এটিএম জালিয়াতি চক্র এবার নতুন ফন্দি আঁটছে
এটিএম জালিয়াতি চক্র এবার নতুন ফন্দি আঁটছে
২০১৬-০৩-১৬ ০১:৩৮:২৯
প্রিন্টঅ-অ+


আদালত ও গোয়েন্দাদের কাছে নানা ধরণের ভুল তথ্য দিয়ে সহানুভূতি নেয়ার চেষ্টা করছেন বাংলাদেশের এটিএম জালিয়াতির মূল ভিলেন পিওটর সিজোফেন ও তার সহযোগিরা। তদন্তে সংশ্লিষ্টদের তিনি এটাও বলছেন যে, এই কাজ ঘোরের ভেতরে হয়ে গেছে জেল থেকে বের হলে ভালো মানুষ হয়ে যাবো।

সম্প্রতি আদালতে এক সাংবাদিক ছবি তুলতে গেলে তাকে মারধরের চেষ্টাও করেন এই পিওটর। এই জালিয়াত চক্রটিকে ধরিয়ে দেওয়ার সহযোগিতা করার কারণে পিওটর চক্র কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে মিথ্যে ভাবে জড়ানোর চেষ্টা করছেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

তাদের চক্রটি ‘স্কিমিং ডিভাইস’ নামের বিশেষ যন্ত্র বসিয়ে গ্রাহকদের কার্ডের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির মাধ্যমে ক্লোন কার্ড তৈরি করে টাকা তুলে নেয়। তাদের এ চক্রে ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেল ব্যবসায়ী, পুলিশ ও কয়েকটি ব্যাংকের কার্ড শাখার কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছেন বলে দাবি করে গত বৃহষ্পতিবার (১০ মার্চ) ঢাকার মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক আতিকুর রহমানের কাছে জবানবন্দি দেন পিওটর।

এর একদিন আগে বুধবার বনানী থানার একটি মামলায় গ্রেফতার হওয়া আবু জাফর মিয়া মহানগর হাকিম আসাদুজ্জামান নূরের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এটিএম কার্ড জালিয়াতির পদ্ধতির বিবরণ দেন। এটিএম কার্ড জালিয়াতির ঘটনায় ট্রাভেল এজেন্ট, হোটেল ব্যবসায়ী, কয়েকটি ব্যাংকের কার্ড শাখার কর্মী ও কয়েকজন পুলিশ সদস্য জড়িত ছিলেন বলে তিনিও আদালতকে জানান।

এটিএম জালিয়াতির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাগুলো তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা ও অপরাধ তথ্য বিভাগ (ডিবি)।তদন্ত সূত্র জানায়, পিওটর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তার তিন বিদেশি সহযোগী ছাড়াও গুলশান থানার সাবেক ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ফিরোজ কবিরসহ তিন পুলিশ সদস্য, গুলশানের ট্রাভেল ব্যবসায়ী ‘খান এয়ার ট্রাভেলস’র পরিচালক তাওহীদুল ইসলাম খান ও হোটেল ব্যবসায়ীসহ কয়েকটি ব্যাংকের কার্ড শাখার কর্মকর্তাদের নাম বলেছেন।

এ বিষয়ে জানতে খান এয়ার ট্রাভেলসের মালিক তাওহীদুল ইসলাম খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেছেন, পিওটরের জালিয়াতির ও তাদের নাম বলার নেপথ্যের কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। তাওহীদ খান বলেন, পিওটরের সঙ্গে তার পরিচয় ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিলো এটা ঠিক। কিন্তু যখনই তারা জানতে পারেন পিওটর যে পাসপোর্টে বাংলাদেশে এসেছেন সেটি জাল এবং তার চাল-চলন সন্দেহজনক, তখনই তারা বিষয়টি থানা পুলিশসহ কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যকে অবহিত করেন। এরপরই পিটার ও তার সহযোগিরা তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে থাকেন। বাংলাদেশ ছেড়ে চলে যাওয়ারও প্রস্তুতি নিতে থাকেন। কিন্তু এটিএম বুথ জালিয়াতির ঘটনায় ধরা পড়ে যাওয়ায় এখন তাকে ও তার প্রতিষ্ঠানকে ফাঁসিয়ে দিতে ফন্দি আঁটছেন পিওটর ও তার সহযোগিরা।

এরপর তিনি বলেন কীভাবে তাদের সাথে পিওটরের পরিচয় হয় এবং সুত্রপাত হয় প্রতারণার। জার্মান নাগরিক পিওটর গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম সপ্তাহে খান এয়ার ট্রাভেল্স-এ যান বিমানের টিকেট কেনার জন্য। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের সেল্স ম্যানেজার মি. হিরুর সঙ্গে কথা হয় তার। হিরুর সঙ্গে কথা বলে তিনি সন্তুষ্ট হন। তাই তাকে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে হিরুর প্রতি অনুরোধ করেন পিওটর।

রাশিয়ান অ্যাম্বাসির শিক্ষা বিষয়ক কর্মকর্তা ও প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে তাদের সকল টিকেট এবং ট্রাভেল্স সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে করার ব্যপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন। রাশিয়ান অ্যাম্বাসির কর্মকর্তা পরিচয়ে একটি ভিজিটিং কার্ডও তাদের দেন পিওটর। এরপর হিরু অপারেশন ম্যানেজার জাহাঙ্গীরের সঙ্গে বিষয়টি আলাপ করেন।

পিওটর যেহেতু একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাম্বাসির সকল করপোরেট সার্ভিস প্রদানের ব্যাপারে আলোচনা করতে চান, সেজন্য জাহাঙ্গীর উৎসাহিত হয়ে হিরুর সঙ্গে আলাপ করে প্রতিষ্ঠানের পরিচালক তাওহীদ খানকে বিষয়টি অবহিত করেন। তখন তাওহীদ খান তার ম্যানেজারদের সঙ্গে আলোচনা করে পিটারের মাধ্যমে রাশিয়ান অ্যাম্বাসির সঙ্গে যোগাযোগ করার বিষয়টি অনুমোদন করেন।

এরপর পিওটর সিজোফেন খান এয়ার ট্রাভেলস এ যাওয়া-আসা শুরু করেন। কিছুদিন যাওয়ার পর পিওটর খান এয়ার ট্রাভেলসকে রাশিয়ান অ্যাম্বাসির এজেন্ট (ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার) করে দেওয়ার ব্যাপারেও আলোচনা করেন। যা তার জন্য খুবই সহজ কাজ বলে দাবি করেন। বিশেষ করে রাশিয়ান দু’টি ইউনিভার্সিটির অ্যাডমিশন অফিস হিসেবে অনুমোদন করিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে তিনি ট্রাভেল্স কর্তৃপক্ষকে উৎসাহিত করতে থাকেন। যেখানে ভর্তিচ্ছু ছাত্র-ছাত্রীরা সরাসরি এখান থেকেই তাদের ভর্তি সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ সেবা পাবেন।

পিওটর তাদের আরও জানান,ইউনিভার্সিটির অ্যাডমিশন অফিস এবং রাশিয়ান অ্যাম্বাসির এজেন্সি অফিস তথা ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে তার চেয়ার-টেবিলসহ দু’টি কক্ষ প্রয়োজন। যাতে রাশিয়ান অ্যাম্বাসির কর্মকর্তারা যেকোনও সময় ব্যবহার ও ভিজিট করতে পারেন। তার কথায় বিশ্বাস করে প্রতিষ্ঠানের এজেন্সির এবং অ্যাডমিশন অফিসের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করলেও অদ্যাবধি সেটির কোনও অগ্রগতি নেই।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর