রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হবে আগামী বছর
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হবে আগামী বছর
২০১৬-০৪-১১ ০৪:২১:২০
প্রিন্টঅ-অ+


রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণের মূল কাজ শুরু হচ্ছে আগামী বছর। এজন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। সহযোগী বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণও সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুত্ উত্পাদনে পারমাণবিক চুল্লি (রি-অ্যাক্টর) ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি স্থাপনে মাটির গুণগত মানোন্নয়নের কাজ চলছে। আগামী বছরের আগস্টে মূল বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণ শুরু করা হবে। এ কেন্দ্রে বিদ্যুত্ উত্পাদনে ইউনিটপ্রতি ব্যয় হবে সাড়ে ৩ টাকা।

শনিবার পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র পরিদর্শনে দেখা যায়, রাশিয়ার সহায়তায় দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে প্রাথমিক কাজ। এরই মধ্যে নির্মাণ করা হয়েছে তথ্য সংগ্রহ কেন্দ্র, ওয়াচ টাওয়ার, ওয়েদার ইনফরমেশন ও সিসমিক ইনফরমেশন সেন্টার। চলছে আরো কিছু ভবন নির্মাণ। প্রকল্পের বিশাল এলাকাজুড়ে চলছে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি ও লেভেলিংয়ের কাজ। বিদ্যুেকন্দ্রটি নির্মাণ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রসাটম স্টেট নিউক্লিয়ার করপোরেশন।

সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগের সুবিধার্থে পদ্মা নদীর তীরে পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রটি নির্মাণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম। কেন্দ্রের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে কম্পোজিট ব্রিগেড। সমীক্ষা পর্যালোচনা ও নকশা মূল্যায়নসহ সংশ্লিষ্ট কাজের পরামর্শক হিসেবে ভারতীয় একটি প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর পারমাণবিক চুল্লি স্থাপন করা হবে তৃতীয় প্রজন্মের অত্যাধুনিক ভিবিআর-১২০০ প্রযুক্তির।

১ হাজার ২০০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ পাওয়া যাবে রূপপুরের কেন্দ্রটি থেকে। রাশিয়ার ঋণে বিদ্যুেকন্দ্রটি নির্মাণে ব্যয় হবে ১ হাজার ৩২০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ১ হাজার ১৩৯ কোটি ডলার ঋণ হিসেবে দেবে রাশিয়া। সহজ শর্তের এ ঋণ পরিশোধে সময় পাওয়া যাবে ২৮ বছর। প্রকল্পের বাকি অর্থ সরকার সরবরাহ করবে।

রূপপুরে শনিবার সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, পদ্মা নদীর পাড়ে বিদ্যুেকন্দ্রটি নির্মাণে ১ হাজার ৬১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ের গ্রাউন্ডের কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করা হবে। প্রথম ইউনিট নির্মাণ করা হবে ২০২২ সালে। আর বাংলাদেশের কাছে রাশিয়া তা হস্তান্তর করবে ২০২৩ সালে। দ্বিতীয় ইউনিট চালু করা হবে ২০২৩ সালে, যা পরের বছর হস্তান্তর করবে রাশিয়া।

তিনি আরো বলেন, কেন্দ্রটির ইকোনমিক লাইফ ধরা হয়েছে ৫০ বছর। তবে কমপক্ষে ৮০ বছর বিদ্যুত্ পাওয়া যাবে দুই ইউনিট থেকে। ফাস্ট-ট্র্যাক প্রজেক্ট মনিটরিং টাস্কফোর্স কমিটি গঠনের মাধ্যমে তদারকি চলছে প্রকল্পের কাজের।

রাশিয়ার পক্ষে নির্মাণ তদারকি পরিচালক পাভেল ভি বালাসভ সাংবাদিকদের বলেন, ২০২২ সালেই প্রথম ইউনিট উত্পাদনে যাবে। এজন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ শেষ পর্যায়ে। এটা শেষ হলে মূল নির্মাণকাজ শুরু হয়ে যাবে। পাঁচ স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনীর এ প্রকল্প ৮ মাত্রার ভূমিকম্প সহনশীল। এমনকি এ প্রকল্পের ওপর উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হলেও কোনো ক্ষতি হবে না।

প্রকল্প পরিচালক ড. শওকত আকবর বলেন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জন্য রাশিয়ার নব উদ্ভাবিত ও উন্নত ‘কোর ক্যাচার’ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রে ব্যবহার হবে। এতে যেকোনো জরুরি অবস্থায় পারমাণবিক চুল্লির জ্বালানি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভেতরে এসে জমা হবে এবং তা বন্ধ হয়ে যাবে। এতে তেজস্ক্রিয়া বাইরে ছড়িয়ে পড়ার কোনো ঝুঁকি থাকবে না।

তিনি আরো জানান, সাধারণ চুক্তির আওতায় বিদ্যুেকন্দ্রের বিস্তারিত নকশা প্রণয়ন, নির্মাণ, কমিশনিং ও চালুকরণ, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ, প্রয়োজনীয় নিউক্লীয় জ্বালানি সরবরাহ, বিদ্যুত্ উত্পাদন শেষে তার উচ্ছিষ্ট তেজস্ক্রীয় সামগ্রী ফেরত নেয়া— সবই রাশিয়া করবে। এছাড়া বিদ্যুেকন্দ্রটি পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণে কারিগরি সহায়তা, জনবল প্রশিক্ষণ, বিকিরণ পর্যবেক্ষণ ও জরুরি অবস্থা মোকাবেলার জন্য অবকাঠামো স্থাপন এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত জনবল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে রাশিয়া।

বিদ্যুেকন্দ্রের কুলিং সিস্টেম কার্যকর রাখতে প্রয়োজনীয় পানির বিষয়ে জানতে চাইলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার হোসেন জানান, নির্মাণ পর্যায়ে দৈনিক ১ হাজার ৭৫০ ঘনমিটার পানি এবং বিদ্যুেকন্দ্র পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণে ৮১ মিলিয়ন ঘনমিটার পানির প্রয়োজন। তবে এ পানি রিসাইকেলের মাধ্যমে পুনরায় ব্যবহার করা হবে। ফলে পানির প্রয়োজন হবে খুবই কম। চুল্লি ঠাণ্ডা করতে ব্যবহূত পানি আগে থেকেই জমা রাখা হবে। তা বারবার ব্যবহার করা হবে।

উল্লেখ্য, বিদ্যুেকন্দ্রটি পরিদর্শনের আয়োজন করে তথ্য অধিদপ্তর। ফাস্ট-ট্র্যাকভুক্ত ছয়টি মেগাপ্রকল্প ক্রমান্বয়ে পরিদর্শনের অংশ হিসেবে শনিবার এ আয়োজন করা হয়। আয়োজনের নেতৃত্বে ছিলেন উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা (প্রেস) মাহফুজুর রহমান।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর