রেলওয়ে ২৫০টি কোচ ও ১০টি ইঞ্জিন কিনবে
রেলওয়ে ২৫০টি কোচ ও ১০টি ইঞ্জিন কিনবে
২০১৫-১১-১০ ০৯:২২:৪০
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশ রেলওয়ে ২৫০টি নতুন যাত্রীবাহী কোচ ও ১০টি ইঞ্জিন কিনবে। অনুমোদিত প্রকল্প দু’টির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার একশ’ আট কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দেবে ৫৭৪ কোটি টাকা। বাকি এক হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য হিসেবে দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

রেলওয়ে আশা করছে, এর ফলে রেলসেবার মান আধুনিকায়ন, নিরাপদ ও আরামদায়ক হবে। পরিকল্পনা কমিশনে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এজন্য পৃথক দু’টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা যায়, এক হাজার ৩৭৪ কোটি টাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ‘মিটারগেজ এবং ব্রডগেজ প্যাসেঞ্জার ক্যারেজ সংগ্রহ’ নামক প্রকল্পের আওতায় ২০০টি মিটারগেজ এবং ৫০টি ব্রডগেজ কোচ কেনা হবে। এছাড়াও, কোচগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য দু’টি ট্রেন ওয়াশিং প্ল্যান্ট এ প্রকল্পের আওতায় কেনা হবে।

অন্যদিকে, ৭৩৪ কোটি টাকায় বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য লোকোমোটিভ রিলিফ ক্রেন এবং লোকোমোটিভ সিমুলেটর সংগ্রহ নামক অপর একটি প্রকল্পের আওতায় ১০টি ইঞ্জিন, ৪টি দুর্ঘটনা রিলিফ ক্রেন এবং একটি লোকোমোটিভ সিমুলেটর কেনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক সভায় ছয় হাজার ২৫১ কোটি টাকায় ১০টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৭টি নতুন এবং ৩টি সংশোধিত। মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন দুই হাজার ৬৭৩ কোটি টাকা। বাকি তিন হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা প্রকল্প সাহায্য।

সভায় জানানো হয়, মিটারগেজে চলার উপযোগী এক হাজার ১৬৫টি যাত্রীবাহী কোচ বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের রয়েছে। যার মধ্যে ৫৯১টির অবস্থা ভালো নয়। ফলে, বাংলাদেশ রেলওয়ে আরামদায়ক ও নিরাপদ যাত্রীসেবা দিতে পারছে না।

ব্রডগেজে চলার জন্য রেলওয়ের ৩২৪টি কোচ রয়েছে। যার মধ্যে ৭৮টির অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। প্রকল্প দু’টি ২০১৯ সালের জুন নাগাদ শেষ হবে।

দেশের পশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২৪টি জেলায় ৬১টি ছোট ও মাঝারি সেতু নির্মাণে একনেক সভায় দুই হাজার ৯১২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেতুগুলোর দৈর্ঘ্য একত্রে চার হাজার ৭১৫ মিটার।

এছাড়া ‘ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ ব্রিজ ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট’ নামক প্রকল্পের আওতায় সেতু মেরামত করা হবে।

যে ২৪টি জেলায় সেতুগুলো নির্মিত হবে তা হলো- ফরিদপুরে ছয়টি, মাদারীপুর একটি, সিরাজগঞ্জ আটটি, নাটোরে একটি, পাবনায় চারটি, নওগাঁয় একটি, রাজশাহীতে দু’টি, বগুড়ায় দু’টি, রংপুরে চারটি, জয়পুরহাটে দু’টি, লালমনিরহাট একটি, গাইবান্ধায় দু’টি, দিনাজপুরে পাঁচটি, নিলফামারীতে একটি সেতু মেরামত করা হবে।

অন্যদিকে পঞ্চগড়ে দু’টি, বাগেরহাটে দু’টি, যশোরে একটি, ঝিনাইদহে দু’টি, কুষ্টিয়ায় তিনটি, বরিশালে সাতটি, পিরোজপুরে একটি, ঝালকাঠিতে একটি, নরসিংদীতে একটি এবং নড়াইলে একটি ঝুঁকিপূর্ণ সেতু সংস্কার করা হবে।

একনেক সভায় অনুমোদন পাওয়া অন্য প্রকল্পগুলো হলো- আধুনিক সুবিধাসহ ন্যাশনাল প্রোডাক্টিভিটি অর্গানাইজেশন (এনপিও) ও পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদফতর (ডিপিডিটি) প্রকল্পের। এ প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি টাকা।

ঢাকা জেলার দোহার উপজেলাধীন আওরঙ্গাবাদ থেকে ব্রাহাবাজার ঘাট পর্যন্ত পদ্মা নদীর বামতীর সংরক্ষণমূলক প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মোট ব্যয় ২১৮ কোটি টাকা।

সোনাপুর (নোয়াখালী)- সোনাগাজী (ফেনী)- জোরারগঞ্জ (চট্টগ্রাম) সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ১৭৩ কোটি টাকা, শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ জাতীয় সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৪৪৮টি ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ২১৮ কোটি টাকা।

অনুমোদিত বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস’র উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ২৫৭ কোটি টাকা, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ১১১ কোটি টাকা এবং প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২১০ কোটি টাকা।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর