৭৫ হাজার আইটি প্রফেশনালকে প্রশিক্ষণ দেবে সরকার
৭৫ হাজার আইটি প্রফেশনালকে প্রশিক্ষণ দেবে সরকার
২০১৬-০৩-১৯ ০১:৫৯:৫৬
প্রিন্টঅ-অ+


আইটি খাতে বাংলাদেশের আরও উন্নয়নে দক্ষ জনশক্তির অভাবকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, সরকার এ সমস্যা সমাধানে আগামী তিন বছরে ৭৫ হাজার আইটি প্রফেশনালকে প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

জার্মানিতে সিইবিআইটি পডকাস্টকে দেয়া সাক্ষাৎকারে জয় এসব কথা বলেন। সেন্টার ফর অফিস অটোমেশন, ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন (সিইবিআইটি) প্রদর্শনীতে যোগদানে জয় এখন জার্মানির হ্যানোভারে অবস্থান করছেন।

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, আইটি খাতের আরও উন্নয়নে বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি স্বল্পতা একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ। এ কারণে বাংলাদেশ প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত আইটির শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে পারছে না।

তিনি বলেন, এ বিষয়টি মাথায় রেখে আমাদের সরকার তিন বছরের মধ্যে ৭৫ হাজার আইটি প্রফেশনালকে প্রশিক্ষণ দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।

বহুল আলোচিত হ্যাকিং ইস্যু সম্পর্কে জয় বলেন, বাংলাদেশে সংগঠিত হ্যাকিংয়ের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা বলা কঠিন। তবে কাসপারেস্কি গ্রুপের মতে হ্যাকারদের টার্গেটের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান এক নম্বরে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি আমাদের দ্রুত ডিজিটালাইজের কারণেই এটি ঘটেছে। আমরা সরকারি সেবাসমূহকে ডিজিটালাইজড করছি।

জয় বলেন, হ্যাকারদের প্রতিরোধে আমরা আমাদের সিস্টেমকে ভার্সন-২এ হালনাগাদ করছি। কারণ আমাদের আইটি সিস্টেমের অধিকাংশই এখনো ভার্সন-১এ রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা যখন আইটি ব্যবস্থার সূচনা করি তখন দেশে পর্যাপ্ত বিশেষজ্ঞ ছিল না। আমাদেরকে ১০ গুণ বেশি মূল্যে বিদেশি বিশেষজ্ঞ আনতে হয়েছে।

জয় বলেন, বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ ডিজিটালাইজেশন হয়েছে স্থানীয় কোম্পানিগুলো ধারা। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্র ও ব্যাংক ডিজিটালাইজেশন হয়েছে একটি বিদেশি কোম্পানির মাধ্যমে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের একটি প্রকল্পের আওতায় একটি বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটালাইজড করেছে। এখানেই প্রথমবারের মতো বড় ধরনের হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু অন্যান্য সরকারি সেবায় এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

তিনি বলেন, অবকাঠামো প্রতিষ্ঠার পর ডিজিটালাইজেশনের পাশাপাশি আইটি প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। কারণ এখানে কোনো আইটি ইন্ডাস্ট্রি নেই। এ কারণে বাংলাদেশে দক্ষ আইটি বিশেষজ্ঞও নেই।

প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা বলেন, সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের আইটি প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশে পাঠাতে চায় না। কারণ এটি খুব ব্যয়বহুল। আমাদের সরকার দেশের মধ্যেই জনগণকে আইটি প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

জয় বলেন, সরকার বিশেষজ্ঞদের পড়াশোনার জন্য বিদেশে যেতে এবং বাংলাদেশে ফিরে কাজ করতে উৎসাহ দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, আমরা একটি পিপিপি সেল প্রতিষ্ঠা করেছি। সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উচ্চ বেতনে নিয়োগ দিচ্ছি। দেশের জন্য কাজ করতে আমরা তাদেরকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছি।

যোগাযোগ জোরদারকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা খুবই খারাপ। আন্তর্জাতিক যোগাযোগ একমাত্র সাবমেরিন ক্যাবলের ওপর নির্ভরশীল। কোন কারণে এটি কাটা পড়লে সারাদেশ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। আমরা শিগগিরই এই যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করবো।

জয় বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতের মধ্যদিয়ে ইন্টারনেট যোগাযোগ বজায় রেখেছে। দ্বিতীয় সাবমেরিন ক্যাবলের কাজ চলছে। দেশব্যাপী ফাইবার অপটিক বসানোর কাজ শুরু করতে আমরা বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করছি। এ জন্য আমরা একটি কমিটি গঠন করেছি। এই কমিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে ফাইবার অপটিক সম্প্রসারণে বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর