বিলাসবহুল ১০ গাড়ির সন্ধানে শুল্ক কর্মকর্তারা
বিলাসবহুল ১০ গাড়ির সন্ধানে শুল্ক কর্মকর্তারা
২০১৬-০৪-১১ ০৪:১৮:০২
প্রিন্টঅ-অ+


শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিলাসবহুল অন্তত ১০টি গাড়ি সিলেট নগরীতে চলাচলের তথ্য পেয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দিয়ে চলাচলকারী এসব গাড়ি জব্দ করতে মাঠে নেমেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এদিকে গত শুক্রবার সিলেট নগরীর মজুমদারি এলাকায় শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ি আটক করেন শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা। পরে গাড়িটি পার্শ্ববর্তী আম্বরখানা এলাকার বিএম টাওয়ারে নেয়া হয়। সেখান থেকে গাড়ির মালিক সেটিকে সরিয়ে নেন বলে অভিযোগ ওঠে। তবে শনিবার রাতে ২ কোটি টাকা মূল্যের মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়িটি আবারো জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছেন শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক প্রভাত কুমার সিংহ।

এর আগে ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর নগরী থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা দুটি পাজেরো জিপ উদ্ধার করে পুলিশ। জিপ দুটি বর্তমানে সিলেট কোতোয়ালি থানায় রয়েছে।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কারনেট সুবিধা নিয়ে শুল্ক ছাড়াই সিলেটের প্রবাসীরা যুক্তরাজ্য থেকে কোটি টাকা মূল্যের গাড়ি নিয়ে দেশে আসেন। পরে গাড়িগুলো ফেরত না নিয়েই তারা যুক্তরাজ্যে ফিরে যান। দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় গাড়ি বিকল হয়ে গেছে বা চুরি হয়ে গেছে, এমন অজুহাত দেখিয়ে কারনেটকে ক্ষতিপূরণ বাবদ গাড়ির দাম দিয়ে বিষয়টি রফা করে থাকেন তারা। পরবর্তী সময়ে কারনেট সুবিধা নিয়ে শুল্ক ছাড়া আনা গাড়িগুলো জাল কাগজের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করা হয়।

সূত্রমতে, পর্যটন সুবিধায় আনা গাড়িগুলোর মাত্র ১০ শতাংশ ফেরত যাচ্ছে। বাকি প্রায় ৯০ শতাংশই থেকে যাচ্ছে দেশে। ফিরে যাওয়ার তালিকায় তাও আবার কেবল বিভিন্ন বিদেশী সংস্থার গাড়িই বেশি। শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা মার্সিডিজ বেঞ্জ, অডি, বিএমডব্লিউ, জাগুয়ার থেকে শুরু করে বিশ্বের নামিদামি ব্র্যান্ডের গাড়ি রয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, বিভিন্ন সময় এভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ১০টি বিলাসবহুল পাজেরো জিপ ও প্রাইভেটকার ভুয়া রেজিস্ট্রেশন নাম্বার লাগিয়ে সিলেট নগরীতে চলাচল করছে। মার্সিডিজ বেঞ্জ প্রাইভেটকারের সন্ধান পাওয়ার পর তদন্তে নামেন শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তারা। তবে তারা তত্পর হওয়ার পর হঠাত্ করে রাস্তায় গাড়িগুলোর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

প্রভাত কুমার সিংহ বলেন, ‘মজুমদারি থেকে শুল্ক ফাঁকির কোটি টাকার গাড়ি উদ্ধারের পর অবৈধভাবে আনা গাড়ির মালিকরা সতর্ক হয়ে গেছেন। তারা গাড়িগুলো সিলেট থেকে সরিয়ে নিয়েছেন। তবে গাড়িগুলোর সন্ধান পেতে সিলেটসহ বিভিন্ন স্থানে ফাঁদ পেতে রাখা হয়েছে।’

এদিকে জব্দকৃত মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ির সঙ্গে এর মালিক যুক্তরাজ্য প্রবাসী আবদুল মালেকের একটি আবেদনপত্র পাওয়া গেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বরাবর আবেদনপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০১২ সালে কারনেট সুবিধা নিয়ে তিনি গাড়িটি বাংলাদেশে এনেছিলেন। গাড়িটি রেজিস্ট্রেশন করার জন্য তিনি চেষ্টা করছিলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি গাড়িটি বিএম টাওয়ার থেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। পরে জানতে পারেন, এনবিআর গাড়িটি খুঁজছে। তাই গাড়িটি এনবিআরের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এনবিআরের নিয়ম অনুসরণের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে প্রভাত কুমার সিংহ বলেন, গাড়িটি নিজ জিম্মায় নিতে হলে আবদুল মালেককে প্রায় ৩ কোটি টাকা শুল্ক দিতে হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিবিধ এর অারো খবর