২৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে দুটি ভারতীয় কোম্পানি থেকে
২৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আসবে দুটি ভারতীয় কোম্পানি থেকে
২০১৬-০৩-২৮ ১৬:০৬:৪৮
প্রিন্টঅ-অ+


বিদ্যুৎ খাতে ভারতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আদানি ও রিলায়েন্সের দুটি প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার। মোট ২ হাজার ৩৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বাংলাদেশের কাছে বিক্রির কথা বলা হয়েছে এই দুটি প্রস্তাবে।

আদানি ভারতে তাদের মালিকানাধীন কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রে উৎপাদিত মোট ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছে। নওগাঁ জেলার সুবিধাজনক কোনো স্থান দিয়ে এই বিদ্যুৎ বাংলাদেশে সরবরাহ করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় সঞ্চালন লাইনও আদানিই নির্মাণ করবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্র।

রিলায়েন্সের প্রস্তাব হচ্ছে, তারা ৭৫০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে। এই কেন্দ্রটিতে সরকারই গ্যাস সরবরাহ করবে। পরে রিলায়েন্স তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে তা দিয়ে পর্যায়ক্রমে আরও ২ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। তাদের এখনকার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব ৭৫০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি স্থাপন করার বিষয়ে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, আদানির প্রস্তাবটি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বোর্ড সভা অনুমোদন করেছে। সেটি এখন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য আসবে। রিলায়েন্সের ৭৫০ মেগাওয়াটের প্রস্তাবটিতে মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে।

গত বছরের ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র দামোদরদাস মোদির বাংলাদেশ সফরকালে আদানি ও রিলায়েন্সের সঙ্গে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) আলাদা দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করে। সেই সূত্র ধরে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কোম্পানি দুটির একাধিক বৈঠক হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কোম্পানি দুটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে।

বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, আদানি গ্রুপের সঙ্গে স্বাক্ষরিত এমওইউ ও বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী ভারতে স্থাপিত তাদের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে তারা বাংলাদেশে ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে। ভবিষ্যতে তা আরও বাড়তে পারে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনের আগ্রহও রয়েছে আদানির।

রিলায়েন্স গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় তাদের প্রস্তাবটি উপস্থাপন করে। প্রস্তাব অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের মেঘনাঘাটে মোট তিন হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র করবে কোম্পানিটি। এর মধ্যে প্রথমটি হবে ৭৫০ মেগাওয়াটের। এই কেন্দ্রটির জন্য রিলায়েন্স সরকারের কাছে দীর্ঘ মেয়াদে গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়েছে। পাশাপাশি মহেশখালীতে একটি স্বতন্ত্র ভাসমান টার্মিনাল (ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রি-গ্যাসিফিকেশন ইউনিট বা এফএসআরইউ) স্থাপন করে এলএনজি আমদানি করে তা দিয়ে ২ হাজার ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা তাদের।
মন্ত্রণালয় ও পিডিবির সূত্রে জানা যায়, আদানি বিদ্যুতের কোনো দাম প্রস্তাব করেনি। তবে রিলায়েন্স প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম প্রস্তাব করেছে প্রায় সাত টাকা। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুতের এই দাম বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বিদ্যুৎ উৎপাদন ও কেনা-বেচার বিষয়টি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ (বিশেষ বিধান)’ শীর্ষক বিশেষ আইনের আওতায় এবং আদানি ও রিলায়েন্সের অযাচিত (আনসলিসিটেড) প্রস্তাবের ভিত্তিতে। এমনকি, নিজ দেশের বাইরে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করতে হলে যে অভিজ্ঞতা অপরিহার্য বলে প্রচলিত প্রক্রিয়ায় গণ্য করা হয়, এ ক্ষেত্রে তাও করা হচ্ছে না। আদানি ভারতে প্রায় ১১ হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করলেও বিদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের কোনো অভিজ্ঞতা তাদের নেই।
‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ (বিশেষ বিধান)’ শীর্ষক আইনটি ২০১০ সালে সরকার তিন বছরের জন্য করেছিল। পরে একাধিকবার তার মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ সাল পর্যন্ত বহাল করা হয়েছে। এই আইনের আওতায় প্রচলিত দরপত্র-প্রক্রিয়া ছাড়াই কোনো কোম্পানিকে আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের কাজ দিতে পারে সরকার। এ নিয়ে কখনো কোনো আদালতেরও শরণাপন্ন হওয়া যাবে না।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর