প্যারিস জলবায়ু চুক্তি সই করল ১৭০ দেশ
প্যারিস জলবায়ু চুক্তি সই করল ১৭০ দেশ
২০১৬-০৪-২৩ ০৩:৫০:৪৭
প্রিন্টঅ-অ+


তাপমাত্রা কমিয়ে পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার লক্ষ্যে বিশ্ব নেতারা ঐতিহাসিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। গতকাল শুক্রবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১৭০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং তাদের মনোনীত প্রতিনিধিরা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ প্রথমে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এরপর একে একে অন্য নেতৃবৃন্দ চুক্তিতে সই করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে চুক্তিতে সই করেন পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

গত বছরের ডিসেম্বরে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘের শীর্ষ জলবায়ু সম্মেলনে চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করা হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আলোচনা, তর্কবিতর্ক ও দর-কষাকষি শেষে জলবায়ু চুক্তিতে সম্মত হয় বিশ্ব। চুক্তির ওই চূড়ান্ত খসড়ায় সম্মতি দেয় ১৯৫টি দেশ। খসড়ায় স্বল্পোন্নত ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর দাবির সঙ্গে শিল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলোর দাবির ভারসাম্য রাখা হয়েছে।

জলবায়ু বিপন্ন দেশ ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দুশ্চিন্তার অবসান করে আইনি বাধ্যবাধকতাসহ চুক্তিটি স্বাক্ষর হয়েছে। চুক্তিতে এই শতাব্দীর মধ্যে বিশ্বের তাপমাত্রা দুই ডিগ্রির বেশ খানিকটা নিচে রাখার নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া দেড় ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। বিশ্বের সব কটি শিল্পোন্নত দেশসহ ১৯০টি দেশ কার্বন নিঃসরণের স্বতঃপ্রণোদিত অঙ্গীকার বা আইএনডিসিকে চুক্তির অংশ হিসেবে অনুমোদন করেছে।

চুক্তিতে তাপমাত্রা কমানো ছাড়াও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো যাতে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারে সেজন্য বিশেষ তহবিলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশেষ করে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোকে বিশেষ সহায়তা দিতে বলা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে চুক্তিটি বাস্তবায়নে কাজ শুরু হবে। তবে প্রতিটি রাষ্ট্রকে নিজের দেশের সংসদে চুক্তিটি অনুসমর্থন করতে হবে। অবশ্য মার্শাল আইল্যান্ড, পালাউ, ফিজি এবং সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে তাদের পার্লামেন্টে অনুসমর্থন করেছে। তারা গতকালই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেন, ‘এই জলবায়ু চুক্তি স্বাক্ষর জাতিসংঘের ইতিহাসে একটি অনন্য ঘটনা। এখানে যেমন রেকর্ড ভেঙ্গেছে বাইরেও তেমনি রেকর্ড ভাঙছে’। তিনি বলেন, পৃথিবীতে কার্বন নিঃসরণ বেড়ে চলেছে। এর ফলে তাপামাত্রা বাড়ছে, আর ব্যাপকহারে বরফ গলছে। কার্বন নিঃসরণ চুক্তির লক্ষ্য অনুসারে তাপমাত্রা নির্দিষ্ট মাত্রায় কমিয়ে আনতে শিল্পোন্নত দেশগুলোকে কাজ করতে হবে। তাদেরকে কম কার্বন নিঃসরণনির্ভর অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি জাতিসংঘ মহাসচিব হওয়ার পর থেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা ও দূষণ থেকে পৃথিবী রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে প্রত্যেক দেশকে জাতীয় পর্যায়ে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করতে হবে’।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ বলেন,প্যারিসে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর বিশ্ব নেতারা যে ধরনের সংহতি প্রকাশ করেছিলেন তা ছিলো অনন্য। তেমনি জলবায়ু পরিবর্তন নির্দিষ্ট কোনো দেশের এজেন্ডা নয়। পৃথিবীর সকল দেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা বিশেষ করে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও তাপমাত্রা কমিয়ে আনতে কাজ করতে হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পেরু, কঙ্গো, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের প্রেসিডেন্ট, সরকারের মনোনীত প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তব্য রাখেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরিও। ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ প্রতিনিধি এবং জাতিসংঘের জলবায়ু সংক্রান্ত বিশেষ দূত ও অভিনেতা লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিদের বক্তৃতার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১৯০টি শিশু জাতিসংঘ সম্মেলন কক্ষে প্রবেশ করে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিদের পাশে অবস্থান নেয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

পরিবেশ এর অারো খবর