গ্রেফতার আতঙ্কে বিএনপির শীর্ষ নেতারা
গ্রেফতার আতঙ্কে বিএনপির শীর্ষ নেতারা
২০১৬-০৪-২৪ ০৪:০৮:১৯
প্রিন্টঅ-অ+


বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের অধিকাংশই এখন কারাগারের বাইরে। জামিনে মুক্তি পেয়ে বিভিন্ন সভা-সেমিনারেও অংশ নিচ্ছেন তারা। তবে শফিক রেহমানের গ্রেফতার পাল্টে দিয়েছে দৃশ্যপট। নতুন গ্রেফতার আতঙ্কে ভুগছেন দলের শীর্ষ নেতারা। দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে এমনটাই জানা গেছে।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ ও হত্যা ষড়যন্ত্রের অভিযোগের মামলায় ১৬ এপ্রিল গ্রেফতার করা হয় শফিক রেহমানকে। প্রথম দফায় পাঁচদিনের পর দ্বিতীয় দফায় আরো পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে শফিক রেহমান অনেক তথ্য দিয়েছেন বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। এর পর থেকেই গ্রেফতার আতঙ্ক জেঁকে বসেছে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যে।

শফিক রেহমানকে গ্রেফতার ও রিমান্ডে নেয়া সরকারের দমন-পীড়নের অংশ বলে অভিযোগ করছে বিএনপি। ইস্যুটি ঘিরে দলের শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার করাই সরকারের উদ্দেশ্য বলে দাবি তাদের।

যোগাযোগ করা হলে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শফিক রেহমানকে গ্রেফতার বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ওপর আক্রমণের নামান্তর। এছাড়া উনি (শফিক রেহমান) আমাদের দলের একজন বুদ্ধিজীবী। সরকার অজানা আতঙ্কের বশবর্তী হয়ে বিরোধী দলের ওপর আবারো দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়েছে।’

এদিকে শফিক রেহমানকে গ্রেফতারের পর পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘শফিক রেহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মাহমুদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তাতে ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বিষয়ে জানা যাবে।’

তবে শফিক রেহমানের স্বীকারোক্তির বিষয়ে পুলিশের দাবির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি। শামসুজ্জামান দুদু এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘শফিক রেহমানের স্বীকারোক্তির যে দাবি পুলিশ করেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। আদালতের নিয়ম হচ্ছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় আইনজীবী থাকতে হবে। কিন্তু শফিক রেহমানের ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না। এছাড়া শফিক রেহমান নিজেও তার স্ত্রীর কাছে স্বীকারোক্তির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।’

উল্লেখ্য, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বন্ধে ২০১৩ সালের শেষ দিকে ধারাবাহিক আন্দোলন শুরু করে বিএনপি। হরতালের পাশাপাশি লাগাতার অবরোধ কর্মসূচিও ঘোষণা করে দলটি। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরও বেশ কিছুদিন আন্দোলন অব্যাহত রাখে দলটি। পরে আন্দোলন থেকে সরে এলেও নির্বাচনের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আবারো কর্মসূচিতে যায় তারা। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সভা করতে না দেয়ায় ২০১৫ সালের ৬ জানুয়ারি আবারো অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। কর্মসূচি চলাকালে বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার হন দলের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা। বিভিন্ন সময় কারাভোগের পর তাদের প্রায় সবাই এখন জামিনে মুক্ত।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

রাজনীতি এর অারো খবর