৫ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন
৫ মামলায় খালেদা জিয়ার জামিন
২০১৬-০৪-০৫ ১৫:৪৮:৪১
প্রিন্টঅ-অ+


নাশকতার তিনটি ও দুর্নীতির একটি মামলায় আত্মসমর্পণ এবং রাষ্ট্রদ্রোহের এক মামলায় আদালতের সমনে হাজিরা দিয়ে পাঁচ মামলাতেই জামিন পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার সকালে তিনি মামলা সংশ্লিষ্ট আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারকরা তা মঞ্জুর করেন। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী একে একে পাঁচ আদালতে হাজিরা দেন। এ সময় আদালতের আশপাশে নেওয়া হয় কড়া নিরাপত্তা। প্রায় তিন ঘণ্টা পর সব মামলায় জামিন পেয়ে আদালত প্রাঙ্গণ ছেড়ে যান খালেদা জিয়া। সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে প্রথমে যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চান খালেদা জিয়া। শুনানি শেষে মহানগর দায়রা জজ (১ নম্বর মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) কামরুল হোসেন মোল্লা তার জামিন মঞ্জুর করেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির সংসদ নির্বাচনের বর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে গত বছরের ৫ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে লাগাতার অবরোধের ডাক দেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এই অবরোধের মধ্যে ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় যাত্রীবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা ছোড়া হলে ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে নূর আলম (৬০) নামের এক ব্যক্তি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ ফেব্রুয়ারি মারা যান। ওই ঘটনায় একই বছরের ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে দুটি মামলা করে যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ। এ মামলায় জামিন পেয়ে খালেদা জিয়া একই ভবনের ছয় তলায় ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে গ্যাটকো দুর্নীতি মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন চান। এ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার শুনানি শেষে এক লাখ টাকা মুচলেকায় বিএনপি চেয়ারপারসনের জামিন মঞ্জুর করেন। এ মামলার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে খালেদার একটি রিট আবেদন খারিজ হওয়ায় হাইকোর্ট তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। এরপর খালেদা জিয়া পাশের ভবনে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে যান। সেখানে যাত্রাবাড়ী থানায় নাশকতার ঘটনায় দণ্ডবিধি আইনে করা মামলা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে মন্তব্য করায় রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা এবং গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় জামিন নেন। এর মধ্যে যাত্রাবাড়ী থানার হত্যা মামলায় আত্মসমর্পণের পর তার জামিন মঞ্জুর করেন মহানগর হাকিম রাশেদ তালুকদার। গুলশানে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণের মামলায় খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করা হয়েছিল। এ মামলায় তিনি আত্মসমর্পণ করার পর মহানগর হাকিম কায়সারুল আলম তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদীর করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় আদালত খালেদা জিয়াকে তলব করেছিল। তিনি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন চাইলে মহানগর হাকিম জাকির হোসেন টিপু তা মঞ্জুর করেন। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জয়নাল আবেদীন, এ জে মোহাম্মদ আলী, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার এবং খুরশীদ মিয়া আলম প্রমুখ। এসময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা ও দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা স্লোগান দেন। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

আইন ও অধিকার এর অারো খবর