ভুল নকশায় বেড়েছে সময় ও নির্মাণ ব্যয়
ভুল নকশায় বেড়েছে সময় ও নির্মাণ ব্যয়
২০১৬-০৪-৩০ ০৩:৩৬:৫২
প্রিন্টঅ-অ+


‘উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়কে দীর্ঘ সেতু নির্মাণ’ প্রকল্পের আওতায় ২০১০ সালে সারা দেশে ১৭১টি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। কিন্তু প্রয়োজনীয় সমীক্ষা ও ছাড়পত্র না নিয়ে নকশা প্রণয়ন করায় পরবর্তীতে এসব সেতুর নকশায় আনতে হয় পরিবর্তন। শুধু তাই নয়, দুবার সংশোধন করতে হয় পুরো প্রকল্প, বেড়ে যায় প্রকল্পের মেয়াদ। মেয়াদ বাড়ার কারণে ৬২৮ কোটি টাকার এ প্রকল্পের ব্যয় বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা।

প্রকল্পটির আওতায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ মুরাপাড়ায় শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর ৫৭৬ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণে ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে কাজ শুরু করে এলজিইডি। কিন্তু নকশায় ভুল ধরা পড়ায় মাঝে প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিল সেতুটির নির্মাণকাজ। নকশা সংশোধনের পর কাজটি আবার শুরু হয় ২০১৪ সালে, যা এখনো শেষ হয়নি।

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আকরামুল কবির বলেন, কয়েকবার নকশা পরিবর্তনের কারণে কাজটি শেষ করতে দেরি হচ্ছে। তবে সংশোধিত সময়সীমার মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন সম্ভব হবে বলে আশা করছি।

একইভাবে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ছাড়পত্র না থাকায় সাতক্ষীরার তালায় কপোতাক্ষ নদের ওপর ১২৫ মিটার দীর্ঘ সেতু এবং পরিবেশ ছাড়পত্র না নেয়ায় যশোরের অভয় নগরে ভৈরব নদীর ওপর ৭০২ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতু নির্মাণে প্রণীত নকশা সংশোধন করতে হয় এলজিইডিকে।

সাতক্ষীরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী শাহেদুর রহিম বলেন, প্রথমবার যখন সেতুটির নকশা করা হয়, তখন অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নেয়া হয়নি। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের সুপারিশ অনুযায়ী আমরা ছাড়পত্র সংগ্রহ করি। এতে প্রকল্পের কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হয়।

প্রকল্প প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে সেতু নির্মাণ প্রকল্পটির ব্যয় ২০১০ সালে নির্ধারণ করা হয় ৬২৮ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্নের কথা থাকলেও পরবর্তীতে সেতুর মোট দৈর্ঘ্য বৃদ্ধি করা হয়। এতে ব্যয়ও বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা ও মেয়াদকাল নির্ধারণ করা হয় ২০১৫ সাল পর্যন্ত। এখন রেট শিডিউল পরিবর্তন, চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ না পাওয়া, মেয়াদ বৃদ্ধি, ভূমি অধিগ্রহণের পরিমাণ ও ব্যয় বৃদ্ধির করে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। এছাড়া প্রকল্পটির বাস্তবায়নের জন্য মেয়াদ দ্বিতীয়বার বাড়িয়ে করা হয় ২০১৮ সাল পর্যন্ত।

প্রকল্পটির বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাস্তবায়নকারী সংস্থা এলজিইডি সেতু নির্মাণে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কোনো ছাড়পত্র নেয়নি। নেয়া হয়নি পরিবেশগত ছাড়পত্রও। এছাড়া ১০০ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্য সেতুর ক্ষেত্রে হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোজিক্যাল সমীক্ষার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এজন্য সুপারিশ অনুযায়ী সেতুগুলোর দৈর্ঘ্য পুনর্নির্ধারণ এবং সমীক্ষার জন্য প্রথমবার প্রকল্পটি সংশোধন করা হয়েছে। এখন পুনরায় সংশোধনের কারণ হিসেবেও একই কারণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

জানা গেছে, এ প্রকল্পের আওতায় এখন পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ৫৩টি সেতুর কাজ। চলমান রয়েছে ৬৫টি সেতু নির্মাণের কাজ। ৩৯টি সেতুর নকশা প্রণয়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া অন্য সংস্থা কর্তৃক নির্মিত হচ্ছে ১৪টি সেতু।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক আব্দুস ছালাম মণ্ডল বণিক বার্তাকে বলেন, অনেকটা তাড়াহুড়া করে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। এজন্য নকশা প্রণয়নেও কিছুটা ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে। পরবর্তীতে পুনরায় তা সংশোধন, সুবিধামতো জমি না পাওয়া, জমি অধিগ্রহণের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা কারণে এ প্রকল্পের ব্যয় ও সময়সীমা বেড়েছে।

জানা যায়, অনুমোদিত প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে ১৫ একর জমি অধিগ্রহণ বাবদ ১ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। তবে এখন ৮০ একর জমি অধিগ্রহণে ১২০ কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে।

জমি অধিগ্রহণের পরিমাণ ও ব্যয় অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ হিসেবে প্রকল্প পরিচালক বলেন, প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে ১৫ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য যে অর্থ ধরা হয়েছিল, তা প্রয়োজনের তুলনায় কম। এছাড়া সেতু নির্মাণের সময় বিনা মূল্যে স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে কেউ জমি দিতে আসেনি।

এলজিইডির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৭০ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৫৮ শতাংশ। এদিকে প্রকল্পের ব্যয় অস্বাভাবিক হারে বেড়ে গেলেও নির্ধারিত সময়ে সেতু সম্পন্ন না হওয়ায় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

এদিকে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির সভায় যেসব সেতুর সমীক্ষা এখনো সম্পন্ন হয়নি, তা দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করে কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যথাসম্ভব কম পিলারের সংস্থান রেখে নকশা করতে বলা হয়েছে। প্রস্তাবিত সেতুগুলোকে তিনটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে ভাগ করার নির্দেশনাসহ যে সেতুগুলো অন্যান্য প্রকল্পের আওতায় নির্মিত হয়েছে বা হচ্ছে, তা তালিকা থেকে বাদ দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর