ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের নির্দেশ শেখ হাসিনার
ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের নির্দেশ শেখ হাসিনার
২০১৬-০৪-১২ ০৪:৫৯:২০
প্রিন্টঅ-অ+


ঢাকা মহানগর পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সোমবার গণভবনে ঢাকা মহানগর, থানা ও ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের নব গঠিত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ নিদের্শ দেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘সবাইকে নিয়ে চলতে হবে। ত্যাগীরা যেন বাদ না পড়ে সে বিষয়টি নতুন নেতৃত্বকে দেখতে হবে। সবাই বসে মিলেমিশে পূর্নাঙ্গ কমিটি গঠন করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি নগরবাসীকেও সজাগ ও সচেতন করতে হবে। কেউ যাতে সন্ত্রাস কিংবা জঙ্গিবাদে লিপ্ত হতে না পারে সেজন্য সর্বত্র কঠোর নজরদারি করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে শুধু বক্তৃতাই নয়, সামাজিক দায়িত্বও পালন করতে হবে। আমরা শক্তহাতে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ দমন করেছি বলেই দেশের মানুষ আজ সুখে-শান্তিতে রয়েছে, দেশ আজ সব দিক থেকে এগিয়ে চলেছে। এই উন্নয়নের গতিধারাকে অব্যাহত রাখতে হবে।’

সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণের নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘অতীতে আওয়ামী লীগের ওপর বার বার আঘাত এসেছে, কিন্তু কেউ ভীত নড়াতে পারেনি। কারণ আওয়ামী লীগের শিকড় অত্যন্ত গভীরে ও শক্তিশালী। তাই জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন এবং চলমান দেশের উন্নয়নের গতিধারাকে অব্যাহত রাখতে সংগঠনকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে, দেশের জনগণের জন্য যে কোনো ত্যাগ স্বীকারে সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোটের সরকার উৎখাতের আন্দোলনের নামে জ্বালাও-পোড়াও ও নির্বিচারে পুড়িয়ে মানুষ হত্যার কঠোর সমালোচনা করে বলেন, ‘বাংলাদেশ একমাত্র বঙ্গবন্ধুর আমলে প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগের ওপরে অর্জন করেছিল। এরপর এবার তার হাতে গড়া রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের আমলে দেশ ৭ ভাগ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছে। আর কেউ করতে পারেনি।’

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার উৎখাতের নামে তিনটি মাস ধরে দেশজুড়ে জ্বালাও-পোড়াও, ধ্বংসযজ্ঞ এবং পুড়িয়ে পুড়িয়ে মানুষ হত্যা না করতো, দেশবাসীকে জিম্মি করে কষ্ট না দিত, তবে দেশের প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগের ওপরে অনেক আগেই উঠতো।’

তিনি বলেন, ‘দেশে নির্বাচন হচ্ছে, এটা হতেই থাকবে। আগামীতেও নির্বাচন হবে। আমরা স্থানীয় সরকারগুলোও দলীয় প্রতীকের মাধ্যমে নির্বাচনের ব্যবস্থা করে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করছি।’

অনুষ্ঠানের শুরুতেই ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি এ কে এম রহমতউল্লাহ এমপি ও সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত ও শাহে আলম মুরাদ প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।

এসময় মঞ্চে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম এবং উত্তর-দক্ষিণ কমিটির গঠনে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালনকারী কেন্দ্রীয় নেতা ড. আবদুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খানসহ মহানগরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত নগর নেতাদের পোড়াবাড়ীর চমচম দিয়ে আপ্যায়িত করেন প্রধানমন্ত্রী।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর