কার্ড জালিয়াত শনাক্ত করেছে পুলিশ
কার্ড জালিয়াত শনাক্ত করেছে পুলিশ
২০১৬-০৩-৩১ ০১:৫৭:১৪
প্রিন্টঅ-অ+


এটিএম কার্ড ও পয়েন্টস অব সেল (পিওএস) যন্ত্র জালিয়াতি করে দেশি-বিদেশিদের টাকা তুলে নেওয়ার সঙ্গে জড়িত চক্র নিয়ে ধোয়াশা ছিলো পুলিশের ভেতরে তা কেটে যাওয়ার দাবী করছে তারা।

পুলিশ বলছে, এটা অনেক বড় একটা চক্রের কাজ। এই চক্রে রয়েছেন ব্যাংক কর্মকর্তা, বিদেশি নাগরিক, লন্ডনপ্রবাসী বাংলাদেশি, আবাসিক হোটেল, মানি এক্সচেঞ্জ, ট্রাভেল এজেন্সির মালিকও।

কার্ড ও পিওএস যন্ত্রে জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলাগুলোর তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির উপকমিশনার শেখ নাজমুল আলম বলেন, এই জালিয়াতির পুরো চক্র শনাক্ত করা হয়েছে। এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে। হোটেল কমফোর্ট ইন-এর মালিককে ডিবি কার্যালয়ে আসার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মামলার আরেক তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি-সাইবার ক্রাইম) মো. শাহজাহান বলেন, পিওতর ও আবু জাফর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এবং গ্রেপ্তার করা অন্য পাঁচজন ডিবির জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, তাঁরা এটিএম কার্ড এবং পিওএস যন্ত্র জালিয়াতি করে দেশি-বিদেশিদের বিপুল টাকা তুলেছেন। এর মধ্যে পিওএস যন্ত্র জালিয়াতি করে একবারেই তুলেছেন ২৭ হাজার মার্কিন ডলার (বাংলাদেশি ২১ লাখ ৬০ হাজার টাকা)। ব্যাংক কর্মকর্তাসহ বেশ কয়েক ব্যক্তি এই জালিয়াতিতে জড়িত বলে তাঁরা তথ্য দিয়েছেন। এর সত্যতা পাওয়া গেলে ওই ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করা হবে। পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ কবির এতে জড়িত কি না, এ প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রাপ্ত তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেলে ফিরোজ কবিরকেও আইনের আওতায় নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার করা বিদেশি নাগরিক পিওতর সিজোফেন মুজারেক এবং একটি ট্রাভেল এজেন্সির কর্মচারী ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে গুলশান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ফিরোজ কবিরের সঙ্গে সন্দেহভাজন দুজনের সখ্যের কথা বলেছেন। তবে সম্প্রতি বদলি হয়ে রংপুর রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) কার্যালয়ে কর্মরত ফিরোজ কবির গত রোববার দাবি করেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, জালিয়াতিতে দেশীয় চক্রকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছেন ইউক্রেনের নাগরিক অ্যান্ড্রি ও রোমানিয়ার নাগরিক রোমিও। চক্রের সমন্বয়ক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক ফরিদ নাবির গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর ঢাকায় এসেছিলেন। ৩১ জানুয়ারি আসেন অ্যান্ড্রি ও রোমিও। এটিএম কার্ড জালিয়াতির পর ১৩ ফেব্রুয়ারি রোমিও ও পরদিন অ্যান্ড্রি বাংলাদেশ ছাড়েন।

ডিবির এডিসি শাহজাহান বলেন, জালিয়াতিতে জড়িত ফরিদ নাবিরসহ দুই প্রবাসীকে আইনের আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। রোমিও, অ্যান্ড্রি এবং বুলগেরিয়ার আরেক নাগরিককে আইনের আওতায় নিতে ওই দুটি দেশের দূতাবাসের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, মানি এক্সচেঞ্জের মালিক হুমায়ুন কবিরের কাছ থেকে রোমিও ২৮ লাখ টাকা দিয়ে সমমূল্যের মার্কিন ডলার নিয়েছেন। এ ছাড়া পিওতরের টাকা ডলার করে চীনে পাঠাতে সহায়তা করেন। সাইফুজ্জামানের সঙ্গে পিওতরের সম্পর্ক রয়েছে।

ডিবির সূত্র বলেছে, পিওতর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, ফরিদ নাবির তাঁকে কার্ড জালিয়াতিতে উদ্বুদ্ধ করেন। ২০১৪ সালের ১৩ ডিসেম্বর ফরিদের সঙ্গে তিনি ঢাকায় আসেন। ফরিদের ঘনিষ্ঠ ও খান এয়ার ট্রাভেলসের পরিচালক তৌহিদ খানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তিনি তৌহিদের সঙ্গে জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসা শুরু করেন। তৌহিদ তাঁকে কার্ড জালিয়াতিতে বাধ্য করেন। তৌহিদের কর্মচারী আবু জাফর তাঁকে পিওএস যন্ত্র এনে দেন। তৌহিদের সঙ্গে গুলশান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ফিরোজ কবিরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। ফিরোজও তাঁকে কিছু পিওএস যন্ত্র এনে দেন। খান এয়ার ট্রাভেলসে স্থাপিত পিওএস যন্ত্রে কার্ড জালিয়াতি করে তাঁরা ২০-৩০ লাখ টাকা তোলেন।

সূত্র বলেছে, আবু জাফর জবানবন্দিতে বলেন, একদিন অপরিচিত কয়েকজন লোক ব্যাগে করে তৌহিদ খানের অফিসে পিওএস যন্ত্র নিয়ে যান। পরে তিনি (জাফর) ব্যাগ খুলে যন্ত্রটি দেখেন। তৌহিদ খানের কাছে একজন পুলিশ কর্মকর্তা মাঝেমধ্যে আসতেন।

যোগাযোগ করা হলে রোববার পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ কবির বলেন, তিনি গুলশান থানায় কর্মরত থাকাকালে পিওতরের স্ত্রী তাঁর স্বামীকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে থানায় জিডি করতে এসেছিলেন। ওই জিডি না নেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে পিওতর জবানবন্দিতে তাঁর কথা বলেছেন। পুলিশের সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সন্তান হিসেবে তৌহিদের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ছিল। ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলা হত্যাকাণ্ডের পর পিওতরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তবে ফরিদ নাবিরকে তিনি চেনেন না বলে জানায়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর