জীবনের সন্ধানে বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপায়!
জীবনের সন্ধানে বৃহস্পতির উপগ্রহ ইউরোপায়!
২০১৬-০৪-২৮ ১৫:১৫:৫৫
প্রিন্টঅ-অ+


জুপিটার সৌরজগতের একটি গ্রহ। আজ থেকে ৪’শ বছরেরও বেশি সময় আগে এই গ্রহটি আবিষ্কার করেছিলেন ইতালির জ্যোতির্বিজ্ঞানী গ্যালিলিও গ্যালিলি। জুপিটার (বৃহস্পতি) সৌরজগতের সবচেয় বড় গ্রহ এবং সূর্য থেকে দূরত্বের বিচারে এটি পঞ্চম গ্রহ। পৃথিবীর একটি উপগ্রহ যেমন চাঁদ, তেমনি জুপিটারেরও ৬৭টি উপগ্রহ আছে। তারই একটি হলো ইউরোপা। জুপিটার থেকে প্রায় ৭ লক্ষ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই উপগ্রহটি একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরছে।

ইউরোপা সম্বন্ধে খুব বেশি কিছু জানা না গেলেও এটা জানা গেছে যে, এ উপগ্রহের উপরের স্তরে রয়েছে বরফ, আর বরফের নিচে রয়েছে সমুদ্র। এই সমুদ্রে যে পরিমান পানি আছে তা পৃথিবীর মোট জলের পরিমানের চেয়েও বেশি। এই সমুদ্রে জীবন থাকার সম্ভাবনা আছে। উপগ্রহটি সম্বন্ধে আরও তথ্য পেতে ইউরোপের মহাকাশ সংস্থা এবং আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ২০২০ সালের দিকে ইউরোপা উপগ্রহে একটি মিশন পাঠানো হতে পারে।

ইউরোপা সম্বন্ধে এখন পর্যন্ত কী ধরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে? তা জানতে বিবিসির সঙ্গে কথা হয় নাসার মহাকাশ বিজ্ঞানী ড. অমিতাভ ঘোষের সঙ্গে। তিনি বলেন, গ্যালিলিও নামের একটা স্পেসক্রাফট এই উপগ্রহের চারদিকে ঘুরে এসেছে।

ইউরোপাতে কখনোই কোন মিশন পাঠানো হয়নি। ইউরোপীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এবং নাসার বাজেটে ২০২০ সালের দিকে একটি মিশন পাঠানোর পরিকল্পনা আছে। এই গ্রহের সমুদ্রটি কত বড়, সমুদ্রের স্যালুলিটি কী এইসব জানার উদ্দেশ্যেই মিশনটি পাঠানোর কথা রয়েছে। নাসা চিন্তা করছে কোন আরোহী পাঠানো যায় কি না।

চাঁদে মিশন পাঠানোর চেয়েও এটা কঠিন হবে। কারণ এটি চাঁদের থেকে অনেক দূরে। মঙ্গলগ্রহে সিগন্যাল পৌঁছাতে সময় লাগে ২০ মিনিট, কিন্তু ইউরোপাতে সিগন্যাল পাঠাতে সময় লাগবে প্রায় ১ ঘণ্টা। ইউরোপা উপগ্রহের সাগর কয়েক কিলোমিটার বরফের নিচে। সেক্ষেত্রে এই সাগরে সাবমেরিন পাঠাতে চাইলে বরফ খুঁড়ে পাঠাতে হবে। এটা করতে হলে খুব শক্তিশালী যন্ত্র ব্যবহার করতে হবে।

যেখানেই জলের আভাস পাওয়া যায় বা বরফের একটা অস্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায় সেখানেই মহাকাশ বিজ্ঞানীরা যাওয়ার জন্য উদগ্রীব হয়ে পড়েন। জল নেই এমন জায়গায় যেতে আগ্রহী নন কেন?

এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জলকে কেন্দ্র করেই জীবন বাঁচে। জল যেখানে আছে সেখানে জীবনের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বলা যেতে পারে, পৃথিবীতে যে জীবন দেখছি অন্য কোন গ্রহে বা উপগ্রহতে অন্যরকমও হতে পারে এই জীবন। সেই অজানাকে আবিষ্কার করার জন্যই বিজ্ঞানীরা জল কেন্দ্রীক মিশনে আগ্রহী।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর