সিম নিবন্ধনের সময় এক মাস বেড়েছে
সিম নিবন্ধনের সময় এক মাস বেড়েছে
২০১৬-০৫-০১ ০২:৫৭:১৬
প্রিন্টঅ-অ+


আঙুলের ছাপ-বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের সময় এক মাস বাড়ানো হয়েছে। আগামী ৩১ মে রাত ১২টা পর্যন্ত সিম নিবন্ধন করা যাবে।

শনিবার বিকালে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের মতামতকে সব সময় গুরুত্ব দিয়ে এসেছে বলেই সময় বৃদ্ধি করা হল।

তিনি বলেন, যেসব সিম নিবন্ধনের চেষ্টাও করা হয়নি সেসব সিম ১ মে থেকে তিন ঘণ্টার জন্য বন্ধ থাকবে। ৩১ মে রাত ১২টার পর থেকে সব অনিবন্ধিত সিম একেবারে বন্ধ করে দেয়া হবে। তিনি এই সময়সীমার মধ্যে সব গ্রাহককে তাদের অনিবন্ধিত সিম নিবন্ধন করে নেয়ারও আহ্বান জানান।

জানা গেছে, অপরাধ জনিত কাজে সিমের ব্যবহার বন্ধের লক্ষ্যে গত ১৬ ডিসেম্বর থেকে আঙুলের ছাপ নিয়ে মোবাইল সিম পুনঃনিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু হয়, যার সময়সীমা শনিবার শেষ হওয়ার ঘোষণা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের হাতে থাকা ১৩ কোটি মোবাইল সিমের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ৮ কোটি ৩৮ লাখ বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পুনঃনিবন্ধিত হয়। এর বাইরে আঙুলের ছাপ না মেলাসহ বিভিন্ন কারণে সোয়া এক কোটি গ্রাহক সিম নিবন্ধনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলে সময়সীমা বাড়ানোর দাবি ওঠে।

সংবাদ সম্মেলনে তারানা হালিম বলেন, ৩১ মে রাত ১২টার পর কোনো সতর্ক সংকেত ছাড়া সাময়িক নয়, আমরা সম্পূর্ণভাবে সিমটি ডিঅ্যাক্টিভ করে দেব। এখনও যারা সিম নিবন্ধন করেননি, তাদের পুনঃনিবন্ধনের জন্য সতর্কবার্তাও দেয়া হবে।

তিনি জানান, ৩১ মে রাত ১২টার পর যে সিমগুলো বন্ধ হয়ে যাবে, পরবর্তী ১৫ মাসের জন্য সেগুলোর বিক্রি স্থগিত থাকবে। এটা প্রধানত করা হয়েছে, বিদেশে বসবাসরত প্রবাসী নাগরিকদের জন্য, শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের যারা কর্মরত আছে তাদের সুবিধার্থে। এই নম্বরগুলো কোথাও বিক্রি করা হবে না।

সিম নিবন্ধনে কারিগরি সমস্যার কথা স্বীকার করে প্রতিমন্ত্রী সকালে টেলিকম রিপোর্টারদের এক অনুষ্ঠানে বলেন, প্রচণ্ড গরমে কষ্ট শিকার করে যারা সিম নিবন্ধন করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই। ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়া থাকায় শুক্র ও শনিবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সিম নিবন্ধন কেন্দ্রগুলোতে ছিল গ্রাহকদের প্রচণ্ড ভিড়।

প্রতিবন্ধীদের সিম বন্ধ হবে না : বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে পুনঃনিবন্ধিত না হওয়া মোবাইল ফোন নম্বরগুলো বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা থাকলেও প্রায় ১৫ লাখ প্রতিবন্ধীর ক্ষেত্রে সেটা কার্যকর হবে না। সকালে কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে প্রতিবন্ধী নাগরিক সংগঠনের পরিষদ (পিএনএসপি) ও অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস বাংলাদেশ (এমটব) আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা জানান প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম।

আঙুলের ছাপ না থাকা ও শারীরিকভাবে অক্ষমরা সিম নিবন্ধন করতে গিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অনুষ্ঠানে তারানার কাছে অভিযোগ করা হয়। শুধু আঙুলের ছাপের পরিবর্তে আইরিশ, রেটিনা, মুখমণ্ডল, ডিএনএ, স্বাক্ষর ও হাতের তালুসহ বিভিন্ন চিহ্নিতকরণ পদ্ধতি ব্যবহার না করায় ক্ষোভও ঝরে প্রতিবন্ধীদের কণ্ঠে। তখন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হিসাবে প্রায় ১৫ লাখ প্রতিবন্ধী মানুষ আছেন। আমরা মন্ত্রণালয় থেকে তাদের তালিকা ও এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করব। সেই অনুযায়ী মোবাইল নম্বরগুলো নিয়ে সেগুলো যাতে ডিঅ্যাক্টিভেট না হয় সে ব্যবস্থা আমরা গ্রহণ করব।

বায়োমেট্রিক পয়েন্টে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হওয়ার বিষয়ে প্রতিবন্ধী মানুষদের রিটেইলারের কাছে না গিয়ে সরাসরি অপারেটরদের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে প্রতি শনিবার প্রতিবন্ধীদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেবা দেয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

সরকার ও বিটিআরসির পক্ষ থেকে স্পষ্ট নির্দেশনা থাকলেও অপারেটররা এনআইডির সঙ্গে আঙুলের ছাপ না মেলা এবং এনআইডিতে আঙুলের ছাপ না থাকা ব্যক্তিদের বিষয়ে সঠিক পদক্ষেপ না নেয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী প্রতিবন্ধীদের নিবন্ধনের সুবিধার্থে মিলনায়তনের বাইরে বসানো বুথ থেকে কাস্টমার কেয়ার ব্যবস্থাপকদের ভেতরে ডেকে পাঠান।

এ সময় তিনি তাদের কাছে জানতে চান, কারও আঙুলের ছাপ না থাকলে তার নিবন্ধন কীভাবে হবে? তখন সিটিসেলের প্রতিনিধি উত্তর দেন, যাদের আঙুলের ছাপ নেই তাদেরটা আমরা জাতীয় পরিচয়পত্র নিই, এনআইডিতে যাদের সমস্যা, তাদেরটা আমরা জন্ম নিবন্ধন কার্ড দিয়ে নিবন্ধন করে দিচ্ছি। তখন তারানা হালিম বলেন, যাদের আঙুলের ছাপ নেই তাদের বিষয়ে এনআইডি অফিসে টেলিফোনে যোগাযোগ করার কথা। ভাইবারে ছবি পাঠিয়ে সেখান থেকে কনফারমেশন পাওয়ার ব্যবস্থা নিতেও আমরা বলেছি। জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিষয়গুলো ছিল এনআইডি করেছে কিন্তু হাতে পাইনি তাদের জন্য সাময়িক ব্যবস্থা। এনআইডি হাতে পেলে তারা আবার বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করে নেবে। অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধী নাগরিকদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন পিএনএসপি মহাসচিব সালমা মাহবুব।

আমাদের চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, শেষ মুহূর্তে সিম পুনঃনিবন্ধনের জন্য চট্টগ্রামের প্রায় সব মোবাইল ফোন অপারেটরের দোকানেই ছিল উপচে পড়া ভিড়। হাজার হাজার গ্রাহক সকাল থেকে বায়োমেট্রিক পয়েন্টগুলোতে লাইন ধরে সিম নিবন্ধন করেন। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে সীমাহীন দুর্ভোগ শিকার করে গ্রাহকরা সিম পুনঃনিবন্ধন করেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর