বাংলাদেশ ব্যাংকের ১১টি কম্পিউটার জব্দ
বাংলাদেশ ব্যাংকের ১১টি কম্পিউটার জব্দ
২০১৬-০৩-১৪ ১১:৪৫:৪৭
প্রিন্টঅ-অ+


রিজার্ভের অর্থ খোয়া যাওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগের ১১টি কম্পিউটার জব্দ করেছেন তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা। জব্দকৃত কম্পিউটারগুলোর হার্ডডিস্ক ও সংশ্লিষ্ট সার্ভারের ফরেনসিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এর আগে তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। গতকাল বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ওই বৈঠকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা যোগ দেন।

বৈঠক সূত্র জানায়, ঘটনার পর প্রথমে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি বিশেষ দল তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। এর পর আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও ঘটনার ছায়া তদন্তে নামে। মূলত তদন্ত কার্যক্রমে সমন্বয় আনতেই গতকালের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট পক্ষ পারস্পরিক তথ্য বিনিময় করে।

সূত্র জানায়, জব্দকৃত কম্পিউটারের হার্ডডিস্কের ফরেনসিক পরীক্ষায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে ধারণা করছেন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে তদন্ত-সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট (সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টারব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন) সিস্টেম ব্যবহার করে রিজার্ভের অর্থ চুরির পর লেনদেনে সতর্ক হয়ে উঠেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে বর্তমানে লেনদেনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইফট বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি টেলিফোনের মাধ্যমে পুনরায় বিষয়টি নিশ্চিত করছে। এছাড়া সব ক্ষেত্রেই তারা এমন বার্তা দিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো লেনদেন কার্যকর করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে নেয়।

ফিলিপাইনে সিনেটের শুনানিতে রাষ্ট্রদূতকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ: ফিলিপাইনের সিনেট ব্লু রিবন কমিটি (সিনেট) বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির তদন্তে তিনজনের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিউইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভে সঞ্চিত অর্থ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার খোয়া যায়। এ অর্থ চুরির ঘটনা তদন্তের জন্য তিন অভিযুক্তকে তলব করা হয়। আগামীকাল স্থানীয় সময় বেলা দেড়টায় এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এতে ফিলিপাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে অনুরোধ করা হয়, আগামীকাল ফিলিপাইনের সিনেট ব্লু রিবন কমিটিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ চুরির বিষয়ে শুনানি হবে। শুনানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে উপস্থিত থেকে একটি প্রতিবেদন পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রদূতকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

সিনেটের এ তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ফিলিপাইনের তিওফিস্তো গুইনগোনা-থ্রি। এরই অংশ হিসেবে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) প্রেসিডেন্ট লরেঞ্জো তান, আরসিবিসির মাকাতি সিটির জুপিটার স্ট্রিট শাখার ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতো এবং হোটেল ও ক্যাসিনো মালিক উইলিয়াম সো গোকে তলব করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার স্ট্রিট শাখার পাঁচটি হিসাবের মাধ্যমে এ অর্থ ফিলিপাইনে প্রবেশ করে। পরে তা ক্যাসিনো ঘুরে আবার একই শাখার উইলিয়াম সো গোর অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে, যার মাধ্যমে তা ফিলিপাইন থেকে হংকংয়ে স্থানান্তর করা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর