শাহজালাল সার কারখানা উৎপাদন শুরুর আগেই বন্ধ
শাহজালাল সার কারখানা উৎপাদন শুরুর আগেই বন্ধ
২০১৬-০৪-২৬ ০১:৪৫:৩৪
প্রিন্টঅ-অ+


পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরুর আগেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে নবনির্মিত শাহজালাল সার কারখানায়। এ কারণে প্রায় এক মাস ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে পরীক্ষামূলক উৎপাদনে থাকা দেশের বৃহত্তম এ সার কারখানায়। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর আগেও একবার যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছিল কারখানাটিতে।

৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ সার কারখানা গত বছরের সেপ্টেম্বরে পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যায়। এ বছরের শুরুতে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়ার কথা থাকলেও এখনো তা শুরু হয়নি, বরং যান্ত্রিক ত্রুটিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ সার কারখানাটির অ্যামোনিয়া গ্যাস স্টিম পাইপলাইন ফেটে যায়। এর পর থেকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায় কারখানায়। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষ বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে পাইপলাইন মেরামতের কাজ শুরু করে। মেরামতকাজ শেষে উৎপাদনে যেতে আরো কয়েক দিন লাগতে পারে বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে শাহজালাল সার কারখানার প্রকল্প পরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন, নতুন কারখানায় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় যেতে বিভিন্ন ত্রুটি ধরা পড়ে। চূড়ান্ত পর্যায়ে উৎপাদনে আসার আগে এসব ত্রুটি ধীরে ধীরে সারিয়ে ফেলতে হয়। ফলে এ ত্রুটিতে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।

এর আগে গত বছরের এপ্রিলে কারখানার মিথেন কুলারে ত্রুটি ধরা পড়ে। এতে আটকে গিয়েছিল পরীক্ষামূলক উৎপাদন।

প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শাহজালাল সার কারখানা নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে, যা গত বছর শিল্প মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচিত হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালের ২৪ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শাহজালাল সার কারখানার নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এর আগে ‘শাহজালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি’ স্থাপনের জন্য ২০১২ সালের শুরুতে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায় ১৫০ একর জায়গা অধিগ্রহণ করা হয়। তারও আগে চীন ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এ সার কারখানা স্থাপনের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে ঢাকায় একটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্প ব্যয়ের ৭০ শতাংশ (৩ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা) ঋণ হিসেবে দিয়েছে চীন সরকার। এ ঋণের বার্ষিক সুদের হার ২ শতাংশ ধরা হয়েছে। ২০ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। প্রকল্প ব্যয়ের অবশিষ্ট ১ হাজার ৪২৩ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার নিজস্ব তহবিল থেকে জোগান দিয়েছে। সার কারখানাটি চীন ও বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে নির্মিত হলেও এর প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডস।

সার কারখানাটিতে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন চালু হলে প্রতিদিন ১ হাজার ৭৬০ টন করে বছরে ৫ লাখ ৮০ হাজার ৮০০ টন ইউরিয়া সার উৎপাদন হবে এবং প্রতিদিন ১ হাজার টন হিসাবে বছরে ৩ লাখ ৩০ হাজার টন অ্যামোনিয়া উৎপাদন হবে।

শাহজালাল সার কারখানা সূত্রে জানা যায়, ৩৮ মাসব্যাপী প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৫ সালের আগস্টে। এ সময়ের মধ্যেই পূর্ণ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে চলতি বছরের জানুয়ারিতে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরুর কথা জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যেতে পারেনি কারখানাটি।

এ ব্যাপারে প্রকল্প পরিচালক কামরুজ্জামান বলেন, আমরা আরো কিছুদিন পরীক্ষামূলক উৎপাদন দেখব। তার পর আনুষ্ঠানিকভাবে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরুর ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর