সারা দেশে ৪৩% সড়ক মহাসড়ক ভাঙাচোরা
সারা দেশে ৪৩% সড়ক মহাসড়ক ভাঙাচোরা
২০১৬-০৩-২০ ০২:৫৭:০৮
প্রিন্টঅ-অ+


ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান খানাখন্দে ভরা। অথচ এটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক। ঢাকা-খুলনা, ঢাকা-রাজশাহী ও অন্যান্য মহাসড়কের অবস্থাও খুব বেশি ভালো নয়। এর চেয়ে খারাপ অবস্থা আঞ্চলিক মহাসড়ক ও জেলা সড়কগুলোর। সব মিলিয়ে দেশের ৪৩ শতাংশ সড়ক-মহাসড়ক ভাঙাচোরা। বাকি সড়কের মধ্যে ৩৭ শতাংশ মোটামুটি চলনসই। আর ভালো অবস্থায় আছে ১৯ শতাংশ সড়ক।

সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা যাচাইয়ে প্রতি দুই বছর অন্তর সমীক্ষা পরিচালনা করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের মহাসড়ক ব্যবস্থাপনা বিভাগ (এইচডিএম)। এর ভিত্তিতে প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এ হিসাবে সড়ক-মহাসড়কের অবস্থা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। ২০১৪ সালের মার্চে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সড়কের ৪২ শতাংশ ভাঙাচোরা ছিল। আর ২০১২ সালে ভাঙাচোরা সড়ক-মহাসড়ক ছিল ৩৮ শতাংশ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সড়কগুলো উন্নয়নে কিছু অংশে হালকা বা ভারি মেরামত প্রয়োজন। বাকি সড়ক পুনর্নির্মাণ করতে হবে। সব মিলিয়ে ভাঙাচোরা সড়ক মেরামতে চলতি অর্থবছর প্রয়োজন হবে ১২ হাজার ৩৩৮ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। তবে এসব সড়ক দ্রুত মেরামত করা না গেলে আগামী বর্ষায় জনদুর্ভোগ বাড়বে বলে মনে করছেন তারা।

প্রসঙ্গত, সওজের অধীনে সারা দেশে পাকা সড়ক-মহাসড়ক রয়েছে ১৯ হাজার ৩৮৭ কিলোমিটার। তবে সমীক্ষা পরিচালনা করা হয় ১২ হাজার ৬ কিলোমিটার সড়ক-মহাসড়কের ওপর। রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়ন প্রকল্প চলমান থাকায় বাকি সড়ক-মহাসড়ক সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। গত বছর ১০ মাস সড়ক-মহাসড়ক প্রত্যক্ষ পর্যবেক্ষণ করে এইচডিএম সার্কেল। এর ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্যমতে, ১২ হাজার ৬ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ভালো অবস্থায় আছে ২ হাজার ৩৩৬ কিলোমিটার বা ১৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ। ৪ হাজার ৪৯৯ কিলোমিটার বা ৩৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ সড়ক-মহাসড়ক মোটামুটি চলনসই। আর ৪৩ শতাংশ বা ৫ হাজার ১৭১ কিলোমিটার সড়কের অবস্থা খুবই খারাপ। এর মধ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলো তুলনামূলক ভাঙাচোরা কম। তবে জেলা সড়কগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ।

৩ হাজার ৪৬৭ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়কের মধ্যে ভালো অবস্থায় রয়েছে ৮৫৪ দশমিক ৪০ কিলোমিটার বা ২৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ। মোটামুটি চলনসই অবস্থায় রয়েছে ৪৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ জাতীয় মহাসড়ক। বাকি ২৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ খানাখন্দে ভরা।

সওজের ১০টি জোনের মধ্যে জাতীয় মহাসড়কের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ বরিশাল ও ময়মনসিংহে। এ দুই জোনে কোনো জাতীয় মহাসড়কই ভালো অবস্থায় নেই। এছাড়া রংপুর ও খুলনা জোনের মহাসড়কগুলোর অবস্থাও বেশ খারাপ। তবে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও গোপালগঞ্জ জোনের সড়ক। এর বাইরে ঢাকা, রংপুর ও সিলেট জোনের সড়কের বড় অংশ মোটামুটি চলনসই।

৩ হাজার ৫০১ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়কের মধ্যে ভালো অবস্থায় আছে ৭১৯ দশমিক ৭২ কিলোমিটার বা ২০ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আর ৪৩ দশমিক ২১ শতাংশ মোটামুটি চলনসই। ৩৬ দশমিক ২৩ শতাংশ ব্যবহার অনুপযোগী। আঞ্চলিক মহাসড়কের মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে গোপালগঞ্জ ও বরিশাল জোনে। অন্যদিকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কুমিল্লা ও রাজশাহী জোনের সড়কের। অন্যান্য জোনে মোটামুটি চলনসই সড়কই বেশি।

এদিকে ৫ হাজার ৩৭ কিলোমিটার জেলা সড়কের মধ্যে ৭৬১ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার বা ১৫ দশমিক ১২ শতাংশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। মোটামুটি চলনসই জেলা সড়ক ২৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। আর ৫৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ সড়ক ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ভালো অবস্থায় আছে বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ, গোপালগঞ্জ ও সিলেট জোনের সড়কগুলো। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও কুমিল্লা জোনের। আর ঢাকা জোনের সড়কগুলো মোটামুটি চলনসই।

জানতে চাইলে সওজের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান বণিক বার্তাকে বলেন, সওজের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দুই বছর অন্তর সারা দেশের সব সড়ক-মহাসড়ক পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর ভিত্তিতে প্রণীত প্রতিবেদন এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সড়কগুলো ব্যবহার উপযোগী রাখতে প্রয়োজনীয় বরাদ্দও চাওয়া হয়েছে। আশা করা যায়, বর্ষার আগে বেশির ভাগ সড়ক ব্যবহার উপযোগী করে তোলা যাবে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, ভাঙাচোরা জাতীয় মহাসড়কগুলোর মধ্যে চলতি অর্থবছর ২ হাজার ৭ কিলোমিটার মেরামত করতে হবে। আংশিক মেরামত করতে হবে ৬৭৫ কিলোমিটার ও পুনর্নির্মাণের প্রয়োজন হবে ৫০৩ কিলোমিটার। একইভাবে আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোর মধ্যে চলতি অর্থবছর ২ হাজার ২০২ কিলোমিটার মেরামত এবং ১৭৭ কিলোমিটার আংশিক ও ৪৭৫ কিলোমিটার পুরোপুরি পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এজন্য চলতি অর্থবছর বরাদ্দ প্রয়োজন ৭ হাজার ১৪৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

এদিকে চলতি অর্থবছর জেলা সড়কের মধ্যে ৪ হাজার ২৩১ কিলোমিটার মেরামত ও বাকিটা পুনর্নির্মাণ করতে হবে। এতে প্রয়োজন পড়বে ৪ হাজার ৮৯০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি প্রয়োজন হবে সড়ক-মহাসড়কগুলো ব্যবহার উপযোগী করতে।

শুধু অর্থ ব্যয় করেই সড়ক-মহাসড়কের অবস্থার উন্নতি সম্ভব নয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. সামছুল হক। তিনি বলেন, এ দেশে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের ধরনটা সঠিক নয়। প্রতি বছর বর্ষার পর রাস্তা সংস্কারে যেতে হয়। বিশ্বের আর কোথাও এ সংস্কৃতি নেই। সেখানে ১০-১২ বছর পর সংস্কার করা হয়। তবে দেশে বছর বছর এ খাতে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। কারণ দুটি— জলাবদ্ধতা ও ওভারলোডিং। এ দুটোকে বন্ধ করতে হবে। তা না হলে যতই অর্থ ব্যয় করা হোক, সুফল মিলবে না।

ইসমাইল আলী

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

ফিচার এর অারো খবর