শেখ হাসিনা এপ্রিলে মেট্রোরেল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন
শেখ হাসিনা এপ্রিলে মেট্রোরেল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন
২০১৬-০৩-২৮ ১৬:২৭:৫৯
প্রিন্টঅ-অ+


যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছে,আগামী এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেট্রোরেল নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন।

রবিবার দুপুরে প্যান প্যাসিফিক হোটেল সোনারগাঁতে প্রকল্পের ১নং প্যাকেজের চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য দেন।

তিনি আরও বলেন, ২০ দশমিক ১০ কিলোমিটারের এই প্রকল্প উত্তরা থেকে শুরু হয়ে পল্লবী-খামারবাড়ী-ফার্মগেট-হোটেল সোনারগাঁও-শাহবাগ-টিএসসি হয়ে মতিঝিল শাপলা চত্বর পর্যন্ত হবে।

মেট্রোরেলে ১৬টি স্টেশন থাকবে, এর মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করতে পারবে। উত্তরা থেকে মতিঝিলে যাত্রাকালীন সময় লাগবে ৩৮ মিনিট।

পরস্পরের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)’র প্রকল্প পরিচালক মো. মোফাজ্জল হোসেন ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান জাপানের টোকিও কনস্ট্রাকশন কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার হিরোশি আসাকামি। ডিপো এলাকার ভূমি উন্নয়ন প্যাকেজের আওতায় ভূমি উন্নয়ন, পাইলিং, মাটি ভরাট কাজ করা হবে। এ প্যাকেজের চুক্তি মূল্য ভ্যাট-ট্যাক্সসহ ৫৬৭ কোটি ৬ লাখ ৭৪ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সেতুমন্ত্রী বলেন, মেট্রোরেলের রুট নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি পক্ষ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। তাদের দাবি মেট্রোরেল চলাচলের কারণে শব্দদূষণে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ক্ষতি হবে। অথচ আমরা এই প্রকল্পের রুট চূড়ান্ত করার আগে সব পক্ষের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে সব পক্ষের মতামত নিয়েই প্রকল্পের রুট নির্ধারণ করা হয়েছে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্য দিয়ে রুট নির্ধারণ করেছি শিক্ষার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই। তিনি বলেন, তবে মেট্রোরেলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করায় শব্দদূষণ সহনীয় পর্যায়ে থাকবে।

বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন পথে মেট্রোরেল চলাচল করছে জানিয়ে যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, শব্দদূষণ নিয়ে সেখানে কোন প্রশ্ন উঠেনি। অথচ আমাদের দেশে উঠেছে। এটি নিয়ে রাজনীতি হয়েছে। সব জায়গায় রাজনীতি করা দুঃখজনক।

তিনি বলেন, আজকে চুক্তির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের মেট্রোরেল বাস্তবে রূপ পেতে যাচ্ছে। এই মেট্রোরেল রাজধানীতে যানজট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নকালে স্বাভাবিক নিয়মে রাস্তায় কিছু যানজট তৈরি হবে। যা সহনীয় পর্যায় রাখার চেষ্টা করা হবে।
২১ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকা মূল্যের প্রকল্প ব্যয়ে ২৫ শতাংশ বাংলাদেশ সরকার ও বাকি ৭৫ শতাংশ জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগি সংস্থা (জাইকা) অর্থায়ন করবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।

সড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মেট্রোরেলের ডিপোর মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করা হয় ২০১৪ সালে। তবে গুণগত মান ভালো না আসায় পরামর্শ চাওয়া হয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কাছে। যাচাই-বাছাইশেষে বুয়েট জানায়, উত্তরার মাটি অনেক নরম। এতে ডিপো নির্মাণ করলে যে কোনো সময় তা ডেবে যেতে পারে। এছাড়া মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পে ধসে যেতে পারে পুরো ডিপো। তাই ডিপো এলাকার পাইলিং করতে হবে।

উল্লেখ্য, মেট্রোরেল নির্মাণে উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত পুরো প্রকল্প এলাকার সয়েল টেস্ট শেষ হয়েছে। বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজও শেষ পর্যায়ে। এরই মধ্যে উত্তরা থেকে আগারগাঁও অংশের ঠিকাদার নিয়োগে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। পাশাপাশি ইঞ্জিন-কোচ কেনার দরপত্রও প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর