পাচার, চুরি ও লুটের টাকায় হতো ২৫টি পদ্মা সেতু
পাচার, চুরি ও লুটের টাকায় হতো ২৫টি পদ্মা সেতু
২০১৬-০৩-১৪ ০১:৫৫:২০
প্রিন্টঅ-অ+


দেশ থেকে বিভিন্ন সময়ে পাচার, চুরি ও লুট হয়েছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। যার পরিমাণ প্রায় ৬ লাখ ৮২ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা। যা বর্তমান জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ। উল্লেখ্য, দেশের মোট জাতীয় উৎপাদনের পরিমাণ, (জিডিপি) ১৭ লাখ ১৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর সঙ্গে মিসিং অর্থ যোগ করলে মোট জিডিপি হতো, ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৭০০ কোটি টাকার।


চলতি বছর প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ। যদি জিডিপিতে চুরি যাওয়া অর্থ যোগ করা যেত তাহলে দেশের জিডিপির হার হতো ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। যা চীনের প্রবৃদ্ধির হারের চেয়েও ১ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে বলা যায় দেশের মিসিং অর্থ দিয়ে এই সময়কালে ২৫টি পদ্মা সেতুও নির্মাণ করা সম্ভব হতো। পদ্মা সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ২৫ হাজার কোটি টাকা।

এ বিষয়ে অর্থনীতি সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. জামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, জালিয়াতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। না হয় এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, যারা মানি লন্ডারিং করেন, তারাই মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে সবচেয়ে বেশি কথা বলেন। তাদেরকে বিচারের আওতায় আনা উচিত। দেশের আর্থিক খাতের অনিয়ম দূর করা না গেলে আমাদের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

দেশের অন্যতম আর্থিক কেলেঙ্কারিগুলোর মধ্যে একটি হলো শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি। এরপরে রয়েছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট। দেশ থেকে অর্থ পাচার ও সর্বশেষ বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভের অর্থ চুরি। ২০০৪ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত দেশ থেকে ৫ লাখ ৪১ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটি (জিএফআই) সম্প্রতি এই তথ্য প্রকাশ করেছে। জিএফআই বলছে, ট্রেড মিসইনভয়েসিং, পণ্য আমদানি-রপ্তানির চালানে প্রকৃত মূল্য আড়াল, কর ফাঁকি দিয়ে এই পরিমাণ অর্থ পাচার হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, আমদানির আড়ালে অর্থ পাচারের কথা সবাই জানেন। আমার তো মনে হচ্ছে, রপ্তানির আড়ালেও অর্থ পাচার হতে পারে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে চুরি গেছে ৮০০ কোটি (১০১ মিলিয়ন ডলার) টাকা। চলতি বছরের ৪ ফেব্র“য়ারি ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইর্য়ক থেকে হ্যাকাররা এ টাকা চুরি করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনার সঙ্গেও বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জড়িত রয়েছেন বলে অনেকেই ধারণা করছেন।


এটিএম বুথ কেলেঙ্কারি : তিন ব্যাংকের ছয়টি এটিএম বুথ থেকে ২০ লাখ টাকার ওপরে চুরি হয়েছে। এছাড়া পজ মেশিনের মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা খোয়া যাওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে। এসব টাকা উদ্ধারে বর্তমানে একাধিক মামলা করা হয়েছে। মামলাগুলোর তদন্ত করতে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। দেশে ৮৫ লাখের মতো এটিএম কার্ড ব্যবহারকারী রয়েছেন। ক্রেডিট কার্ডের গ্রাহক রয়েছে আরও ৫ লাখ। বিপরীতে সব ব্যাংকের ৭ হাজারের মতো এটিএম বুথ রয়েছে।

বাণিজ্যিক ব্যাংকে জালিয়াতি : বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হিসাবে থাকলেও বাস্তবে কার্যকর নেই প্রায় এক লাখ ৮ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো এ টাকা থেকে কোনো মুনাফা পাচ্ছে না। কিন্তু ব্যাংকগুলো এ টাকার সুদ পরিশোধ করছে আমানতকারীদের।

অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতের অবলোপনকৃত ঋণের (রাইট আফ) পরিমাণ প্রায় ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এসব টাকা আদায়ের সম্ভাবনা খুবই কম। অব্যাহত খেলাপির ধারায় ব্যাংকগুলো হিসাবের বাইরে রেখেছে এসব অর্থ। এর বাইরে ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। খেলাপি এ টাকা থেকে একদিকে কোনো সুদ আসে না। এর বিপরীতে বিভিন্ন হারে প্রভিশন রাখতে হচ্ছে ব্যাংকগুলোকে। এই টাকা সংগ্রহ করতে ব্যাংকগুলোকে নিয়মিত ঋণের ওপরে অতিরিক্ত সুদ বসাতে হচ্ছে। খেলাপি ঋণের এই বিপুল পরিমাণ টাকার উভয়মুখী অভিঘাত বিপর্যস্ত ব্যাংকিং খাত।

অন্যদিকে সরকার কয়েকজন ব্যবসায়ীকে সম্প্রতি ঋণ পুনর্গঠন সুবিধার নামে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা খেলাপি ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দিয়েছে। বাস্তবে তারা ঋণ খেলাপি। পুনর্গঠন সুবিধা পাওয়া ব্যবসায়ীরা ওসব ঋণের সর্বনিু সুদ হার উপভোগ করতে পারবেন। ঋণের ধরনভেদে এ সুবিধা অব্যাহত থাকবে ৬ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত। এ ঋণ মূলধারাতে আনার চেষ্টায় সরকার পুনর্গঠন সুবিধা দিলেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ আমানত সংগ্রহ করতে সমান হারে সুদ গুণতে হয়েছে। এ ঋণের লোকসান উঠানোর জন্য উচ্চ হারে সুদ বসাতে হচ্ছে নিয়মিত ঋণ গ্রহিতার ওপর।

এ ব্যাপারে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ জায়েদ বখ্ত বলেন, বিপুল পরিমাণ এই খেলাপি ও অবলোপনকৃত অর্থের প্রভাব গিয়ে পড়ছে অর্থনীতির ওপর। এ সব টাকা নিয়মিত থাকলে কম সুদে আরও বেশি পরিমাণে বিনিয়োগ করা সম্ভব হতো। যদিও এ টাকা অনেকদিন থেকে খেলাপি ও অবলোপন হয়ে আছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকের মোট ঋণের ৬৭ হাজার কোটি টাকা আদায়ের সম্ভাবনা নেই। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। এরপরই আছে জনতা ব্যাংক প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা। রূপালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৬ হাজার কোটি টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। অন্যান্য ব্যাংক মিলিয়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিতরণ করা মোট ঋণের বর্তমানে প্রায় ২৫ ভাগই খেলাপি। যা মোট ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এদিকে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী গত ডিসেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের অবলোপন করা হয়েছে ৩৪ হাজার কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংকের এমডি প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন, খেলাপি ঋণ আদায়ে আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছি। ঋণ আদায়ের হার সোনালী ব্যাংকে অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের শাখাগুলোতে টার্গেট দিয়ে খেলাপি ঋণ আদায় করা হচ্ছে। পুরনো ঋণ আদায়ে আমরা সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছি। আমি বলতে পারি, ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে সোনালী ব্যাংক অনেক ভালো অবস্থানে রয়েছে।

শেয়ারবাজার : শেয়ারবাজারে চাঙ্গাকালীন সময়ে অর্থাৎ ২০০৯-১০ সালে বিভিন্ন কোম্পানি শেয়ারবাজার থেকে ৪১ হাজার ৩৮৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা তুলে নিয়েছিল। আর ১৯৯৬ সালের শেয়ার ধসে ১০ হাজার কোটি লুটপাট করা হয়। প্রেফারেন্স শেয়ার, সরাসরি তালিকাভুক্তি, ঋণকে ইক্যুইটিতে রূপান্তর, বুক বিল্ডিং পদ্ধতি, রিপিট পাবলিক অফার, আইপিও, প্রাইভেট প্লেসমেন্ট, বোনাস শেয়ার, মার্চেন্ট ব্যাংকিং অপারেশন এবং বোনাস ও রাইট শেয়ার ঘোষণা ইত্যাদি পদ্ধতিতে এ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে শেয়ারবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ করার কথা বলে টাকা সংগ্রহ করলেও ওইভাবে শিল্পায়ন করেনি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, টাকা কোনখাতে ব্যয় হয়েছিল তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি)। এভাবে শেয়ার বাজার থেকে টাকা লুটপাট করা হয়েছিল।

ডিএসইর এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, শেয়ারবাজারে চাঙ্গাকালীন সময়ে অর্থাৎ ২০০৯-১০ সালে বিভিন্ন কোম্পানিগুলো শেয়ারবাজার থেকে ৪১ হাজার ৩৮৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিল। এর মধ্যে প্রেফারেন্স শেয়ারের মাধ্যমে ১ হাজার ১৬২ কোটি ৯৮ লাখ টাকা, সরকারি কোম্পানি সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে ২ হাজার ২৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা, বেসরকারি কোম্পানি সরাসরি তালিকাভুক্তি ১ হাজার ৯৯৬ কোটি ৫১ লাখ টাকা, ঋণকে ইক্যুইটিতে রূপান্তর ৬৪৫ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, বুক বিল্ডিং পদ্ধতিতে ৯৬০ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, রিপিট পাবলিক অফার ২০ কোটি টাকা, আইপিও মাধ্যমে ৮৯১ কোটি ২৩ লাখ টাকা, প্রাইভেট প্লেসমেন্ট ২ হাজার ৪৫২ কোটি ৬৪ লাখ টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডের আইপিও ৯১৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা, মিউচুয়াল ফান্ডের প্রাইভেট প্লেসমেন্ট ৭৬৬ কোটি টাকা, উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বোনাস শেয়ার বিক্রি ৩ হাজার ৭৬৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, বোনাস ও রাইট শেয়ার দিয়ে কোম্পানিগুলোর মূলধন সংগ্রহ ২৪ হাজার ৪৪৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা এবং মার্চেন্ট ব্যাংকিং অপারেশনের মাধ্যমে ১ হাজার ৩২৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল।

ওই সময় দেশের তিনটি বড় শিল্পগ্রুপ শেয়ারবাজার থেকে ৩ হাজার ৬৭৩ কোটি ২২ লাখ টাকা সংগ্রহ করেছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি টাকা নিয়েছে সালমান এফ রহমানের মালিকানাধীন বেক্সিমকো। গ্রুপটি ১ হাজার ৬৩১ কোটি ৩০ লাখ টাকা নিয়েছে। আজিজ খানের মালিকানাধীন সামিট গ্রুপ নিয়েছে ১ হাজার ৪৮৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা এবং শফিউল ইসলাম কামালের মালিকানাধীন নাভানা গ্রুপ নিয়েছে ৫৫৬ কোটি ৬৫ লাখ।

সরকার মালিকানাধীন ছয় ব্যাংক : ডকুমেন্টে কারসাজি, মিথ্যা ঘোষণা, জমির জাল দলিল, সম্পত্তির বর্ধিত মূল্য সরকারি-বেসরকারি হস্তক্ষেপে রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন ব্যাংক থেকে এক অর্থে লুট করে নেওয়া হয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ কমার্স- এ ছয়টি ব্যাংক থেকে সাম্প্রতিককালে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে হলমার্ক কেলেঙ্কারির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক খাতের সোনালী ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে ৩ হাজার ৬শ কোটি টাকা। শুধু শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু চেয়ারম্যান থাকাকালীন বেসিক ব্যাংক থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা।

কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) অফিসের প্রতিবেদন মতে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অপর বাণিজ্যিক ব্যাংক জনতায় সংঘটিত হয়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি। এ ১৩ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি ছাড়াও সোনালী, জনতা ও বেসিক ব্যাংকে রয়েছে আরও বেশকিছু জাল-জালিয়াতি। আর অগ্রণী, রূপালী ও বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকের সাম্প্রতিক জালিয়াতিতেও হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে বিপুল পরিমাণে অর্থ। সবমিলিয়ে ছয়টি ব্যাংকে গত ক’বছরেই জালিয়াতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা।

জানা গেছে, ২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে উদ্ঘাটিত হয় সোনালী ব্যাংকে হলমার্ক জালিয়াতির ঘটনা। এর মাধ্যমে ব্যাংকটি থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় ৩ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। এ টাকাগুলো নামে-বেনামে তুলে নেয় হলমার্ক গ্রুপ। ২০১৩ সালে সোনালী ব্যাংকের বাণিজ্যিক অডিটে ১৪২ কোটি টাকার অনিয়ম ধরা পড়ে। যা অস্তিত্বহীন প্রকল্প ও বিদেশি নাগরিককে দেওয়া হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। সে বছর সোনালী ব্যাংকের কলকাতা শাখায় নানা অনিয়মে ১শ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ব্যাংকের পরিদর্শনে উল্লেখ করা হয়। একই বছর সোনালী ব্যাংকের বঙ্গবন্ধু এভিনিউ শাখায় পারটেক্স গ্রুপের ১৩৬ কোটি টাকার অনিয়ম শনাক্ত হয়। ২০১৫ সালে সোনালী ব্যাংকের চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫ কোটি টাকার জালিয়াতি উদ্ঘাটিত হয়। একই বছর ব্যাংকের পরিদর্শনে বেরিয়ে আসে বঙ্গবন্ধু এভিনিউ শাখায় কর্মকর্তাদের অভিনব দুর্নীতির তথ্য। যার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া হয় প্রায় ১শ কোটি টাকা। ২০১৪ সালে সরকারের প্রধান নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেলের (সিএজি) কার্যালয়ের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে জনতা ব্যাংকের প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতির তথ্য উঠে আসে। ওই বিশেষ নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪৩টি হিসাবের (ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান) বিপরীতে এ অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়। ২০১৫ সালে জনতা ব্যাংকের আবুধাবি শাখায় অনিয়মের ঘটনা শনাক্ত হয়। আর ঝুঁকি বিবেচনা না করে এবং জামানত না নিয়ে অগ্রণী ব্যাংকের লালদীঘি শাখায় ঋণ দেওয়ার কারণে ৯৬৫ কোটি টাকার অনিয়ম শনাক্ত হয়েছে গত বছর। একই ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে সানমুন গ্রুপকে দেওয়া প্রায় ১ হাজার ২শ কোটি টাকা ঋণের মধ্যে অনিয়ম ধরা পড়ে প্রায় ৩শ কোটি টাকার। এ অনিয়মের কারণে ইতোমধ্যে ব্যাংকটির এক ডিএমডিকে অপসারণ করা হয়েছে। আর ব্যাংকের এমডি আবদুল হামিদকে অপসারণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত বছরের মার্চে সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে উল্লেখ করা হয়, নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে রূপালী ও জনতা ব্যাংকে ক্ষতির পরিমাণ ৬২৭ কোটি টাকা। আর অনিয়মের কারণে অন্য বেশ কয়েকটি ব্যাংকের ন্যায় পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংকেও। ব্যাংকটির দুটি শাখায় ২০৫ কোটি টাকার জালিয়াতি উদ্ঘাটিত হয় ২০১৪ সালে। এরপরও আরও কিছু অনিয়ম ও জাল-জালিয়াতি উঠে আসে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিদর্শনে। ২০০৬ সালে সাবেক ওরিয়েন্টাল ব্যাংক কেলেঙ্কারির মাধ্যমে লুট করা হয়েছে ৭৫০ কোটি টাকা।

এমএলএম প্রতিষ্ঠানের জালিয়াতি : ডেসটিনি, যুবক এবং ইউনিপেটুইউসহ বিভিন্ন মাল্টি লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানি হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ডেসটিনির গ্রাহকদের গচ্ছা গেছে ৪ হাজার ১১৯ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আর ইউনিপেটুইউ এবং যুবকের গ্রাহকরা হারিয়েছেন যথাক্রমে ২ হাজার ৫শ কোটি এবং ২ হাজার ৬শ কোটি টাকা। (বিশ্বজিৎ দত্ত)

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

অর্থনীতি এর অারো খবর