রিজার্ভ হ্যাকিংয়ে অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব পড়বে না
রিজার্ভ হ্যাকিংয়ে অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব পড়বে না
২০১৬-০৪-২৮ ০৩:০৬:২০
প্রিন্টঅ-অ+


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের ঘটনায় দেশের অর্থনীতিতে আপতত ক্ষতি হলেও দীর্ঘমেয়াদে কোনো প্রভাব পড়বে না।

তিনি বলেন, বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে ইতোমধ্যে কিছু অর্থ ফেরত পাওয়া গেছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাকি অর্থও ফেরত আনা যাবে।

বুধবার প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সদস্য হাজী মো. সেলিমের পক্ষে সরকারি দলের সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। খবর বাসসের

শেখ হাসিনা বলেন, হ্যাকিংয়ের ঘটনার পর বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ফলে আরও বড় রকমের হ্যাকিং বন্ধ করা গেছে। একইসঙ্গে ফিলিপাইন সরকারের সহযোগিতায় অর্থ ফেরত আনার তৎপরতার ফলে এ বিষয়ে সম্ভাব্য বিরূপ পরিস্থিতি ঠেকানো গেছে। এ বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি অন্তর্বর্তীকালীন একটি রিপোর্ট দিয়েছে। সে মোতাবেক নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এসব তৎপরতার ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের ঘটনা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুদ্রানীতি গ্রহণের প্রাক্কালে ২০১৬ এর জুনের শেষে যে পরিমাণ নিট বৈদেশিক সম্পদের (১ হাজার ৮৬৬ বিলিয়ন টাকা) লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করা হয়েছে তার তুলনায় মার্চে শেষে প্রকৃত নিট বৈদেশিক সম্পদের পরিমাণ, রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের পরেও দাঁড়িয়েছে অনেক বেশি অর্থাৎ ১ হাজার ৯৮১ বিলিয়ন টাকা। সুতরাং বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ হ্যাকিংয়ের ঘটনায় মুদ্রানীতি বাধাগ্রন্ত হওয়ারও কোনো আশঙ্কা নেই।

আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের অপর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সরকার কোনো অফশোর ব্যাংকিং করার অনুমতি দেয়নি, যদিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সরকার নতুন ব্যাংক স্থাপন ও এর শাখা খোলার অনুমতি দিয়েছে। অনিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য তিনটি ব্যাংক স্থাপনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তারা দেশে ব্যাংক স্থাপন করেছে এবং বিদেশেও এর শাখা রয়েছে।

তিনি বলেন, অনেকে বিদেশে ব্যবসা করে টাকা আনে না। আবার অনেকে টাকা বাইরে নিয়ে যায়, এমন তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে। ২০০৭-০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আতঙ্কিত হয়ে অনেকে বিদেশে টাকা পাঠিয়েছে। ২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত যারা ক্ষমতায় ছিল তাদের অনেকেই বিদেশে টাকা পাচার করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার টাকা পাচার রোধ ও বিদেশে পাচারকৃত টাকা ফেরত আনতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি নেত্রীর পুত্রের পাচারকৃত টাকা ফেরত আনা হয়েছে, যা বিরল দৃষ্টান্ত।

জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ

সরকারি দলের কাজী নাবিল আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ রোধে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধান এবং সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জনগণের মৌলিক ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তিনি বলেন, সবধরনের জঙ্গিবাদ, নাশকতা ও সহিংসতার সাথে জড়িত ও হুকুম দাতাদের আইনের আওতায় আনতে ও তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকার পুলিশসহ সকল আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাসমূহকে নির্দেশ প্রদান করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার লক্ষ্যে পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জনসাধারণের সম্পদ ও জীবনের নিরাপত্তাসহ শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, সকল প্রকার সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ওয়ারেন্টভুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ নিয়মিত মামলার আসামী গ্রেফতার, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক এবং মাদকদ্রব্যসহ সকল ধরনের অবৈধ মালামাল উদ্ধারে পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। সকল প্রকার নাশকতা, ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ ও সহিংসতা প্রতিরোধে সভা-সমাবেশে আলোচনা করা হচ্ছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর