বাজেট হতে পারে ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা
বাজেট হতে পারে ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা
২০১৬-০৪-০৮ ০১:৩৬:১৪
প্রিন্টঅ-অ+


আগামী অর্থবছরের বাজেটের আকার ৩ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

অর্থমন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদে এ বাজেট উপস্থাপন করা হবে আগামী ২ জুন এবং এবারই প্রথম বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে ‘মেগা প্রকল্প বাজেট’ এবং ‘ক্যাপিটাল বাজেট’ নামে দুটি আলাদা বাজেট দেওয়ার চিন্তা রয়েছে তাঁর।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক মধ্যাহ্নভোজ সভা ও ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রাক্-বাজেট আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

রাজধানীর মতিঝিলে এমসিসিআইয়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান। এমসিসিআইয়ের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর এতে সূচনা বক্তব্য দেন। আর পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনা করেন সংগঠনের শুল্ক ও কর উপকমিটির চেয়ারম্যান আদিব এইচ খান।

আলোচনায় অংশ নেন বিভিন্ন খাতের শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীরা। অর্থমন্ত্রীকে এ সময় নোট নিতে দেখা গেছে। সবার বক্তব্য শোনার পর কথা বলেন অর্থমন্ত্রী এবং আগামী বাজেটের সম্ভাব্য কিছু বিষয়ে ধারণা দেন।

২০১৭ সালে নতুন শুল্ক আইন এবং ২০১৮ সালে আয়কর আইন করার ঘোষণা দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনীতি এখন এমন জায়গায় পৌঁছাচ্ছে যে, আমাদের দরকার এখন বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা।’ সেই কারণেই বড় প্রকল্পের জন্য আলাদা বাজেট করতে চান তাঁরা।

আগামী বাজেটের জন্য এমসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে ছয়টি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেওয়া হয় অর্থমন্ত্রীকে। এগুলো হচ্ছে আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আনা, করকাঠামো যৌক্তিক করা, মুদ্রা বিনিময় হার সমন্বয়, ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ বন্ড চালু, করজাল বৃদ্ধি ও করব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির আওতায় আনা এবং সব শিল্পের জন্যই সমান সুযোগ তৈরি।
পরামর্শগুলোর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আগামী বাজেটে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেন মেট্রো চেম্বারের সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। তিনি বলেন, দেশের ব্যাংক তথা আর্থিক খাতের সুশাসনব্যবস্থা খুবই দুর্বল। রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক এবং কিছু বেসরকারি ব্যাংকেও দুর্নীতি হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে অর্থনীতিতে। পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যাংক খাত থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা অবৈধভাবে বেরিয়ে গেছে। এটা যদি সত্যি হয়, ব্যাপারটি তাহলে খুবই গুরুতর। আগামী বাজেটে তাই এমন কিছু নীতি পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে স্বেচ্ছা-ঋণখেলাপি সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা যায় এবং ভালো ঋণগ্রহীতাদের পুরস্কৃত করা যায়।

নাসিম মঞ্জুর বলেন, এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৯০ শতাংশ সঞ্চয়পত্র কিনে থাকে ১০ শতাংশ মানুষ। এই ১০ শতাংশকে সুবিধা দেওয়ার বোঝা বইতে হচ্ছে গোটা অর্থনীতিকে। বদলে বরং আগামী বাজেটে বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিক, মুক্তিযোদ্ধা, বিধবা-সমাজের এসব শ্রেণির জন্য বিশেষ বন্ড চালু করা যায়।

মুদ্রা বিনিময় হার সমন্বয় করার বিষয়ে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধির উদাহরণ টানেন নাসিম মঞ্জুর। তিনি বলেন, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ, যা আগের ১৩ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ২০১৪ সালের অক্টোবরে ইউরোর মূল্যমান ১০০ টাকা থাকলেও ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে তা দাঁড়ায় ৮৭ টাকা। রপ্তানিতে প্রধান প্রতিযোগী দেশ ভারত, চীন ও ভিয়েতনাম বিনিময় হার সমন্বয় করেছে। তাই আগামী বাজেটে এমন কিছু পদক্ষেপ থাকা উচিত, যাতে রপ্তানি না কমে।

আদিব এইচ খানের উপস্থাপনায় অর্থ আইন ২০১১-এর বিভ্রান্তিকর কিছু ধারা বাতিল, বিদেশিদের ভ্রমণকর কমানো, জীবনবিমা পলিসি হোল্ডারদের কর বাতিল ইত্যাদি দাবি জানানো হয়।

বন্ডের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দেখেছি, ঋণের কারণে বিভিন্ন দেশ কীভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। আফ্রিকার কিছু দেশ শুধু আর্থিকভাবে নয়, রাজনৈতিক স্বাধীনতাও হারিয়েছে।’ ভবিষ্যতে তাই বন্ড বাজারকে শক্তিশালী করতে চান বলে জানান তিনি।

বিদেশিদের ভ্রমণকর কমানোর ব্যাপারে ‘প্রতিশ্রুতি দিলাম’ বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। বিমা খাতে নতুন আরোপ করা মূল্য সংযোজন করের (মূসক) বিষয়টি আগামী বাজেটে পুনর্বিবেচনা করা হবে বলেও তিনি জানান।

এনবিআরের চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান অর্থমন্ত্রীর রাজনৈতিক নির্দেশনায় চলছেন এবং আগামী বাজেটকে ব্যবসা, উন্নয়ন ও বিনিয়োগবান্ধব করায় সচেষ্ট থাকবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।

এনবিআরের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আগামী অর্থবছরে অগ্রিম আয়কর ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে।

আলোচনায় অংশ নেন গ্রীন ডেল্টা ইনস্যুরেন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা চৌধুরী, সিটিব্যাংক এনএর কান্ট্রি অফিসার রাশেদ মাকসুদ, মেট্রো চেম্বারের সদস্য হাবিবউল্লাহ এন করিম, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমদ, নেসলে বাংলাদেশের এমডি স্টিফেন নর্দ, সনদপ্রাপ্ত হিসাববিদ হুমায়ুন কবীর প্রমুখ।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর