যেখানেই হাত দেই দেখি বঙ্গবন্ধু কাজ শুরু করেছিলেন : প্রধানমন্ত্রী
যেখানেই হাত দেই দেখি বঙ্গবন্ধু কাজ শুরু করেছিলেন : প্রধানমন্ত্রী
২০১৬-০৩-১৯ ০২:১৪:২৫
প্রিন্টঅ-অ+


জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলার মানুষকে শোষণ বঞ্চনা থেকে মুক্তি দিতে আজীবন কাজ করে গেছেন মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনা করতে গিয়ে যেখানেই হাত দেই সেখানেই দেখি সব জায়গাতেই তার হাত, তার অবদান। বঙ্গবন্ধু সব জায়গায় কাজ শুরু করে গিয়েছিলেন। একজন মানুষ, একটি সরকার মাত্র সাড়ে তিন বছরে কিভাবে এত কাজ করতে পারে, তা ভাবতেই অবাক হতে হয়।’

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় শুক্রবার বিকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির জনক সত্যিকারের বাঙালির কথা বলেছেন সব সময়। তিনি ছয় দফা দিয়ে গ্রেফতার হন। এর আগেপরেও তাকে বার বার কয়েকবার গ্রেফতার করা হয়। সারাটা জীবন তিনি এ দেশের মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটি স্বাধীন দেশ গড়ে তুলতে বঙ্গবন্ধু শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ সকল সেক্টরেই কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি সকলকে পুনর্বাসিত করেছিলেন, লাঞ্চিত মা-বোনদের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। একটি স্বাধীন দেশের আইন-কানুন তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন। জাতিকে একটি সংবিধান দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্বীকৃতি সমর্থন ও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সদস্যপদ লাভ করেছিলেন।’

‘আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র আমরা সততা দিয়ে জয় করেছি’ উল্লেখ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ষড়যন্ত্র দূর করেই এখন পদ্মা সেতু নিজেরা করছি। এটি জাতি হিসেবে আমাদের গর্ব, আমাদের চ্যালেঞ্জ ছিল এই সেতু নির্মাণ, যা আমরা করছি। তবে দেশে ষড়যন্ত্র যে কমে গেছে তা নয়। ষড়যন্ত্র সবভাবেই হয়েছে— মানুষ পুড়িয়ে, ধ্বংস করেও দেশের ভেতরে ষড়যন্ত্র করেছে বিএনপি-জামায়াত।’

বিএনপির সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘যারা পুড়িয়ে মানুষ হত্যা করে। বাস, ট্রাক লঞ্চ, স্কুল কোনও কিছুই তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। তারা পুড়িয়ে সব কিছু ধ্বংস করে দিতে চায়। তারা মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে। তাদের আন্দোলন মানুষ হত্যার।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০১৫ সালে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, তিনি সরকার হটাবেন, আন্দোলন করবেন। তাদের আন্দোলন কি? তাদের আন্দোলন মানুষ হত্যা করা।’

তিনি বলেন, ‘৯২ দিন তিনি অফিসে বসে আন্দোলনের নামে মানুষ হত্যা করছেন। বাসে, ট্রেনে, লঞ্চে, আগুন দিয়ে মানুষ হত্যা করলেন। যাদের আন্দোলন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা হয়েছে তাদের পরিবারের লোকজনের কিভাবে জীবন কাটচ্ছে? কেমন আছেন সেই পোড়া মানুষেরা। সেই খবর তিনি একবারও ভাবেন না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সরকারে থাকাকালীন দারিদ্র্য বিমোচনে যত পদক্ষেপ নিয়েছে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর তা সবকিছু নস্যাৎ করে দিয়েছিল। এমনকি বয়স্ক এবং বিধবা ভাতা যেগুলো আমরা দিয়েছিলাম সেই বয়স্ক এবং বিধবা ভাতা দিতে গেলেও তারা সেখান থেকে পয়সা খেত। এভাবে তারা দেশে এমন এক অরাজকতা সৃষ্টি করে তা ভাষায় বর্ণনা করা যায় না। যেখানে মানুষের সব স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে যায়। বাংলা ভাই, জঙ্গিবাদ দিয়ে তারা প্রকাশ্য দিবালোকে অস্ত্র উঁচিয়ে মিছিল করে সরকার পাহারা দেয়।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এদের চরিত্রই হলো খুনিদের নিয়ে থাকা, তাদের সঙ্গে চলা। এরা দেশের ভালোর জন্য কোনো কাজ করতে পারে না। দেশ এগিয়ে যাক এটাও তারা চায় না।’

বাংলাদেশে এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ ব্যাহত করতে পারবে না। আমরা জাতির জনকের সোনার বাংলা গড়ে তুলব-ই। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু আমরা নিম্ন থাকব না। ২০২১ সালের মধ্যে অবশ্যই আমরা মধ্যম ও ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত এবং দক্ষিণ এশিয়ার শান্তিপূর্ণ দেশে পরিণত হব।’

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, ‘যিনি আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। তার আদর্শ বুকে নিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। আমরা জাতির জনকের সোনার বাংলা গড়ে তুলব-ই। তার জন্মদিনে এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’

আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

স্বদেশ এর অারো খবর