যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে মাইক্রোসফটের মামলা
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে মাইক্রোসফটের মামলা
২০১৬-০৪-১৬ ০১:৩১:১১
প্রিন্টঅ-অ+


ব্যক্তিগত তথ্যভাণ্ডারে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের তদন্ত সংস্থাগুলোর প্রবেশের আগে ব্যবহারকারীকে জানানোর অধিকার চেয়ে মামলা করেছে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট।

গত ১৮ মাসে ব্যক্তি তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশের গোপন সুযোগ চেয়ে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ৫ হাজার ৬২৪টি অনুরোধের পর প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা এই প্রতিষ্ঠান মামলার সিদ্ধান্ত নেয় বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
মাইক্রোসফট বলছে, ওইসব অনুরোধের অর্ধেক আদালতের মাধ্যমে এসেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান পরিপন্থী।

সংবিধানে আছে, সরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান কোনো নাগরিকের ব্যক্তিগত সম্পদে তল্লাশি চালাতে চাইলে বা জব্দ করতে চাইলে সে বিষয়ে জানা ওই নাগরিকের অধিকার।

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ মাইক্রোসফটের দায়ের করা মামলাটি পর্যালোচনা করে দেখছে বলে জানিয়েছেন মুখপাত্র এমিলি পিয়ার্স।

মাইক্রোসফটের আইনজীবীরা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, ভৌত কাঠামোতে সংরক্ষিত থাকুক বা অন্তর্জালে থাকুক নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের অধিকার শুধুমাত্র তার নিজের- এই বিবেচনায় মামলাটি করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে এই ধরণের অনুরোধের মাধ্যমে সরকার অনলাইন সংরক্ষণাগারকে গোপন তল্লাশি ও ক্ষমতার বিস্তারের জন্য ব্যবহার করে আসছে বলেও ধারণা করছে মাইক্রোসফট।

এর আগে মাইক্রোসফটের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপলও যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের কাছে এই ধরণের বেশ কয়েকটি অভিযোগ করে জাতীয় নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার বিষয় সমন্বিত করে নতুন আইন করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিবিসি বলছে, মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইলেকট্রনিক কমিশন প্রাইভেসি অ্যাক্ট (ইসিপিএ)’ ঘিরেই প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিযোগ। ৩০ বছর আগে প্রণীত ওই আইন ‘নির্যাতনের হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে প্রতিষ্ঠানগুলোর ধারণা।

বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছে বলে সম্প্রতি এক ব্লগ পোস্টে বলেছেন মাইক্রোসফটের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান আইন কর্মকর্তা ব্র্যাড স্মিথ।
“এই মামলাকে ‘হালকাভাবে’ দেখার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বিশ্বাস করি, সরকার কখন ইমেইল ও অন্যান্য তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশ করে তা কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জানার অধিকার আছে।”
ইমেইল সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ব্যবহারকারীর অজান্তে তথ্য চেয়ে তা গোপন রাখার অনুরোধ ‘বাড়াবাড়ির পর্যায়ে’ চলে গেছে বলে মনে করেন তিনি।
“আমরা মনে করি, এটা অনেকদূর গড়িয়েছে। আমরা আদালতের কাছে এটি ঠেকানোর আবেদন জানিয়েছি।”
স্মিথ বলেন, কিছু কিছু বিশেষ ঘটনায় এই ধরনের অনুরোধ গোপন রাখা যায়। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর এই সংক্রান্ত ‘ধারাবাহিক’ অনুরোধ মাইক্রোসফটকে বিব্রত করছে।
“আমরা জানতে চাই, যে তথ্যের কথা বলে এসব অনুরোধ করা হচ্ছে, তা সত্যিই এতোটা গোপনীয়তা দাবি করে কি না। এই ধরনের গোপনীয় আদেশ প্রতিনিয়ত দৃশ্যমান হচ্ছে।”
ইসিপিএ আইনটি প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে ‘অজনপ্রিয়’ উল্লেখ করে বিবিসি জানিয়েছে, আইনটি সংশোধনে এরই মধ্যে কংগ্রেসে কার‌্যক্রম শুরু হয়েছে।
মাইক্রোসফট বলেছে, তারা আইনের সংশোধনীতে ‘গ্রহণযোগ্য বিধান’ যুক্ত দেখতে চায়, যাতে ব্যবহারকারীরা তাদের তথ্য অন্যের ব্যবহারের বিষয়ে জানতে পারে।
ডিজিটাল অধিকারের প্রচারে কাজ করা সংগঠন ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন (ইএফএফ) মাইক্রোসফটের এ পদক্ষেপকে সমর্থন জানিয়েছে।
এক ইমেইল বার্তায় সংগঠনটির স্টাফ অ্যাটর্নি অ্যান্ড্রু ক্রুকার বিবিসিকে বলেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সরকারের গোপন অনুরোধ সংবিধান পরিপন্থী। কারণ এর মাধ্যমে বাক স্বাধীনতা ও প্রথম সংশোধনী নাগরিকদের যে অধিকার দিয়েছে তা ক্ষুণ্ন হয়।”
সরকারের বিরুদ্ধে মামলায় মাইক্রোসফটকে সহযোগিতা করার আগ্রহও প্রকাশ করেন এই আইনজীবী।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিদেশ এর অারো খবর