বছরের শেষ দিকে কমবে লোহার দাম
বছরের শেষ দিকে কমবে লোহার দাম
২০১৬-০৪-১৯ ০২:৫০:০৪
প্রিন্টঅ-অ+


গত বছর ব্যাপকভাবে কমে এলেও এ বছর আন্তর্জাতিক বাজারে অব্যাহতভাবে বাড়ছে আকরিক লোহার দাম। মেটাল বুলেটিনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু বছরের প্রথম তিন মাসেই আকরিক লোহার দাম বেড়েছে ২৩ শতাংশ। এমনকি গত ৭ মার্চ এক দিনেই দাম বাড়ে ১৯ শতাংশ।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বরে বিশ্ববাজারে আকরিক লোহার দাম ছিল টনপ্রতি ৩৮.৩০ ডলার। আর অব্যাহত দাম বৃদ্ধির ফলে গত সপ্তাহে দাম দাঁড়ায় টনপ্রতি ৫৯.৩৮ ডলার। যা গত বছরের চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেশি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, চীনে লোহা উত্পাদন কমলেও দেশটির প্রবৃদ্ধি জোরালো করতে ব্যাপক অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এতে বাড়তি লোহার চাহিদা মেটাতে আমদানি বাড়ানো হয়। মূলত এ কারণেই বিশ্ববাজারে এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে অস্বাভাবিক বাড়তে থাকে আকরিক লোহার দাম। তাঁদের মতে, এ ঊর্ধ্বমুখিতা খুব বেশি দিন থাকবে না। আকরিক লোহার দ্বিতীয় বৃহৎ সরবরাহক প্রতিষ্ঠান রিও টিনটো গ্রুপের সিইও স্যাম ওয়ালস বলেন, রেকর্ড সর্বনিম্ন দাম থেকে আকরিক লোহার বাজার আবার পুনরুজ্জীবিত হতে শুরু করলেও দামের ঊর্ধ্বমুখিতা খুব বেশিদিন থাকবে না, কারণ উত্পাদন বাড়ছে।

তিনি বলেন, বছরের দ্বিতীয় ভাগেই দাম কমে আসতে পারে। তাঁর মতে, চীনের চাহিদা বাড়লেও নতুন সরবরাহ বাড়ায় সেই চাহিদা পূরণ হবে। সে কারণেই দাম কমে আসবে। গত সপ্তাহে শীর্ষ উত্পাদনকারী দেশ অস্ট্রেলিয়া সরকারের পক্ষ থেকে এক পূর্বাভাসে বলা হয়, এ বছর আকরিক লোহা রপ্তানি ১০ শতাংশ বেড়ে হবে ৮৪ কোটি ৬০ লাখ টন। চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয় ৬.৭ শতাংশ। এ অবস্থায় সরকার প্রবৃদ্ধি বাড়াতে অবকাঠামো উন্নয়নে জোর দিলেও এ বছর দেশটিতে অশোধিত স্টিল উত্পাদন কমে যায়। বছরের প্রথম দুই মাসে চীনে অশোধিত স্টিল উত্পাদন কমেছে ৬ শতাংশ। এতে গত মার্চ মাসে আমদানি বেড়ে হয় ৮৫.৭৭ মিলিয়ন টন। যেখানে ফেব্রুয়ারিতে আমদানি ছিল ৭৩.৬১ মিলিয়ন টন। এ নিয়ে আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেট গত সপ্তাহে তাদের এক নোটে জানায়, চীনে স্টিল উত্পাদন কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশটির আমদানি বাড়লেও বিভিন্ন দেশের রপ্তানিও বাড়তির দিকে রয়েছে। ফলে লোহার দাম বাড়ার কোনো সুযোগ নেই, বরং অতিরিক্ত সরবরাহের ফলে দাম নিম্নমুখী থাকবে। প্রতিষ্ঠানটি মনে করছে, বছরের শেষভাগে সরবরাহ যথেষ্ট পরিমাণ বাড়বে। এ বিষয়ে বাজারসংশ্লিষ্ট আরেক প্রতিষ্ঠান লিবেরাম ক্যাপিটাল গত ১৩ এপ্রিল এক বিশ্লেষণে জানায়, বছরের দ্বিতীয় ভাগেই আকরিক লোহার দাম টনপ্রতি ৪০ ডলারের নিচে নেমে আসবে। এরপর বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে দাম ৪৪ ডলারে আসবে। বিশ্বের বৃহৎ আকরিক লোহা উত্পাদনকারী দেশ অস্ট্রেলিয়া। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব ইন্ডাস্ট্রিজের প্রান্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে প্রতি টন আকরিক লোহা গড়ে ৪৫ ডলারে (৬০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার) লেনদেন হতে পারে। পাশাপাশি আগামী বছর দাম বেড়ে টনপ্রতি ৫৬ ডলারে লেনদেন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ২০১৮ সালে একই পরিমাণ পণ্য ৬১ ডলার ৪০ সেন্টে বিক্রি হতে পারে। ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২০২১ সাল নাগাদ টনপ্রতি আকরিক লোহার দাম ৬৪ ডলার ৭০ সেন্টে পৌঁছাতে পারে। ইস্পাত তৈরিতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে আকরিক লোহা। অস্ট্রেলিয়ার বিএইচপি বিলিটন এবং রিও টিন্টোর পাশাপাশি গিনা রেইনহার্ট রয় হিল থেকেও আকরিক লোহা উত্তোলন বাড়তির দিকে রয়েছে। দেশটির শীর্ষ খনিজ উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান রিও টিন্টোয় পণ্যটির উত্তোলন বাড়ায় তা রপ্তানি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। জানা যায়, বিশ্বের বৃহৎ দুই আকরিক লোহা রপ্তানিকারক দেশ অস্ট্রেলিয়া ও ব্রাজিল। ২০২১ সালে পণ্যটির বৈশ্বিক লেনদেনের ৯০ শতাংশের বেশি দখলে থাকতে পারে এ দুই দেশের। চলতি বছর যেখানে বৈশ্বিক আকরিক লোহা লেনদেনে অস্ট্রেলিয়া এবং ব্রাজিলের রয়েছে ৭৭ শতাংশ অংশীদারত্ব। ব্লুমবার্গ, বিজনেস ইনসাইডার, বিডিলাইভ।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর