গ্রামীণফোনকে বিটিআরসির তলব ব্রডব্যান্ড অনিয়মে
গ্রামীণফোনকে বিটিআরসির তলব ব্রডব্যান্ড অনিয়মে
২০১৬-০৪-০৭ ০২:৪২:৩২
প্রিন্টঅ-অ+


মোবাইলফোন অপারেটর গ্রামীণফোন এবং তাদের পার্টনার প্রতিষ্ঠান এডিএন টেলিকম ও অগ্নি সিস্টেমের বিরুদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে ‘গো ব্রডব্যান্ড’ সেবা বাজারে চালিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে।

সম্প্রতি এ সেবা চালিয়ে যাওয়ার ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। আগামী ১৩ এপ্রিলের মধ্যে এর উত্তর দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে এ প্রতিষ্ঠান।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ আনে ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (আইএসপিএবি)। এক মাস পরে গত ৩০ মার্চ বিটিআরসি এর ব্যাখ্যা তলব করে।

টেলিকম অ্যাক্ট, ২০০১ (২০১০ সালে সংশোধিত) অনুসারে, লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ করার জন্য অপারেটরটিকে আর্থিক জরিমানা এমনকি তাদের লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারে কমিশন।

বিটিআরসির চিঠিতে বলা হয়েছে, ছয়টি বিষয়ে তথ্য উপস্থাপন করতে হবে গ্রামীণফোন, এডিএন এবং অগ্নি সিস্টেমকে।

এর মধ্যে রয়েছে- গো ব্রডব্যান্ড কী ধরনের সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান, এটি বিটিআরসির লাইসেন্সপ্রাপ্ত কি না বা কোনো ব্র্যান্ড হলে, তা কমিশনকে অবহিত করা হয়েছে কি না? গো ব্রডব্যান্ড কী কী ধরনের সেবা দিচ্ছে এবং সেটি কীভাবে? গো ব্রডব্যান্ড রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী ব্যাংকের সারা দেশের ব্রাঞ্চগুলোতে ইন্টারনেট সেবা প্রদানের জন্য চুক্তি করেছে, এর কপি কমিশনে জমা দিতে হবে। গো ব্রডব্যান্ড কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে রেভিনিউ শেয়ারিং ও ট্যারিফ প্ল্যান অনুমোদন নিয়েছে কি না এবং নিয়ে থাকলে এর মেয়াদ কী? এডিএন টেলিকম, অগ্নি সিস্টেমস এবং গ্রামীণফোন প্রতিষ্ঠান তিনটি ভিন্ন ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা কী এবং এ চুক্তির কপি কমিশনে জমা দিতে বলা হয়েছে। গো ব্রডব্যান্ড কীভাবে ট্রান্সমিশন স্থাপন করেছে, তার পূর্ণ তথ্য কমিশনে জমা দিতে হবে।
বিটিআরসি সূত্রে জানা যায়, মূলত পাঁচটি বড় ধরনের অনিয়ম করেছে গ্রামীণফোন। এর মধ্যে রয়েছে- গ্রামীণফোন ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিং গাইডলাইন অমান্য করেছে। গাইডলাইন অনুসারে তারা অনুমতি ছাড়া ইনফ্রাস্টকচার শেয়ার বা লিজ দিতে পারে না। গ্রামীণফোন অন্য সব মোবাইলফোন অপারেটরের মত কোনো ওয়্যার কানেটিভিটি দিতে পারে না। তারা ফাইবার কানেকটিভিটি দিচ্ছে, সেটি তারা করতে পারে না। কারণ ফাইবার কানেকটিভিটি দেওয়ার একমাত্র অধিকার রয়েছে এনটিটিএন অপারেটরদের।

গ্রামীণফোন বিটিআরসির অনুমতি ছাড়াই সোনালী ব্যাংকের ৭০০ শাখায় ওয়্যার টেকনলজি ব্যবহার করে ইন্টারনেট কানেকটিভিটি দিচ্ছে। এটাও তারা ওয়াইমেক্স গাইডলাইন অনুসারে করতে পারে না। তারা ওয়াইমেক্স সার্ভিস দাতা প্রতিষ্ঠান কিউবি ও বাংলালায়নের মত মোডেম দিয়েও সেবা দিচ্ছে। এর জন্য তাদের কোনো লাইসেন্স নেই। ওয়াইমেক্স সেবা দেওয়ার জন্য কিউবি ও বাংলালায়ন ২১৫ কোটি টাকায় লাইসেন্স নিয়েছে। সেখানে গ্রামীণফোন এডিএন ও অগ্নির সঙ্গে মিলে সেবাটি দিচ্ছে, যেখানে এডিএন এবং অগ্নির লাইসেন্স ফি ৫ লাখ টাকার নিচে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর