দুর্বল নেটওয়ার্ক সবল করতে আসছে ‘নেটওয়ার্ক রোমিং’
দুর্বল নেটওয়ার্ক সবল করতে আসছে ‘নেটওয়ার্ক রোমিং’
২০১৬-০৪-২৬ ০১:৪৩:৪৩
প্রিন্টঅ-অ+


ধরা যাক, আপনি দেশের প্রত্যন্ত এলাকার কোনও গ্রামে গেছেন। সেখানে টেলিযোগাযোগ সেবার মান খুবই খারাপ। মোবাইলে নেটওয়ার্ক সিগন্যাল ঠিকমত পাওয়া যায় না। কথা শুরু করলে কলড্রপ হয়। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলেন, আপনি যে অপারেটরটির সংযোগ (সিম) ব্যবহার করেন তার নেটওয়ার্ক বহুদূরে। বরং আপনার আশেপাশেই রয়েছে অন্যান্য অপারেটরের টাওয়ার বা বেজ স্টেশন।

টেলিযোগাযোগ সেবার ঠিক এমন সমস্যার সমাধানে চালু হতে পারে ‘নেটওয়ার্ক রোমিং’ সুবিধা। যে এলাকায় যে অপারেটরের নেটওয়ার্ক কাভারেজ কম তারা যাদের কাভারেজ বেশি আছে তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা পাবেন। বিষয়টি অভিমত ও পরিকল্পনা পর্যায়ে রয়েছে। একটি নির্দিষ্ট অপারেটরকে মাথায় রেখে এ বিষয়ে সরকার অগ্রসর হতে পারে বলে জানা গেছে।

নেটওয়ার্ক রোমিং সেবা চালু হলে দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় যে অপারেটরটির নেটওয়ার্ক কাভারেজ কম বা দুর্বল, সেই অপারেটরটি ওই এলাকার শক্তিশালী নেটওয়ার্ক শেয়ার করতে পারবে। এতে করে ওই এলাকায় অতিরিক্ত বিনিয়োগ না করে স্বল্প বিনিয়োগে শক্তিশালী নেটওয়ার্কের সুবিধা নিতে পারে দুর্বল অপারেটরটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইলফোন অপারেটর টেলিটককে অন্যান্য অপারেটরগুলোর সমকক্ষ করতে নতুন করে বড় অংকের অর্থ বিনিয়োগ না করে স্বল্প খরচে নেটওয়ার্ক বাড়াতে এই উদ্যোগ ফলপ্রসূ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর ফলে টেলিটককে নেটওয়ার্ক বাড়াতে টাওয়ার স্থাপনসহ অন্যান্য কাজ করতে হবে না। অল্প কিছু বিনিয়োগ করলেই হবে।

জানা যায়, গত বছরের ডিসেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠককালে টেলিটক নেটওয়ার্ক ও সেবা বিস্তারের জন্য অন্য অপারেটরের সঙ্গে রোমিং এগ্রিমেন্ট করার পরামর্শ দেন। এর পাশাপাশি ‘ওভারঅল কোয়ালিটি অব সার্ভিস’ ও সেবা বৃদ্ধির বিষয়ে টেলিটককে আরও মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ওই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পরে অন্যান্য অপারেটরের সঙ্গে রোমিং এগ্রিমেন্ট– এর মাধ্যমে টেলিটক নেটওয়ার্ক ও সেবা বিস্তারের পদক্ষেপ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত হয়, যা বাস্তবায়ন করবে টেলিটক। মূলত এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় মন্ত্রণালয়ে।

বিষয়টি জানতে চাইলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব এম রায়হান আখতার জানান, বর্তমানে প্যাসিভ শেয়ারিং চালু রয়েছে। নেটওয়ার্ক রোমিং চালু করতে অ্যাক্টিভ শেয়ার অনুমোদন করতে হবে। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে এসব (নেটওয়ার্ক রোমিং) নিয়ে আলাপ হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এটি চালু হলে দেশে মোবাইলফোন টাওয়ারের সংখ্যা কমবে, জমি ব্যবহার কমবে, অপারেটরগুলোর বিনিয়োগও কম করতে হবে। অবকাঠামোগত উন্নয়ন নতুন করে না করলেও চলবে। তখন বেশিসংখ্যক কর্মীও রাখতে হবে না। ফলে তা হবে ব্যয় সাশ্রয়ী।

নেটওয়ার্ক রোমিং চালু হলে শুধু টেলিটকই নয়, অন্যান্য অপারেটর বিশেষ করে যাদের নেটওয়ার্ক কাভারেজ কম তারা এই সুযোগ নিতে পারে। এতে করে দেশের সব গ্রাহক একই দামে সমান নেটওয়ার্কের আওতায় আসতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা মনে করেন, দুই একটি অপারেটর দেশের একেবারে প্রত্যন্ত এলাকা নেটওয়ার্ক কাভারেজের আওতায় এলেও সবাই এখনও পারেনি। তার ওপর রয়েছে থ্রিজি কাভারেজের বিষয়। সব মিলিয়ে নতুন বিনিয়োগ না বাড়িয়ে এই পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেছেন। তবে তারা এটাও বলেন, এই পদ্ধতি নতুন বা ছোট অপারেটরগুলোর জন্য সুফল বয়ে আনলেও বড় অপারেটরগুলো তেমন সুবিধা পাবে না। এছাড়া বড় অপারেটরগুলো বিষয়টি নাও মানতে পারে।

এম. রায়হান আখতার বলেন, নেটওয়ার্ক রোমিং চালু করতে গেলে কয়েকটি ফ্যাক্টর এখানে মুখ্য হয়ে দাঁড়াবে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারের সঙ্গে রাজস্ব ভাগাভাগি, অপারেটরগুলোর মধ্যে রাজস্ব ভাগাভাগি, ফ্রিকোয়েন্সির ব্যবহার ইত্যাদি। এসব বিষয়ের সমাধান আগে করে কাজে নামলেই তবে এ থেকে সুফলের আশা করা যেতে পারে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর