অনলাইনে চকোলেট বিক্রিতে লোকসান
অনলাইনে চকোলেট বিক্রিতে লোকসান
২০১৬-০৩-৩১ ০১:৫৪:২৩
প্রিন্টঅ-অ+


চকোলেট অন্য আর দশটা প্রোডাক্টের মত না। গরম আবহাওয়ায় এটা গলে যায়। তাই অনলাইন শপিংয়ের ক্ষেত্রে চকলেট বিক্রি করতে বেশ ঝামেলায় পড়তে হয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

হার্শে ও মার্সের মতো শীর্ষ উত্পাদক প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহের সময় ঝামেলা এড়াতে পণ্য সংরক্ষিত রাখে নির্দিষ্ট রেফ্রিজারেটরে। কিন্তু পণ্য কেনা বেচার ধরণ বদলে গেছে এখন। অনলাইন শপিংয়ের ক্ষেত্রে অন্য সব পণ্যের জন্য বিষয়টি সুবিধাজনক হলেও চকোলেট উত্পাদকদের জন্য হয়ে দাঁড়িয়েছে সংকটের কারণ। ই-কমার্স কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে চকোলেট পৌঁছে দিতে হলে পোহাতে হচ্ছে নানা হ্যাপা। চকোলেট গলে যাওয়া রোধে প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করছে আইস প্যাকস ও শীতলীকরণ যন্ত্র (কুলার)। এতে উত্পাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর খরচ বাড়ছে।

বিশ্লেষকরা ধারণা করছে, আগামীতে চকোলেটের দামের তুলনায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে।

স্বল্প দূরত্বে চকোলেট সরবরাহে খরচ পড়তে পারে পণ্যের চেয়ে বেশি। এর কারণ মূলত সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার প্রযুক্তি-নির্ভরতা। হার্শে ওয়েবসাইটে অনেক সময়ই চকোলেট সরবরাহের অর্ডার পেয়ে থাকে। ৪ ডলার ২৫ সেন্টের এক ব্যাগ ‘কিসেস’ চকোলেট যথাস্থানে পৌঁছে দিতে প্রতিষ্ঠানটি চার্জ নেয় ৬ ডলার ৯৫ সেন্ট। এর কারণ চকোলেট গলে যাওয়া এড়াতে হার্শেকে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হয়। অন্যদিকে পেনসিলভানিয়ার চকোলেট উত্পাদক কিট ক্যাট গ্রাহকদের তরল বরফের প্যাকের জন্য চেয়ে নেয় ৪ ডলার ৯৯ সেন্ট।

হার্শে ও ফেরেরো ইউএসএ ইনকরপোরেশনের মতো চকোলেট উত্পাদক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সাপ্লাই চেইন সফটওয়্যার ডিজাইন করে অরটেক ইন্টারন্যাশনাল। এটি একটি পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানও।

এর পার্টনার ববি মিলার বলেন, প্রতিটি ভোক্তা পণ্য উত্পাদক প্রতিষ্ঠানই সরাসরি পণ্য সরবরাহের চেষ্টা করে। অ্যামাজনের বিকল্প বলা যায় এসব কোম্পানিকে। এভাবে বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব নয়। তথ্য প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ইউরোমনিটর ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল মধ্যবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে চকোলেট বিক্রি বার্ষিক হারে ৮০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে পৌঁছেছে ৩৪ কোটি ১৭ লাখ মার্কিন ডলারে। এছাড়া ই-কমার্স কোম্পানিগুলো প্রতিনিধিত্ব করছে চকোলেট বিক্রির ১ দশমিক ৯ শতাংশ। পাঁচ বছর আগে তা ছিল মাত্র ১ দশমিক ২ শতাংশ।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কথা বলে হার্শের গবেষণা ও উন্নয়নের (আরঅ্যান্ডডি) প্যাকেজিং প্রকৌশলী এরিক জাম্পেদ্রি বলেছেন, এ সমস্যার একটি সঠিক সমাধান শিগগিরিই প্রয়োজন। আমরা খরচ কমাতে সক্ষম হলে তা গ্রাহকদের জন্যও মঙ্গলজনক হবে। গত বছর অনলাইনে হার্শের চকোলেট অর্ডারের হার বেড়েছে ৮০ শতাংশ। ইউপিএস, ডিএইচএলের মতো পার্সেল ক্যারিয়ার ব্যবহার করে চকোলেট সরবরাহ হয়।

জাম্পেদ্রির তথ্য অনুযায়ী, উষ্ণ গন্তব্যে ৫ পাউন্ড বাক্সের চকোলেট সরবরাহে প্রয়োজন হয় ২-৩ পাউন্ড বরফ। তবে অনেক প্রতিষ্ঠানই অনলাইনে চকোলেট সরবরাহ করে লোকসানে পড়ছে। শিকাগোভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ভসজেস হট-চকোলেট গত বছর অনলাইনে বিক্রি থেকে রাজস্বের ২০ শতাংশ অর্থ আয় করেছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর