ত্রিপুরায় নির্মিত হচ্ছেভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী উদ্যান
ত্রিপুরায় নির্মিত হচ্ছেভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী উদ্যান
২০১৬-০৪-০৫ ১৬:১০:৪৬
প্রিন্টঅ-অ+


একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ স্মরণে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের চোত্তাখোলায় ২০ হেক্টর জায়গাজুড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী উদ্যান। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাহাড়ঘেরা এই চোত্তাখোলার বেসক্যাম্প থেকেই মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করে মুক্ত করেছিল ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খ্যাত এই চোত্তাখোলায় এবার ত্রিপুরার রাজ্য সরকার নির্মাণ করছে মৈত্রী উদ্যান।

ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলা থেকে ১৩০ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের ফেনী সীমান্তের ওপারের বিলোনিয়া শহর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী এলাকা চোত্তাখোলা। চোত্তাখোলার তৃষ্ণা অভয়ারণ্যের পাশে ২০ হেক্টর জমিতে সাপের মতো বয়ে চলা জলাশয় দিয়ে বিভক্ত সাতটি টিলার ওপর নির্মিত হচ্ছে মূল ভাস্কর্য। সবচেয়ে উঁচু টিলার ওপর রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ৩২ ফুট উচ্চতার একটি ভাস্কর্য। এটি ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের আদলে নির্মাণ করা হয়েছে। এ ছাড়া আরেকটি ১২ ফুট ভাস্কর্য রয়েছে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে। এর সামনেই রয়েছে অস্ত্র হাতে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার ভাস্কর্য। সবুজ বৃক্ষরাজি ঘেরা পাহাড়ের বিচ্ছিন্ন টিলাগুলোকে যুক্ত করতে এবং প্রাকৃতিক আবহ ধরে রাখতে তৈরি করা হয়েছে কাঠের সেতু। ভাস্কর্যের পেছনে নির্মাণ করা হচ্ছে টেরাকোটায় চিত্রিত সাতচলি্লশ থেকে একাত্তর পর্যন্ত বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের নানা দিক নিয়ে স্থাপনা। সেখানে রয়েছে বেশ কয়েকজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সমাধিস্থল।

ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের আমন্ত্রণে সম্প্রতি এই মৈত্রী উদ্যান ঘুরে এসেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। আ ক ম মোজাম্মেল হক সমকালকে বলেন, ভারত বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অনন্য; এটা বলে শেষ করা যাবে না। ফেনী সীমান্তের ওপারে ত্রিপুরার চোত্তাখোলায় গড়ে উঠেছিল মুক্তিবাহিনীর অলিখিত আশ্রয়স্থল। চোত্তাখোলায় মুক্তিকামী বাঙালিদের আশ্রয় দেওয়াসহ বিভিন্নভাবে সহায়তা করেছিল ভারত সরকার ও স্থানীয় জনগণ। তখন মুক্তিবাহিনী চোত্তাখোলায় বেসক্যাম্প স্থাপন করে দেশের ভেতরে প্রবেশ করে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল।

মন্ত্রী জানান, মৈত্রী উদ্যানে এরই মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের আদলে প্রতিকৃতি এবং আমাদের জাতীয় স্মৃতিসৌধের আদলে স্মৃতিসৌধসহ ১৪টি ম্যুরাল ও টেরাকোটা নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। পাহাড়ঘেরা সবুজ বৃক্ষরাজির মধ্যে এই মৈত্রী উদ্যান দেখে যে কোনো ব্যক্তিরই ভালো লাগবে। আগামী নভেম্বরে মৈত্রী উদ্যানের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর পর জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়ে অনানুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের প্রকাশনা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালের ১৬ ডিসেম্বর চোত্তাখোলায় একটি ছোট পার্ক উদ্বোধন করেন ত্রিপুরা রাজ্য সিপিআইএমের মুখপাত্র গৌতম দাস। পার্ক উদ্বোধনের ওই অনুষ্ঠানে গৌতম দাস মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মৃতিচারণ করেন। তিনি ফিরে গিয়ে বিষয়টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারকে জানান। পরে মানিক সরকারের সঙ্গে পরামর্শ করে গৌতম দাস মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই চোত্তাখোলায় একটি বৃহৎ পার্ক স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। সে অনুযায়ী গড়ে তোলা হচ্ছে ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী উদ্যান। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ রুপি।

মুক্তিযুদ্ধের শুরুর দিকে চোত্তাখোলায় ঘাঁটি গড়ে তুলেছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। প্রথম দিকে এই ঘাঁটিতে ট্রানজিট শরণার্থীর ক্যাম্প ছিল। চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা শরণার্থীদের এখানে আশ্রয় দেওয়া হতো। একটু সুস্থ হলে তারা ত্রিপুরার বাইরে চলে যেতেন। একাত্তরের মে মাসে এটি ট্রানজিট ক্যাম্পের পাশাপাশি মুক্তিবাহিনীর শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়। তখন ভারতীয় বাহিনীর সহায়তায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা চোত্তাখোলা থেকেই পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে অপারেশন পরিচালনা করতেন। সে সময় চোত্তাখোলায় শতাধিক বাঙ্কার তৈরি করা হয়। বাঙ্কারগুলো এখনও চোত্তাখোলা মৈত্রী উদ্যানে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বহন করছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিদেশ এর অারো খবর