পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা না রেখেই নকশা - বিশ্বব্যাংকের আপত্তি
পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা না রেখেই নকশা - বিশ্বব্যাংকের আপত্তি
২০১৬-০৪-২৩ ০৩:৪০:১৪
প্রিন্টঅ-অ+


রাজধানীর বিমানবন্দর সড়ক থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত নির্মাণ করা হবে বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি)। বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এর বিস্তারিত নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে বিআরটির রুটে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। তাই প্রকল্পটির নকশা নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অসমর্থ ব্যক্তিদের ফুটওভার ব্রিজে ওঠানামার ব্যবস্থা না রাখার বিষয়েও আপত্তি তুলেছে সংস্থাটি।

সম্প্রতি বিআরটির নকশায় ত্রুটির বিষয়ে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় বোর্ডকে (ডিটিসিএ) চিঠি দেয় বিশ্বব্যাংক। নির্মল বায়ু টেকসই পরিবেশ (কেস) প্রকল্পের কো-টাস্ক টিম লিডার (ট্রান্সপোর্ট) শিগে সাকাকি স্বাক্ষরিত চিঠিতে নকশা সংশোধনের সুপারিশও করা হয়।

কেস প্রকল্পের আওতায় ঢাকার পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করছে ডিটিসিএ। এজন্য বিমানবন্দর থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত বিআরটির বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

পরবর্তীতে এ রুটে বিআরটি নির্মাণেও বিশ্বব্যাংককে অর্থায়নের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ই-মেইলে বিআরটির নকশা পাঠায় ডিটিসিএ। এটি আংশিক নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে নকশা সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের গভীরতা পর্যাপ্ত নয়। উদাহরণস্বরূপ পথচারীদের বিষয়টি বিশেষত বয়স্ক ও শারীরিকভাবে অক্ষম ব্যক্তিদের বিষয়গুলো বিস্তারিত নকশায় বিবেচনা করা হয়নি। নকশাটি এখনো ব্যক্তিগত গাড়িনির্ভর হয়ে আছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ধাপ ও সিগনাল টাইমিংয়ের ধাপ এখনো পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। বিষয়গুলো বিবেচনা করে সংশোধিত নকশা জমা দেয়ার অনুরোধ করা হয়। বিআরটির নকশা যাচাই-বাছাইয়ে শিগগিরই পূর্ণাঙ্গ মতামত দেয়া হবে বলেও জানানো হয়।

নকশায় বেশকিছু ভুলের বিস্তারিত ব্যাখ্যাও চিঠির সঙ্গে সংযোজন (অ্যাটাচমেন্ট) করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাজধানীর চারটি পয়েন্টে পথচারী পারাপারের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। এগুলো হলো— বিজয় সরণি-তেজগাঁও মোড়, গুলিস্তান, পুরনো ঢাকার বংশাল রোড ও ইংলিশ রোড। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আরো কিছু পয়েন্টে গাড়ি বাম দিকে টার্ন নেয়ার সময় যাত্রী পারাপারে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। অথচ দুর্ঘটনা এড়াতে নকশায় কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

এতে আরো বলা হয়েছে, বিআরটির ক্ষেত্রে সড়কের দুই পাশ আটকানো থাকে। এক্ষেত্রে বিমানবন্দর সড়ক থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের কথা নকশায় বলা হয়েছে। তবে হুইল চেয়ার ও শারীরিকভাবে অসামর্থ্য ব্যক্তিদের পারাপারের ব্যবস্থা রাখা হয়নি নকশায়। এছাড়া কাজী নজরুল ইসলাম সরণি সড়কের জিরো পয়েন্ট (জিপিও) মোড়ে উত্তর-পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব অংশের মধ্যে যানবাহন পারাপার বন্ধ করে দেয়ার কথা নকশায় রয়েছে। এক্ষেত্রে যানবাহন বিকল্প কোন পথে চলাচল করবে ও টার্ন নেবে তা নকশায় উল্লেখ নেই।

জানতে চাইলে বিআরটি নকশা প্রণয়ন প্রকল্পের পরিচালক মো. আনিসুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বিআরটির নকশা প্রণয়ন করা হচ্ছে। তাই সংস্থাটির মতামতের জন্য তা পাঠানো হয়েছে। কিছু বিষয় তারা চিহ্নিত করেছে, যেগুলো সংশোধনের কাজ চলছে। বিশ্বব্যাংকের মতামতের ভিত্তিতে নকশা চূড়ান্ত করা হবে।

উল্লেখ্য, যানজট হ্রাসে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের আহমেদাবাদসহ বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বিআরটি চালু করা হয়েছে। এক্ষেত্রে বিদ্যমান সড়কের দুই পাশে ডিভাইডার (সড়ক বিভাজক) দিয়ে বাসের জন্য পৃথক লেন করা হয়, যা দিয়ে দ্রুত বাস চলাচল করে। আর বাসে ওঠানামার জন্য কিছু স্টপেজ থাকে, যা ভূমি থেকে দু-তিন ফুট উঁচুতে হয়। স্টপেজের সামনে বাস থামার পর সোজা হেঁটে তাতে উঠে যান যাত্রীরা। আর চলাচলের রুটের মধ্যে কোনো জংশন (মোড়) থাকলে সেখানে বিআরটির বাসকে প্রাধান্য দেয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রতিটি মোড়ে স্বয়ংক্রিয় সিগনাল ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়।

ডিটিসিএর তথ্যমতে, বিআরটির রুটে শান্তিনগর থেকে ঝিলমিল পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে। এছাড়া সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি পর্যন্ত ফ্লাইওভার নির্মাণ হয়ে গেছে। এজন্য পুরো রুটে বিআরটি নির্মাণ নিয়ে সন্দিহান বিশ্বব্যাংক। তাই গত বছর প্রকল্পটি থেকে অর্থায়ন প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিমানবন্দর সড়ক থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত তিন ধাপে বিআরটি নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

প্রথম ধাপে নির্মাণ করা হবে বিমানবন্দর থেকে মহাখালী বাস টার্মিনাল পর্যন্ত অংশটি। এ অংশের নকশায় কোনো ধরনের সমস্যা না থাকায় প্রথম অংশটি নির্মাণে বিশ্বব্যাংককে প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া প্রথম অংশ নির্মাণ না হলে গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর সড়ক পর্যন্ত নির্মিতব্য অন্য বিআরটি অকার্যকর হয়ে পড়বে। এক্ষেত্রে প্রথম অংশ শেষ হওয়ার পর মহাখালী-গুলিস্তান (দ্বিতীয় অংশ) ও গুলিস্তান-কেরানীগঞ্জ (তৃতীয় অংশ) নির্মাণ করা হবে।

সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব বিশ্বব্যাংকে পাঠানো হয়। এতে বলা হয়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর সড়ক পর্যন্ত বিআরটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে দ্বিতীয় অংশটি না হলে যাত্রীরা শহরের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবে না। তাই বিমানবন্দর সড়ক থেকে মহাখালী পর্যন্ত অংশটি নির্মাণ জরুরি। এ অংশ নির্মাণ সম্পন্ন হলে ফার্মগেট-মহাখালী রুটে বাস সার্ভিস চালু করা হবে। এতে মহাখালী থেকে ফার্মগেট হয়ে ঢাকার যেকোনো রুটে যাতায়াত করতে পারবে যাত্রীরা।

এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে উল্লেখ করে মো. আনিসুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে এ প্রস্তাবে সম্মত হয়েছে বিশ্বব্যাংক। এজন্য মহাখালী থেকে ফার্মগেট যাতায়াতের বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বিআরটি বাস্তবায়নে ডিটিসিএর সক্ষমতা বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রথম অংশ নির্মাণকালে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অংশের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।
সূত্র: বণিক বার্তা

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর