নদী রক্ষায় দশ দফা দাবি দুটি পরিবেশবাদী সংগঠনের
নদী রক্ষায় দশ দফা দাবি দুটি পরিবেশবাদী সংগঠনের
২০১৬-০৩-১৫ ০২:১১:৪৯
প্রিন্টঅ-অ+


শিল্প কারখানায় বর্জ্য পরিশোধন প্ল্যান্ট সংযোজন করতে বাধ্য করা এবং গৃহস্থালি ও হাসপাতালের বর্জ্য নদীতে ফেলা বন্ধ ও তরল বর্জ্য পরিশোধন করা সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করতে প্রশাসনিক শক্তি প্রয়োগ সহ নদী রক্ষায় ১০ দফা দাবি জানিয়েছে পরিবেশবাদী দুটি সংগঠন।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (বাপা) ও জাতীয় নদী রক্ষা আন্দোলনের পক্ষ থেকে মূল বক্তব্যে বাপার সাধারণ সম্পাদক ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব ডা. মো. আব্দুল মতিন এসব দাবি তুলে ধরেন।

সম্মেলনে নদী রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারবার নদী রক্ষায় তার দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করেছেন। কিন্তু প্রশাসনিক উদাসীনতার কারণে কোন সুফল দৃশ্যমান হচ্ছে না।

তিনি জানান, ২০০৩ সালে দেশের উচ্চ আদালত থেকে নদী রক্ষায় একটি রায়ে নদী রক্ষার প্রথম কাজ হিসেবে নদীর সীমানা নির্ধারণ ও দখলমুক্ত করতে বলা হয়েছে। নদী রক্ষার লক্ষ্যে নদী টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, টাস্কফোর্স গত ৫/৬ বছরে একটি নদীও দখলদারমুক্ত করতে পারেনি, বরং ঢাকার চারদিকের নদীর বিশাল আয়তনের জমি ছেড়ে দিয়ে ভুল স্থানে খুঁটি বসিয়ে দখলদারদের বৈধ করা হয়েছে। এ সময় সম্প্রতি গঠিত নদী রক্ষা কমিশনের নির্বাহী ক্ষমতা নেই মন্তব্য করে একটি নির্বাহী ক্ষমতাসম্পন্ন একটি শক্তিশালী নদী কমিশনের দাবি জানান তিনি।

ডা. আব্দুল মতিন বলেন, জাতিসংঘ পানিপ্রবাহ আইনের সকল দিকনির্দেশনার বাস্তবায়নের ভিত্তিতেই অভ্যান্তরীণ, আঞ্চলিক ও আর্ন্তজাতিক নদীসমূহের সকল প্রকার সংকট নিরসন সম্ভব। তিনি আরও বলেন, আমাদের উজানের রাষ্ট্রসমূহের সাথে নদীর ধ্বংসের মুখে থাকা স্বত্ত্বেও বাংলাদেশের সরকার অভ্যন্তরে ভুল প্রকৌশল কার্যক্রম অনুস্বাক্ষর করেনি, আমাদের নিজস্ব নদী ধ্বংসাত্মক দখল-দূষণ-অবকাঠামো নির্মাণ কার্যক্রম ত্যাগও করেনি। বিপর্যস্ত নদী থেকে নানা কায়দায় অর্থ বানাচ্ছে কতিপয় রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক-প্রশাসনিক-কারিগরি ব্যক্তিবর্গ ও শিল্পপতিমহল আর ধ্বংসের মুখে নদী, নদী নির্ভর দারিদ্র্য অসহায় মানুষ ও সার্বিক পরিবেশ। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক, এটি চলতে থাকলে আমরা অচিরেই ভয়াবহ নদী বিধ্বস্ত দেশে পরিণত হবে। এ পরিস্থিতি থেকে বেড়িয়ে আসার জন্য সরকারি মহলে এ ব্যাপারে কোন সুষ্ঠু বিশ্লেষণ ও পরিকল্পনার নজির দেখা যাচ্ছে না।

সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত অন্যতম দাবিগুলো হলো : নদীর ওপর কাঁচা অথবা পাকা পায়খানা নির্মাণ বন্ধ; জমিতে রাসায়নিক সার-কীটনাশক ব্যবহার হ্রাস ও বন্ধ করা; নৌযান নির্গত ময়লা, বর্জ্য, তেল পানিতে ফেলা নিষিদ্ধকরণ ও নৌযানে তেলের পরিবর্তে সোলার বা গ্যাস ব্যবহার করা; আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সকল নদীর সীমানা নির্ধারণ; নির্মোহভাবে দখলদার উৎখাত ও তা দখলমুক্ত রাখা; মৃত ও ভরাট নদী ড্রেজিং করে তার প্রবাহ ও নাব্য পুনরুদ্ধার এবং নদীর মাটি বা পাড় ইজারা দেয়া বন্ধ করা।

সংবাদ সম্মেলনে বাপার জাতীয় পরিষদের সদস্য জাভেদ জাহান, নাজিমউদ্দিন নাজিম আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

পরিবেশ এর অারো খবর