ইরানি সাত হ্যাকারের বিরুদ্ধে মার্কিন গ্রেফতারি পরোয়ানা
ইরানি সাত হ্যাকারের বিরুদ্ধে মার্কিন গ্রেফতারি পরোয়ানা
২০১৬-০৩-২৭ ০১:২৫:০৫
প্রিন্টঅ-অ+


ঘটনার শুরু ২০১১ সালে। ১১ থেকে ১৩ সালের মধ্যবর্তী সময় সাইবার হামলার শিকার হয় শীর্ষস্থানীয় কয়েকটি মার্কিন ব্যাংক এবং নিউইয়র্কের উত্তরে একটি বাঁধের কম্পিউটার সিস্টেম। এ নিয়ে ব্যপক তদন্ত করে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।

দীর্ঘ তদন্তের পরে এফবিআই ওই হ্যাকিংের ঘটনায় সাত ইরানি হ্যাকারের সম্পৃক্ততা পেয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে ওই সাত ইরানি সাইবার অপরাধীর বিরুদ্ধে।

রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান ও সিএনএন সহ বেশ কয়েকটি দৈনিক বলছে, এফবিআই ধারণা করছে হ্যাকার দলটি ইরান সরকারের হয়ে কাজ করে এবং সরকারের যোগসাজশেই একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা চালিয়েছিল।

সাইবার অপরাধীদের এ দলটি ‘টার্ক সার্ভার’ নামে অনলাইন অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছে— আহমাদ ফাতি, হামিদ ফিরোজি, আমিন শকোহি, সাদেগ আহমাদেজাদেগান, অমিদ গাফারিনিয়া, সিনা কেইজার এবং নাদের সায়েদি নামে সাত ইরানি নাগরিক। এরা সবাই আইটিসেক এবং মার্সেদ নামে দুটি প্রতিষ্ঠানের হয়ে কাজ করে।

পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে যখন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে খারাপ সম্পর্ক বিরাজ করছিলো তখনই ওই সাইবার হামলা হয়। হামলার ঘটনার পরে দুই দেশের ভেতর বৈরিতা আরো বেড়ে যায়। সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা বলেন, ইরানের সাইবার অপরাধীরা দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন বিভিন্ন কার্যালয়ের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে হামলা চালিয়ে আসছিল। যদিও ছোটখাটো ওইসব হামলায় বড় ধরনের কোনো ক্ষতি করতে পারেনি।

হামলাগুলোর বিষয়ে অবগত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা। অবশ্য দুই দেশের মধ্যে বৈরিতা আরো বেড়ে যেতে পারে এমন আশঙ্কা থেকে এতদিন সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র।

গত বৃহস্পতিবার অ্যাটর্নি জেনারেল লোরেটা লিঞ্চ প্রথম নির্দিষ্ট করে সাত ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতার বিষয় প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক প্রতিষ্ঠানে হামলার সঙ্গে জড়িত। ইরানের দুই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাইবার অপরাধীরা এরই মধ্যে ৪৬টি মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট ব্লক করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাংক অব আমেরিকা, পিএনসি, নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেঞ্জ এবং ক্যাপিটাল ওয়ানের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান। এছাড়া ইরানি ওই হ্যাকার দলটির হামলার শিকার হয়েছে জেপি মরগান, ওয়েলস ফার্গো এবং আরো বেশ কয়েকটি ব্যাংক। এ বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য-উপাত্ত রয়েছে তদন্তকারীদের হাতে।

যুক্তরাষ্ট্র সরকার এবং দেশটির করপোরেট অফিসের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে সাইবার অনুপ্রবেশ কয়েক গুণ বেড়েছে। বিভিন্ন দেশের সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা হ্যাকাররা এ ধরনের হামলার জন্য দায়ী। মূলত অন্যান্য দেশের সরকারকে এ ধরনের হমলা পরিচালনায় নিরুত্সাহিত করতেই ইরানের হ্যাকারদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ। গত বছর সাইবার হামলার শিকার হয় সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্ট। প্রতিষ্ঠানটির অসংখ্য গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছিল সাইবার অপরাধীরা। এজন্য চীনা সামরিক হ্যাকার এবং উত্তর কোরিয়াকে প্রকাশ্যে দায়ী করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিদেশ এর অারো খবর