বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ!
বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ!
২০১৬-০৪-১৭ ০২:৪৫:৩৪
প্রিন্টঅ-অ+


চট্টগ্রামের বাঁশখালিতে তৈরি হচ্ছে কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজও হয়ে গেছে অনেক খানি। এতদিন ধরে সেখানে কাজ চলছে কিন্তু সেখানে তেমন জোরালোভাবে কোন আপত্তি তুলেনি। এখন অনেক দূর কাজ চলে যাওয়ার পর একটি গোষ্ঠী আপত্তি তুলে বলছে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করতে দেওয়া হবে না। কাজ বন্ধ করার জন্যও চাপ দিচ্ছে। এই নিয়ে আন্দোলনও জমে উঠেছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলেছিলেন যৌক্তিক দাবিতে আন্দোলন হলে কোন বাঁধা দেওয়া হবে না। এই কারণে পুলিশের তরফ থেকে কোন বাঁধা দেওয়া হয়নি। আন্দোলনকারীরা সফলভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচিছল। কিন্তু এখন অবস্থার উন্নতি হয়নি। তবে ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বলছে, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবেই হয়তো এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যাপারে আন্দোলন শুরু করেছে।

আন্দোলনের মুখে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাঁশখালি থেকে সড়িয়ে নেওয়ার ব্যাপারেও নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষের উপর চাপ রয়েছে। এস আলমগ্রুপ এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে। সরকারের উপরও চাপ রয়েছে। যদিও সরকার তা পাত্তা দিচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। মিথ্যে কথা বলে অপপ্রচার করা হচ্ছে। আর কেউ কেউ এই ব্যাপারে বিরুদ্ধেও কাজ করতে পারেন। কোন কোন মহলও তৎপর থাকতে পারে। তিনি এটাও বলেছেন কেন এটা হচেছ তাও বুঝেন না বলেছেন। এই ঘটনার পর পরই প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ উপদেষ্টা তৌফিক এলাহী চৌধুরী বলেছেন, এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবেই। কোনভাবেই এটা বাতিল করা হবে না। কাজ অনেক দূর হয়েছে। এত টাকার প্রকল্প কেবল মিথ্যে ধোঁয়া তুলে এটা বাতিল করার কোন সুযোগ নেই। যত আন্দোলই হোক না কেন তা বাস্তবায়িত করা হবে। যারা এর বিরুদ্ধে কাজ করছে তাদেরকে সেখান থেকে সরে আসতে হবে। এটার বিরুদ্ধে কেউ ষড়যন্ত্র করলেও ছাড় দেওয়া হবে না।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বাঁশখালি বিদ্যুৎ কেন্দ্র সরকার নির্মাণ করছে বিদ্যুৎ সংকট নিরসনের জন্য। কিন্তু এটা নিয়ে এতদিন তেমন কোন আপত্তি ছিল না। কিন্তু কোন একটি গোষ্ঠী এখন চট্টগ্রামে এই প্রকল্প বাতিল করানোর জন্য চেষ্টা করছে। এটা সরকারও মনে করছে ষড়যন্ত্র। তবে ঠিক কোন মহল এটা করছে তাদেরকে এখনও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ এই আন্দোলনের পেছনে যারা কাজ করছেন তাদেরকেও বের করে এই ব্যাপারে আইনের মুখোমুখি করতে পারেনি। আন্দোলনের সময়ে মানুষ মারা গেছে।

যদিও কেউ কেউ বিএনপি ও জামায়াতের দিকে আঙ্গুল তোলার চেষ্টা করছে। বলছে যেখানে ঘটনা ঘটেছে সেখানে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এরা কেউ ঘটনা নিরসনে ও আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য এগিয়ে আসেনি। তারা আন্দোলনকারীদের উস্কে দিতে পারে বলে মনে করছে। বিভিন্ন মহল থেকে তাদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এই ব্যাপারে কোন দায় ও দায়িত্ব নিতে রাজি নন। এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ব্যাপারেও তাদের আপত্তি রয়েছে। তবে তারা প্রকাশ্যে কোন আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছে না বা সমর্থন দিচ্ছে না বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে এস আলম গ্রুপের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, আসলে যে ঘটনা বলা হচ্ছে বিষয়টি তা নয়। ঘটনাও তা নয়। আসলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, কৃষিজমি, লবণমাঠ, বসতভিটা ও কবরস্থানে প্রকল্পর কথা বলতে গিয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রকল্প এলাকায় একফসলি জমি (লবণ চাষ করা হয়) ও স্বল্প ভূমিতে ৩৭টি মাটির ঘরের জন্য ১৫০টি পাকা ঘর তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। যাতে ওইসব পরিবারের ভবিষ্যৎ প্রজš§ বসবাস করতে পারে। প্রকল্প এলাকায় কোন কবরস্থান থাকার তথ্যটিও সত্য নয়। নিয়োগ করা আন্তর্জাতিক পরিবেশ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান বলেছে, ভূগর্ভের পানি, গাছপালা এবং বায়ুম-লের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আন্তর্জাতিক সংস্থার এই রকম পরামর্শ পাওয়ার পরেই আমরা বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে আগ্রহী হয়েছি।

তারা বলছে, পরিবেশের ভারসাম্য যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য ভূগর্ভের পানি প্রকল্পে ব্যবহার হবে না, নলকূপও স্থাপন করতে হবে না। পরিবেশের কথা বিবেচনা করে প্রকল্প এলাকার ৩০ শতাংশ জায়গায় সবুজ গাছপালা রোপণ করা হবে। যোগ্যতা অনুযায়ী প্রত্যেক পরিবার থেকে চাকরির সুযোগ দেয়া হবে।

সংবাদমাধ্যমে পরিবেশিত খবরে পুলিশকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে পক্ষ-বিপক্ষ নেয়া দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশে সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে পুলিশের গাড়িবহরে বিদ্যুৎকেন্দ্রবিরোধী পক্ষ বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি ছোঁড়ে।

তারা বলছে, বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে পাওয়া পরিসংখ্যানে জানা যায়, সারাবিশ্বে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৭০ শতাংশই হলো কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। চীনে ৯০ আর ভারতে ৭০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয় কয়লা থেকে। আমেরিকা, জার্মানি ও জাপানের মতো উন্নত দেশেও এই ধরনের প্রকল্প চালু ও সচল রয়েছে।
আমাদের পরিবেশের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কয়লার ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে নতুন সর্বাধুনিক মেশিন আমদানি করা হবে।
এস আলম কর্তৃপক্ষ বলছে, কোনোভাবেই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা না থাকার পরও নিহতদের পরিবারের প্রতি রয়েছে আমাদের সমবেদনা। প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে তাড়াতাড়ি। নিহতদের স্বজন ও আহতদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। আরো তারা বলেছেন, পুলিশ প্রশাসন খুঁজে বের করবে প্রকৃত অপরাধীদেরও।

এস আলম মাসুদ বলেছেন, ন্যায্যমূল্য পরিশোধ করেই জমি কেনা হয়েছে। বরং আগের চেয়ে অনেকগুণ বেশি দাম দেয়া হয়েছে জমির মালিকদের। কাউকে ঠকানোর কোনো প্রশ্নই উঠে না। আর বেশি মূল্য দিয়ে জমি কিনলে পেশিশক্তি নিয়োগের দরকার কি?

কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন পরিবেশ ও জীববৈচিত্র ধ্বংস হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। মৎস্য অভয়ারণ্য বিপন্ন হবে। ইলিশ প্রজননকেন্দ্র ধ্বংস হবে। সূর্য দেখা যাবে না। এলাকা অন্ধকার থাকবে। লবণ চাষ হবে না। গাছপালা হবে না। বৃষ্টিপাত কমে যাবে। এস আলম এর দাবি এগুলোর কোনটাই ঠিক না। কোন কিছুই ধ্বংস হবে না।

আরো বলা হচ্ছে, বর্গাচাষ করা জমি এলাকাবাসীর হাতছাড়া হয়ে যাবে। তারা বাঁচবে কীভাবে? হাজার হাজার মানুষের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে নির্বিচারে গুলি করা হয়েছে। ভারত ও চীনে পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার কারণে কয়লাবিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল হয়েছে। সেইসব প্রকল্প আমদানি করা হবে। আসলে এই সব কথা ঠিক না।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রকল্পটি আত্মঘাতী। আসলে এটা কোন আতœঘাতী নয়। আরো বলা হচ্ছে, এলাকায় আতঙ্ক ও নিহতদের স্বজনদের আহাজারি চলছে। এস আলম বলছে, এটাত আসলে ঠিক না।

এস আলম গ্রুপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, জমি কেনায় দালাল নিয়োগ ও পেশীশক্তি প্রয়োগ করছে। এই ব্যাপারে এস আলম গ্রুপের দাবি, যেদিন সেই এলাকায় সংঘর্ষ হয় সেটি আমাদের প্রকল্প থেকে ৪ কিলোমিটার দূরে। কেন, কী কারণে, কোন উদ্দেশ্যে এই ধরনের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলো সেটি আমাদের কাছেও পরিষ্কার নয়।

তারা বলছে, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উজানটিয়ায় এই প্রকল্পের জন্য প্রথমে জমি কেনা শুরু করা হয়েছিল। এই সময় বাঁশখালীর জনসাধারণ ও স্থানীয় নেতারা আমাদের সাথে যোগাযোগ করে উপকূলীয় এলাকায় প্রকল্পটি করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানায়। ২০১৩ সালের শুরুতে এটি চকরিয়া থেকে বাঁশখালীতে স্থানান্তর করা হয়।

তারা বলছে, প্রকল্পে চীন ও আমাদের অর্থায়ন হবে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। প্রথম ৫ বছরে প্রকল্পে কাজ করবে ৭ হাজার লোক। প্রকল্প নির্মাণ শেষে স্থায়ী কর্মসংস্থান হবে প্রত্যক্ষভাবে ১ হাজার লোকের। পরোক্ষভাবে আরো ৫ হাজার লোকের।

এস আলম বলছে, ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে এলাকা পরিদর্শনে গেলে বিদ্যুৎ সচিব স্থানীয় জনগণ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তখন এলাকাবাসী তাদের জায়গায় বিদ্যুৎ প্রকল্প নির্মাণে নৈতিক সমর্থন দেয়ায় ৮৫৫ একর জমি বাজারমূল্যের চেয়ে বেশি দামে কিনে নেয় আমাদের গ্রুপ।
বিগত ৩০ বছর ধরে মেধা, পরিশ্রম ও আন্তরিকতায় তিলে তিলে গড়ে ওঠা এস আলম গ্রুপের ৪০টি প্রতিষ্ঠানে ৮ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারি সরাসরি কর্মরত রয়েছেন। ক্রমাগত আমদানি করে তেল, চিনি, গমসহ নিত্যপণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রেও আমাদের গ্রুপ বিশেষ অবদান রাখছে।

এসআলম মাসুদের তরফে দাবি করা হয়েছে, শিল্প স্থাপন, ব্যাংক-আার্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও আমদানি বাণিজ্যের মাধ্যমে মুনাফা অর্জনের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ ও দেশের অর্থনীতির গতিকে সচল রাখাই আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। অকারণে অযৌক্তিকভাবে মানুষ হত্যা করে নিজেদেরকে বিতর্কিত করা কোনোভাবেই কারো কাম্য হতে পারে না। তারা মনে করছেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকা-ে ব্যাঘাত সৃষ্টি ও বিদেশি বিনিয়োগ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্য কোনো স্বার্থাম্বেষী মহল ষড়যন্ত্র করছে কি না সেটি খুঁজে বের করার জন্যও আমরা প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

এদিকে কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছে, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। এটা এই বছরেই জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭.০৫ শতাংশ হবে। সেই জন্য চেষ্টাও চলছে। এটা করা সম্ভব হবে। কিন্তু এই প্রবৃদ্ধি যাতে অর্জিত না হয় এই জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ যাতে সরকার নির্বিঘœ ভাবে সরবরাহ করতে না পায় সেই জন্য ষড়যন্ত্র চলছে। কেউ কেউ বলছে, সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনের নামে লুটপাট চলছে। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন বলেছেন, উন্নয়নের নামে যে লুটপাট চলছে সেটা বন্ধ করতে হবে। লুটপাটের কৌশল হিসাবে বিভিন্ন প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। তা করে লুটপাটের অর্থনীতিও গড়ে উঠেছে। সেটাও ভাঙ্গতে হবে। বিদ্যুৎ সংকটের কথা বলে জনগণকে জিম্মি করে তথাকথিত প্রকল্প করা হবে, তা হবে না বাংলাদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে তের হাজার। চাইলে এগারো হাজার উৎপান করতে পারে। কিন্তু শুক্রবার সর্বোচ্চ আট হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। আমার কথা হলো ১১ হাজার সক্ষমতা থাকলে আট হাজার কেন উৎপাদন হবে। এর উত্তরে যারা এর সঙ্গে জড়ি তারা বলে, উৎপাদন বেড়েছে কিন্তু বিতরণ ব্যবস্থা ভাল নয়। এই কারণে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। আমাদের কথা হলো তাহলে এত বড় বড় প্রকল্প করবো কেন?

সরকারের একজন সিনিয়র মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা আরো সচল করার জন্য ও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে হবে। এই জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করতে হবে। সেখানে উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে দেশে নানা ধরনের কলকারখানা গড়ে উঠবে। শিল্প খাতে উন্নয়ন হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দাবি চলতি অর্থবছরে জিডিপির প্রবৃদ্ধির হার ৭.০৫ শতাংশ হবে। বিএনপি দাবি, সরকারের এই দাবি সত্য নয়। প্রবৃদ্ধির হার এবারই প্রথমবার সাত ছাড়াতে যাচ্ছে না। এটা অনেক আগেই বিএনপি সরকারের আমলে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এটা নতুন নয় ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরের ঘটনা। ওই সময়ে জিডিপির প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো ৭.০৬ শতাংশ। বিএনপির আরো দাবি প্রবৃদ্ধির হার ৭.০৫ হতে হলে দেশে বিনিয়োগের হার হতে হবে ৩০ শতাংশ। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। বিনিয়োগের হার এখন ২৮শতাংশ। পরিকল্পনা মন্ত্রী মোস্তফা কামাল বলেছেন, চলতি অর্থবছর দেশে মোট জিডিপির ২৯ দশমিক ৬৮ শতাংশ বিনিয়োগ হয়েছে। গত অর্থবছর এই হার ছিল ২৮ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার উন্নয়নের নামে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকার জনগণকে বিভ্রান্ত করছে। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৭.০৫ শতাংশ হবে তা অবাস্তব। ৭.০৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে ৩০ শতাংশ বিনিয়োগ লাগবে। এখন বিনিয়োগ ২৮ শতাংশে দাঁড়িয়ে আছে। তাই বলা যায়, এই পরিমাণ বিনিয়োগ দিয়ে প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশর চিন্তা সম্পূর্ণ অবাস্তব। ফখরুল বলেন, দেশে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ হচ্ছে না। সরকারের হিসাবে ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগ গত বছরের জিডিপির শতকরা ২২ দশমিক ০৭ ভাগ থেকে চলতি অর্থ বছরে জিডিপির শতকরা ২১ দশমিক ৭৮ ভাগে নেমে এসেছে। ব্যক্তি খাতে বিনিয়োগের এই নেতিবাচক পরিস্থিতিতে জিডিপির প্রবৃদ্ধির দাবি অসঙ্গতিপূর্ণ বলেও মত দেন।
বিএনপির দাবি সরকারের এই রিপোর্ট সত্য নয়। কারণ সরকার চাপ দিয়ে পরিসংখ্যান ব্যুরো দিয়ে এই রিপোর্ট প্রকাশ করিয়েছে। সরকারের এই সব কথায় জনগণকে বিভ্রান্ত না হওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে। সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যানের চমকে জনগণকে বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এটা সরকারের নেহাতই পরিসংখ্যানের চমক। আমরা মনে করি, জনগণকে বিভ্রান্ত করে ক্ষমতায় টিকে থাকাই এ সরকারের মূল উদ্দেশ্য। সেজন্য তারা মিথ্যা পরিসংখ্যান দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে।
বিএনপির সিনিয়র নেতারা মনে করেন, বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির যে কথা বলা হচ্ছে সেটা বাংলাদেশের সার্বিক কল্যাণের সূচক নয়। কারণ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারিদের বেতন বাড়ানোর কারণে এটা হয়েছে। সরকার উন্নয়নের নামে দেশে লুণ্ঠনের রাজত্ব কায়েম করেছে।

