ডিজিটাল হচ্ছে বাংলাদেশ বেতার
ডিজিটাল হচ্ছে বাংলাদেশ বেতার
২০১৬-০৩-১০ ১৬:২৮:৪৬
প্রিন্টঅ-অ+


জাতীয় বেতারকে আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য কেনা হচ্ছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। এ সংক্রান্ত প্রকল্পটি অনুমোদন দিতে যাচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদেও নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ কোটি ২৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা। অনুমোদন পেলে ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের কাজ শেষ করবে বাংলাদেশ।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য আবদুল মান্নান জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পুরাতন ও অপ্রচলিত অ্যানালগ যন্ত্রপাতির পরিবর্তে আধুনিক ও ডিজিটাল যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বেতারে জাতিগঠনমূলক, তথ্য ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান কোলাহলমুক্তভাবে সারাদেশে সম্প্রচার করা সম্ভব হবে।

তথ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এই অঞ্চলে রেডিও সম্প্রচার শুরু হয় ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৩৯ সালে। প্রথমদিকে কেন্দ্রটি পুরনো ঢাকায় স্থাপন করা হয়। নাজিম উদ্দিন রোডের একটি ভাড়া বাড়ি থেকে ঢাকার কল্যাণপুরে স্থাপিত ৫ কিলোওয়াট ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সম্প্রচার কার্যক্রম চলে। ১৯৬০ সালের প্রথমদিকে বাংলাদেশ বেতারের একমাত্র সম্প্রচার কেন্দ্রটি শাহবাগ কমপ্লেক্সে স্থানান্তর করা হয়। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন স্থানে সম্প্রচার কেন্দ্র এবং ট্রান্সমিটার স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ বেতার প্রায় সমগ্র বাংলাদেশকে সম্প্রচার কার্যক্রমের আওতায় আনে। বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচার কার্যক্রম বৃদ্ধির কারণে ১৯৮৩ সালে শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ বেতারের সম্প্রচার কেন্দ্র স্থাপন করা হয়।

বাংলাদেশ বেতার জাতীয় সম্প্রচার ভবন থেকে ২টি মধ্যম আয়ের তরঙ্গে অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করে। বিশেষ দিনগুলোতে সম্প্রচারের সময় বৃদ্ধি করা হয়। জাতীয় সম্প্রচার কেন্দ্র হতে জাতীয় অনুষ্ঠান, খবর, সাপ্তাহিক সার্ক সংবাদ, আবহাওয়া বার্তা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, দারিদ্র্য বিমোচন, বয়স্ক শিক্ষা অনুষ্ঠান, সংসদ অধিবেশন এবং খেলার ধারাবিবরণী সম্প্রচার করা হয়।

ইলেকট্রনিক যন্ত্রের সাধারণ জীবনকাল ১০ থেকে ১২ বছর ধরা হলেও জাতীয় সম্প্রচার কেন্দ্র এখনো যেসব যন্ত্রপাতি ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলোর বয়স ৩০ বছরেরও বেশি। কারিগরি বিবেচনায় অপ্রচলিত হওয়ার কারণে খুচরা যন্ত্রপাতি সহজলভ্য নয়। তাই উন্নতমানের অনুষ্ঠান সম্প্রচারের লক্ষ্যে আধুনিক ও ডিজিটাল যন্ত্রপাতি স্থাপনের জন্য ৪৫ কোটি ২৯ লাখ ১৯ হাজার টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৬ জানুয়ারি হতে ২০১৬ সালের জুন থেকে ২০১৮ সালের বাস্তবায়নের জন্য এই প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বেতার বিভিন্ন জাতিগঠনমূলক অনুষ্ঠান এবং উন্নয়নমূলক কাজের জন্য জনগণকে উদ্ধুদ্ধকরণ ও উৎসাহ প্রদান সম্পর্কিত অনুষ্ঠান সম্প্রচার করে থাকে। বেতারের এ কার্যক্রমগুলো দারিদ্র্য হ্রাস, জেন্ডার বৈষম্য হ্রাস, নিরক্ষরতা দূরীকরণ, আঞ্চলিক বৈষম্য নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া বাংলাদেশ বেতারে ডিজিটাল যন্ত্রপাতি স্থাপনের মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ভিশন ২০২১ সালে লক্ষমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে।

প্রকল্পের প্রধান প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে, অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার, আধুনিক ও ডিজিটাল বেতার যন্ত্রপাতি সংগ্রহ, আসবাবপত্র, কম্পিউটার, অফিস ইক্যুইপমেন্ট সংগ্রহ এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, জেনারেটর ও সাব-স্টেশন যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হবে।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিশেষ প্রতিবেদন এর অারো খবর