রিজার্ভের চুরি যাওয়া ৭ কোটি ডলার না পাওয়ার সম্ভাবনা
রিজার্ভের চুরি যাওয়া ৭ কোটি ডলার না পাওয়ার সম্ভাবনা
২০১৬-০৪-৩০ ০৩:২৫:০০
প্রিন্টঅ-অ+


যে প্রক্রিয়ায় ওই অর্থ চুরি গেছে, তাতে এর সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা খুবই কষ্টসাধ্য। ফিলিপাইন থেকে বড়জোর ১ কোটি ডলার উদ্ধার করা সম্ভব। —ব্লুমবার্গকে অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে চুরি যাওয়া অর্থের মধ্যে ৭ কোটি ডলার অপরাধীরা পুরোপুরি সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে বলে ধারণা করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। অর্থমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে গত ফেব্রুয়ারিতে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে ফিলিপাইনে নিয়ে যায় অপরাধীরা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার উদ্ধার করা সম্ভব। বাকি অর্থ শনাক্ত করা কঠিন।

অর্থমন্ত্রী গতকাল টেলিফোনে সংবাদ মাধ্যম ব্লুমবার্গকে বলেন, যে প্রক্রিয়ায় ওই অর্থ চুরি গেছে, তাতে এর সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা খুবই কষ্টসাধ্য। অধিকাংশ অর্থই কয়েকটি ক্যাসিনো ও এর অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে অপরাধীরা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে প্রায় ১০০ কোটি ডলার চুরির চেষ্টা করে। নিউইয়র্ক ফেড অধিকাংশ অর্থ লেনদেন নির্দেশনা স্থগিত করতে পারলেও ফিলিপাইনে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের স্থানান্তর রোধ করতে পারেনি। এছাড়া আরো ২ কোটি ডলার শ্রীলংকায় স্থানান্তরিত করে অপরাধীরা, যা পরে বাংলাদেশ ফেরত পায়। এ ঘটনা হ্যাকিংয়ের বিরুদ্ধে সারা বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে বিশেষভাবে সচকিত করে।

ফিলিপাইন অর্থ চুরির এ ঘটনা তদন্ত করছে। এ বিষয়ে আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশও একটি তদন্ত চালাচ্ছে। আমাদের কিছু মানুষ অবশ্যই এর সঙ্গে জড়িত। তবে বিষয়টিতে এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

নিউইয়র্ক ফেডের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়েই ফেড চারটি লেনদেন অনুমোদন দিয়েছে। এ কারণে ওই অংশের জন্য তারাও (ফেড) দায়ী। নিরাপত্তায় ত্রুটি ছিল। আর ফেডারেল রিজার্ভ এ সমস্যার দায় থেকে মুক্ত নয়।

এ বিষয়ে গত মাসে ফেড জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পাঠানো লেনদেনের নির্দেশনাগুলো যথাযথ পদ্ধতি অবলম্বন করেই পাঠানো হয়েছিল। ওই নির্দেশনাগুলোয় সুইফট সিস্টেমের অনুমোদন ছিল।

আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অনেক ত্রুটি রয়েছে। এ-বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা এ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছেন। আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট তদন্তের বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত হবে।

তিনি বলেন, চলতি বছর বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রেকর্ড ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। দুর্বল ইউয়ানের বিপরীতে পোশাক শিল্পের কাঁচামালের দাম কমায় এটি সম্ভব হয়েছে। ফলে বৈশ্বিক চাহিদা কমা সত্ত্বেও রফতানি আয়ের ধারা অব্যাহত আছে।

এ অপরাধকে ‘খুবই অস্বাভাবিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, স্মরণকালে এ ধরনের ঘটনা আর দেখেছি বলে মনে পড়ে না। চুরি যাওয়া অর্থ বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় অঙ্কের। এটি অর্থ লেনদেনের নিরাপত্তা বিধানের বিষয়ে অনেক বড় একটি সতর্ক বার্তা। সারা বিশ্বের জন্যই।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি চুরি যায় রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার। এর মধ্যে ২ কোটি ডলার যায় শ্রীলংকায়। বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার প্রবেশ করে ফিলিপাইনে। দেশটির রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) মাধ্যমে তা বেরিয়ে যায়।

আরসিবিসিতে খোলা এনরিকো তিয়োদোরো ভাসকুয়েজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। কাঁচপুর, মেঘনা-গোমতী দ্বিতীয় সেতু নির্মাণ প্রকল্পে জাইকা থেকে নেয়া ঋণ পরিশোধের নামে এ অর্থ যায় অ্যাকাউন্টটিতে। জেসি ক্রিস্টোফার ল্যাগ্রোসাসের নামে খোলা আরেকটি অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে ৩ কোটি ডলার। ঢাকা মাস র্যাপিড ট্রান্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের বিপরীতে জাইকার ঋণ পরিশোধের নামে ছাড় হয় এ অর্থ। এছাড়া পরামর্শক ফির নামে মাইকেল ফ্রান্সিসকো ক্রুজের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে ৬০ লাখ ডলার। আর আলফ্রেড সান্তোস ভারজারার অ্যাকাউন্টে ঢোকে ১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। ভেড়ামারা কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ প্রকল্পের ইঞ্জিনিয়ারিং ফির নামে এ অর্থ প্রবেশ করে ভারজারার অ্যাকাউন্টে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর