অবশেষে কমল জ্বালানি তেলের দাম
অবশেষে কমল জ্বালানি তেলের দাম
২০১৬-০৪-২৬ ০১:২১:২৫
প্রিন্টঅ-অ+


অবশেষে কমল জ্বালানি তেলের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে অব্যাহত মূল্যপতনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বাজারে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয়ের এ সিদ্ধান্ত নিল সরকার। জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের বিষয়ে রবিবার একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি লিটার অকটেনের বিক্রয়মূল্য ৮৯ ও পেট্রল ৮৬ টাকা। আর প্রতি লিটার ডিজেল ও কেরোসিনের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫ টাকা। গতকাল রাত ১২টার পর থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অকটেন ও পেট্রলের দাম কমল লিটারপ্রতি ১০ টাকা। এছাড়া ডিজেল ও কেরোসিনের দাম কমানো হয়েছে লিটারপ্রতি ৩ টাকা। এর আগে ১ এপ্রিল ফার্নেস অয়েলের দাম লিটারে ১৮ টাকা কমিয়ে ৪২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। দাম কমানোর পাশাপাশি জ্বালানি তেল বিতরণকারী কোম্পানিগুলোর মার্জিন ও পরিবহন ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বণিক বার্তাকে বলেন, প্রথম দফায় দাম কমানোর পর তিন মাস আন্তর্জাতিক বাজার পর্যবেক্ষণ করা হবে। ওই সময় জ্বালানি তেলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীল থাকলে বা নিম্নমুখী হলে দ্বিতীয় ধাপে দাম আরো কিছুটা কমানো হতে পারে।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে মূল্য সমন্বয়ের লক্ষ্যে ২০১৩ সালের ৪ জানুয়ারি সর্বশেষ বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন প্রতি লিটার অকটেন ৯৯ টাকা, পেট্রল ৯৬ এবং কেরোসিন ও ডিজেল ৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর ২০১১ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফার্নেস অয়েলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬০ টাকা।

২০১৪ সালের শেষ দিকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমতে শুরু করে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক দরপতনের পর সব মহল থেকে দাবি উঠলেও জ্বালানি তেলের দাম কমাচ্ছিল না সরকার। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) ভর্তুকি তথা লোকসান পুষিয়ে নেয়ার যুক্তি দেখানো হয়।

বিপিসির হিসাবে, ২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০১৬ সালের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে সংস্থাটি। তবে দাম কমানো এবং অন্যান্য চার্জ বাড়ানো হলেও মুনাফার ধারায়ই থাকবে সংস্থাটি।

নতুন হিসাবমতে, ভ্যাট, মার্জিন ও অন্যান্য চার্জ বাদ দিয়ে প্রতি লিটার ডিজেলে বিপিসি মুনাফা করবে ১২ টাকা ২ পয়সা, কেরোসিনে ১২ টাকা ২৭ পয়সা, পেট্রলে ৬ টাকা ৫ পয়সা, অকটেনে ৮ টাকা ৮৩ পয়সা ও ফার্নেস অয়েলে ১ টাকা ৬৩ পয়সা।

এদিকে বিপিসির মুনাফার হিসাব ও অর্থ ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনার দাবি জানিয়েছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. শামসুল আলম। তিনি বলেন, এত দিন বিপিসিকে ভর্তুকি দেয়া হয়েছে বলা হলেও মুনাফার পর থেকে তা ঋণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এতে জ্বালানি তেলের দাম কমার সুফল থেকে সাধারণ মানুষ বঞ্চিত হয়েছে। তাই বিপিসি যে বড় অঙ্কের মুনাফা করল, তা কোন খাতে ও কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, তা প্রকাশ করা উচিত। পাশাপাশি আগামীতেও বিপিসির মুনাফার সঠিক হিসাব সংরক্ষণ ও তার মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা তহবিল গঠনের প্রস্তাব করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বিপিসির মুনাফা ও ব্যয়ের হিসাব চাওয়া হয়। এছাড়া অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও বিপিসির হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশ থেকে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে জ্বালানি তেল কেনে বিপিসি। এতে বাজারমূল্যের চেয়ে কিছুটা বেশি দামে তেল কিনতে হয় সংস্থাটিকে। ফলে মুনাফা তুলনামূলক কম হচ্ছে বিপিসির। এজন্য আগামীতে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে তেল কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তা বাস্তবায়ন হলে ভবিষ্যতে জ্বালানি তেলের ক্রয়মূল্য আরো কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম তামিম বলেন, আরো আগেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত ছিল। বিশেষত ফার্নেস অয়েলের দাম কমানোয় বিদ্যুত্ উৎপাদন ব্যয় কমছে। এ সুফল জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে বিদ্যুতের দাম কমানো উচিত। পাশাপাশি পরিবহন ভাড়ার দিকেও সরকারের নজর দেয়া উচিত।

তিনি আরো বলেন, বিদ্যুতের দাম কমানোর পরিবর্তে উল্টো বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে। এটি হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এতে শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হবে, বিনিয়োগ নিরুত্সাহিত হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর