পরিবেশ বান্ধব বহুতল ভবন নির্মাণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
পরিবেশ বান্ধব বহুতল ভবন নির্মাণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
২০১৬-০৩-২২ ০১:০৯:৩৪
প্রিন্টঅ-অ+


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন সবার জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের একটা বড় লক্ষ্য। আর তাই স্থপতিদের তিনি আহ্বান জানান জমির স্বল্পতা ও জনসংখ্যার কথা বিবেচনা করে পরিবেশবান্ধব বহুতল ভবন নির্মাণের।

রবিবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের (আইএবি) নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এ আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি সভ্যতার মাপকাঠি হলো স্থাপত্য। প্রাচীন সভ্যতাকে চেনা বা জানার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে স্থাপত্যশিল্প। আজকে আমরা যা কিছু নির্মাণ করছি, কয়েক শ’ বছর পর যদি এগুলো টিকে থাকে তাহলে এগুলো আমাদের সময়কে ধারণ করবে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা যা কিছু নির্মাণ করি না কেন, সেগুলোকে যেমন একদিকে হতে হবে স্থায়িত্বশীল, পরিবেশবান্ধব অন্যদিকে দৃষ্টিনন্দন। নান্দনিক বলেই মানুষ এখনো পুরোনো রাজবাড়ি, মসজিদ, মন্দির দেখতে ছুটে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের স্থপতিদের এমন স্থাপত্য নির্মাণ করতে হবে, যা টেকসই ও মজবুতের পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব হবে। বাইরের দেশের কনসালটেন্টদের চেয়ে আমাদের দেশের কনসালটেন্টরা দেশের আবহাওয়া সম্পর্কে ভালো জানেন বা ভালো বোঝেন। তাই তাদের কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়াটাই ভালো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা দেশের আবহাওয়া জলবায়ু পরিবেশ সবকিছু মাথায় রেখেই কিন্তু একটা স্থাপনা হওয়া উচিত। যখন প্ল্যান করা হয় বা ডিজাইন করা হয় আমাদের আর্কিটেক্টরাই তো ডিজাইন করেন। তারা যদি একটু লক্ষ্য রাখেন খাল নদী ভরাট না করে কীভাবে ডিজাইন করা যায়, তাহলে সত্যি আমাদের দেশটা রক্ষা পেতে পারে।’

আবাসন বা শিল্পকারখানা নির্মাণে যেন জলাধার ভরাট না হয় সেদিকে সচেতন হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশে প্রস্তাবিত এক শ’টি ইকোনমিক জোন নির্মাণের পাশাপাশি এগুলোর সঙ্গে স্থাপন করা হবে বর্জ্য শোধনাগারও।’

‘রাজধানীর জলাশয়গুলো সামরিক সরকারের শাসনামলে অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় রাজধানীতে বর্তমানে পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা যেমন দুর্বল তেমনি জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। পুকুর বা জলাশয়ের সঙ্গেই যেন তাদের সব শত্রুতা।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আইয়ুব খান ঢাকার কেন্দ্রস্থল মতিঝিলের জলাশয় ধ্বংস করেন। আর এরশাদ ধ্বংস করেন পান্থপথের খাল।’

প্রধানমন্ত্রী স্থপতিদের উদ্দেশে বলেন, ‘জলাশয় ভরাট না করে আমাদেরকে মাস্টার প্ল্যানের আওতায় উন্নয়নকাজ করতে হবে। নগরীতে ভবন নির্মাণে আপনাদেরকে আরও যত্নবান হতে হবে। আমাদের দেশে বাড়িঘরে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। তাই এয়ারকন্ডিশনের ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য ভবন নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের দিকে লক্ষ রাখতে হবে।’

এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা রাখেন গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান।

এ ছারাও আর্কিটেক্ট রিজিওনাল কাউন্সিল এশিয়ার সভাপতি সাথিরুত নুই টান্ডাহ্যান্ড, আইএবি সেন্টারের সভাপতি ড. আবু সায়ীদ এম আহমেদ, আইএবির সাধারণ সম্পাদক কাজী এম আরিফ, কাজী গোলাম নাসির অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর