চেটিয়ার বদলে নুর পেল ঢাকা
চেটিয়ার বদলে নুর পেল ঢাকা
২০১৫-১১-১৩ ০৮:৩৬:৫৭
প্রিন্টঅ-অ+


নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের আসামি নুর হোসেনকে ছাড়ার শর্তেই কি আলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে হাতে পেয়েছে ভারত সরকার? এমনই ধারণা করে সংবাদ প্রকাশ করেছে আনন্দবাজার পত্রিকা।
পত্রিকাটি লিখেছে, বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, তেমন কোনও শর্ত কেউ কাউকে দেয়নি। তবে নুর হোসেনকে হাতে পেয়েছে বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু বুধবার সকালে চেটিয়া ভারতের হাতে আসার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নুর হোসেনকে বাংলাদেশ পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে।
আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, দমদম কেন্দ্রীয় সংশোধনাগার থেকে বিকেল ৫ টা ৫০ মিনিট নাগাদ নারায়ণগঞ্জ পুরসভার আওয়ামি লিগ কাউন্সিলর নুর হোসেনকে বার করে নিয়ে যান ব্যারাকপুর কমিশনারেটের পুলিশ অফিসারেরা। একটি ভাড়া গাড়িতে চাপিয়ে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সীমান্তের বেনাপোল চেকপোস্টে। বাংলাদেশ পুলিশের একটি দল দুপুর থেকেই সেখানে অপেক্ষায় ছিল।
কৈখালির ‘ইন্দ্রপ্রস্থ’ আবাসন থেকে ২০১৪ সালের ২৩ জুন দুই সহযোগী সুমন খান এবং ওবেইদুর রহমান-সহ নুরকে গ্রেফতার করে বাগুইআটি থানার পুলিশ এবং বিধাননগর কমিশনারেটের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। গ্রেফতারের পরে পুলিশ জানিয়েছিল নুরের কাছ থেকে একটি রিভলভার ও বেশ কিছু কার্তুজ মিলেছে। বেআইনি অনুপ্রবেশ ও অস্ত্র আইনে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলেও পরে জানতে পারে নুরের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের ‘রেড কর্নার’ নোটিশ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে নিজের দলেরই এক কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দনকুমার সরকার-সহ সাত জনকে খুন করিয়ে শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে জানা গিয়েছে, পুলিশের বিশেষ বাহিনী র্যারব-এর একটি দলকে ৬ কোটি টাকা দিয়ে তিনি এই খুন করান।
কূটনৈতিক সূত্রের খবর, কয়েক মাস আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ভারতের জেলে বন্দি দুই দুষ্কৃতী সুব্রত বাইন ও নুর হোসেনের বিনিময়ে তারা অনুপ চেটিয়াকে হস্তান্তরে রাজি। সুব্রত এর আগে এক বার কলকাতায় ধরা পড়ার পরে পালিয়ে নেপাল চলে যায়। পরে সেখানকার জেল থেকে পালিয়ে ভারতে এসে আবার গ্রেফতার হয়। ভারতেও তার বিরুদ্ধে বেশ কিছু ফৌজদারি মামলা চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ঢাকাকে জানিয়ে দেয়, সুব্রত বাইনকে ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। কিন্তু নুর হোসেনকে হস্তান্তরে বাধা নেই। তার পরেই চেটিয়া ও নুর হোসেনের আদানপ্রদানের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর