ইউএনও-র নিয়ন্ত্রণ রেখেই গেজেট প্রকাশ
ইউএনও-র নিয়ন্ত্রণ রেখেই গেজেট প্রকাশ
২০১৬-০৩-২৭ ০২:২২:৫৪
প্রিন্টঅ-অ+


উপজেলা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা উত্তোলন, প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ ও তদারকিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইউএনও-র নিয়ন্ত্রণ রেখেই গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এর ফলে, প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির ব্যানারে দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলনে থাকা মাঠ কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিকল্প আন্দোলনের কথাও ভাবছেন কেউ কেউ।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থানীয় সরকার সরকার বিভাগ থেকে সম্প্রতি জারিকৃত প্রজ্ঞাপন ২৪ মার্চ গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে ২১ মার্চ বিকাল ৫ টায় ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির এক জরুরি মিটিং করেছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
আন্দোলনকারীদের একাংশের ধারণা যেহেতু গেজেটে তারিখ দেয়া আছে ১৩ মার্চ তার মানে নেতৃবৃন্দ সবকিছু জেনে মিটিং করেছেন। কিন্তু তারা কর্মীদের কোন দিক নির্দেশনা দেননি। আন্দোলনে থাকা একজন কর্মী বলেন, এতদিনের আন্দোলন-এর ফলাফল শুন্য। আমরা প্রথমে যেখানে ছিলাম সেখানেই এসে দাঁড়িয়েছি। তিনি বলেন, ধীরে ধীরে ওরা ওদের সব প্ল্যান বাস্তবায়ন করছে । মাঝখানে নবম - অষ্টম গ্রেড করে ক্যাডার ও ননক্যাডারদের মধ্যে ভাঙন ধরালো।

একজন কর্মী ক্ষোভের সাথে ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ৫% লোকে ৯৫% লোককে কষে চড় মারলো। তাহারা শুধু চড় খাইলো কিন্তু কিছুই করতে পারিল না। অবশেষে তাহারা ঐ ৫% লোককে কিছু করতে না পারিয়া খাস চামচায় রুপান্তরিত হইল অস্তিত্ব টিকাইয়া রাখার জন্য। প্রতিদিন তেল মালিশ করিতে লাগিল। এভাবেই ঘটনার সপাপ্তি হইল।

আন্দোলনকারীদের অনেকের মধ্যে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দের প্রতি আস্থাহীনতা এবং ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ আর আন্দোলনের পথে না গিয়ে প্রকাশিত অধ্যাদেশটির বিরুদ্ধে মামলা করার করার কথা ভাবছেন।

উল্লেখ্য যে, উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ ও ২০১১ সালের সংশোধন এবং ২০১৫ সালে জারিকৃত মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের অফিস স্মারকের মাধ্যমে উপজেলা পরিষদের ক্ষমতায়নের নামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কর্তৃত্ব বাড়ানো হয়। এর ফলে, উপজেলা পরিষদ যে প্রকৃতপক্ষে শক্তিশালী এবং কার্যকর হচ্ছে না তার ব্যাখ্যা দিয়েছিল প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটি।

সমন্বয় কমিটি-র বক্তব্যে বলা হয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে উপজেলা পরিষদকে অধিকতর কার্যকর করার নামে পেশাদার ও কারিগরিসহ উন্নয়নমুখী দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা উত্তোলন, প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ ও তদরকিসহ সকল ক্ষেত্রে ইউএনও-র অযেৌক্তিক ও অযাচিত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্ত দেশের দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য চরম অবমাননাকর। ফলে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে।

বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা স্মারকের মাধ্যমে উপজেলা চেয়ারম্যানের তুলনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বেশি ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এটা সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করবে। একজন জুনিয়র কর্মকর্তা (ইউএনও) দিয়ে সিনিয়র কর্মকর্তাকে নিয়ন্ত্রণ সরকারের প্রশাসনিক রীতির পরিপন্থী। এ ছাড়া ন্যস্ত কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা বিল অন্য বিভাগের কর্মকর্তার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা দেশের ফিন্যান্সিয়াল রুল পরিপন্থী।

মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা আদেশ দ্বারা স্থানীয় সরকার কিংবা উপজেলা পরিষদ শক্তিশালী হবে কী না এ বিষয়ে বক্তব্যে বলা হয়েছে, এর ফলে উপজেলা পরিষদ শক্তিশালী হবে না শুধুমাত্র আমলাতন্ত্রই শক্তিশালী হবে। এর মাধ্যমে উপজেলা পরিষদে কর্মকর্তাদের বিদ্যমান সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য, কর্মপরিবেশ, টীম স্পিরিট বিঘ্নিত হবে। পরিষদে ক্যাডার ও অন্যদের মধ্যে দুরত্ব এবং অবিশ্বাস তৈরি হবে যা ক্রমশঃ বাড়তে থাকবে। প্রশাসন ক্যাডার আপাতঃ লাভবান মনে করলেও প্রকৃত অর্থে তাঁরাও ক্ষতিগ্রস্থ হবেন। তাদেরও চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়বে। সার্বিকভাবে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং সরকারের ভিশন ২০২১ অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ওই পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটি জারিকৃত মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের অফিস স্মারকটি অবিলম্বে বাতিল এবং উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ পুনর্বহালের দাবি জানায়।

তার আগে, উপজেলা পরিষদের কাছে ১৭ দফতর হস্তান্তরের বিষয়ে মন্ত্রীসভা বৈঠকের সিদ্ধান্তের পর মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে ১৪ অক্টোবর একটি অফিস স্মারক জারি করা হয়। এতে বলা হয়, উপজেলা পরিষদে ন্যস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের হিসাব এবং উন্নয়ক কর্মসূচি বাস্তবায়নের হিসাব উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউএনও-র স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে।

এই সার্কুলার জারির পর থেকে প্রকৌশলী, কৃষিবিদ এবং চিকিৎসকদের সংগঠন- প্রকৃচি, ১৭ ক্যাডার এবং বিসিএস কর্মকর্তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে প্রকৃচি-বিসিএস সমন্বয় কমিটির ব্যানারে নানা কর্মসূচি পালন করে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর