ আখেরে তাতেই লাভ...।” —বলছিলেন ডেনি।

জেমসের কথায়, “এমন কিছুই ভাবিনি। শুধু জানতাম, বিষয়টা মোটেই সহজ নয়। ফলে শুধু একটা বিষয়েই লক্ষ রেখেছিলাম, মেসন যাতে কোনও ভাবে ভয় না পেয়ে যায়।” তাই খুদে যখন মায়ের আই-ফোন নিয়ে ব্যস্ত, সেই সময়টাকেই বেছে নিয়েছিলেন জেমস। ‘‘যখন দেখলাম ও মাটিতে শুয়ে দিব্য নিজের মনে খেলছে, আমিও বিন্দুমাত্র সময় নিইনি। আধশোয়া হয়েই চুল কাটতে শুরু করে দিই। তবে এ ভাবে এই প্রথম কারও চুল কাটলাম,’’ হাসতে হাসতে বললেন তিনি। আরও জানালেন জেমস, চুল কাটতে কাটতেই আড় চোখে তিনি দেখেছিলেন, ডেনি ও তাঁর স্বামী জেমি কী ভাবে মুগ্ধ দৃষ্টি তাকিয়ে ছিল তাঁদের দু’জনের দিকে।

তার পর? জেমসের জন্যেও একটা অপেক্ষা করছিল ‘সারপ্রাইজ’। চুপি চুপি ছেলের চুলকাটার দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করে রেখেছিলেন ডেনি। পরে সেটা তিনি দিয়ে দেন সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে। আর তাতেই একের পর এক শুভেচ্ছা বার্তা আসতে শুরু করেছে জেমসের উদ্দেশে। কেউ বাহবা দেন, কেউ বা জানান এ বার থেকে জেমসের কাছেই চুল কাটাতে যাবেন।

ছোট্ট মেসনেরও কিন্তু খুব মনে ধরেছিল জেমসকে। অন্য কোথাও গেলে ‘হাই ফাইভ’ করেই চলে আসে সে। কিন্তু ওই দিন জেমসকে জড়িয়ে ধরেছিল মেসন। দু’গালে চুমু দিয়ে গুডবাই জানিয়েছিল ‘জেমস আঙ্কল’কে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ফিচার এর অারো খবর