বিএনপির আরো দাবি, সরকার এটাও দাবি করেছে, এবারই দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মত মোট জিডিপি ৭ শতাংশ হবে। সরকারের এই দাবি ঠিক নয় বলে। মির্জা ফখরুল ইসলাম এর আগে বিএনপি সরকারের বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। ওই সময়ে ২০০৬-২০০৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছিলো ৭.০৬ শতাংশ।

বিএনপি মনে করছে, পরিসংখ্যান ব্যুরো এই হিসাব প্রকাশে তাড়াহুড়োর আশ্রয় নিয়েছে। ফখরুলের দাবি, পৃথিবীর অনেক দেশে বাংলাদেশের বিশাল অংকের পুঁজি পাচার হচ্ছে। পুঁজি পাচার জাতীয় অর্থনীতিকে রক্তশূন্য করে ফেলছে। সরকার রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ বাড়িয়ে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ ঘাটতি পূরণের কৌশল নিয়েছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী মাথাপিছু আয় গত অর্থবছরের ১৩১৬ ডলার থেকে চলতি অর্থ বছরের ১৪৬৬ মার্কিন ডলারে বেড়েছে। মাথাপিছু আয় ব্যাপক জনগোষ্ঠীর প্রকৃত কল্যাণের সূচক নয়। এর জন্য আয় বৈষম্যের সূচক জানতে হবে। তার দাবি বাংলাদেশে আয় বৈষম্য বাড়ছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জাতীয় আয় নির্ধারণে ভিত্তি বছর পরিবর্তন করা হয়েছে। এর ফলে ২০০৯ সালে মাথাপিছু আয় ১২১ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছিলো, যা নেহায়েতই পরিসংখ্যানগত চমক। বাস্তবে সাধারণ মানুষের অবস্থার কোন পরিবর্তন ঘটেনি। এ কারণেই পরিসংখ্যানের চমকে বিভ্রান্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

উল্লেখ, সম্প্রতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের জুলাই-মার্চ নয় মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিসংখ্যান ব্যুরো মাথাপিছু আয় ও প্রবৃদ্ধির হিসাব প্রকাশ করে উল্লেখ করে, চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়ে ১ হাজার ৪৬৬ ডলার হবে। প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ। যা এডিবি ও বিশ্ব ব্যাংকের পূর্বাভাসের ৬ দশমিক ৭ শতাংশর চেয়ে বেশি।

এদিকে এই প্রবৃদ্ধির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত গতবছর টানা তিন মাস আন্দোলনের নামে নাশকতা না করলে এক বছর আগেই বাংলাদেশ ওই প্রবৃদ্ধি পেতে পারতো।

ফখরুলের দাবি, অন্য বছর নয় মাসের তথা তিন প্রান্তিকের পূর্ণাঙ্গ হিসাব পেয়ে জিডিপির প্রাক্কলন করা হয়। সব হিসাব পাওয়া যায় এপ্রিলের শেষে। কিন্তু তা না করে এবার তাড়াহুড়ো করে প্রাক্কলন প্রকাশ করা হয়। এটা উদ্দেশ্যমূলক। সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন-ভাতা দ্বিগুণ বাড়ায় এবার জিডিপি প্রাক্কলন বেড়েছে। যা এককালীন বৃদ্ধি বলেও দাবি করেন। বিএনপির দাবি, প্রবৃদ্ধির হার বাড়ার সঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধির হার

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর