বাজারে আসছে ঘুম পাড়ানি হেডসেট
বাজারে আসছে ঘুম পাড়ানি হেডসেট
২০১৬-০৩-০৭ ১১:১৬:৪১
প্রিন্টঅ-অ+


“খোকা ঘুমল পাড়া জুড়ল, বর্গী এল দেশে। বুলবুলিতে ধান খেয়েছে, খাজনা দেব কীসে।।” আমি-আপনি শুনেছি, কিন্তু নিশ্চিতভাবে আজাকের বাচ্চারা শোনেনি।

আজকের বাচ্চারা মায়ের গান শুনে ঘুমোয় না। শহুরে বাচ্চারা বাস-ট্রামের আওয়াজ আর টিভি-সিরিয়ালের ব্যাকগ্রাউন্ড শুনতে শুনতে ক্লান্তিতে চোখ বোজে। গ্রামের বাচ্চারা অবশ্য বাস-ট্রাকের আওয়াজের হাত থেকে বেঁচে গেছে।

অন্ধকার ঘর, জানলা দিয়ে এক চিলতে চাঁদের আলো, মাথায় মায়ের হাত, খুব ক্ষীণ গলায় ঘুম পাড়ানি গান। এসব আজ সিনেমাতেও দেখায় না। সিনেমার কাছেও আজ দৃশ্যগুলি অতি নাটকীয় (too dramatic)।

নেট রেজ়াল্ট ঘুম উড়ে গেছে বাচ্চাদের চোখ থেকে। রাত ১১টা, ১২টা অবধি জেগে থাকে আজকের বাচ্চারা। আর বড়দের কথা ? বাড়ির চিন্তা, অফিসের চিন্তা, টাকার চিন্তা, ভবিষ্যতের চিন্তা… ছেলেমেয়ের চিন্তা। চিন্তার কোনও শেষ নেই। আর কারোর সঙ্গে যদি সম্পর্ক থাকে, তাহলে তো হয়েই গেল।

ঘুম গুম হয়ে গেছে।

সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছে রিদম (Rythm) নামে একটি নিউরো-টেকনোলজি সংস্থা।

বাজারে নিয়ে এসেছে এক ধরনের হেডসেট। নাম দিয়েছে ড্রিম (Dreem)। EEG সেন্সর লাগানো হেডসেটটি প্রথমে আপনার ঘুমের প্যাটার্ন রেকর্ড করবে। তারপর তা নিয়ে পরীক্ষা করবে (analyze)। দেখবে আপনি কোন প্যাটার্নে শুয়ে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে যান, কীভাবে শুলে আপনার চট করে ঘুম এসে যায়, সকালের দিকে কী ভাবে আপনার ঘুম ধীরে ধীরে হালকা হয় এবং একটা সময় আপনি চোখ খোলেন।

এই সব কিছু পরীক্ষা করার পর, হেডসেটটি আপনার ঘুমের প্যাটার্নের সঙ্গে মিলিয়ে আপনাকে স্টিমুলেট করবে। দেখবেন, “ড্রিম” পরার পর, আপনি নিজে থেকেই আপনার প্রিয় ভঙ্গিমায় শুচ্ছেন। মানে কাত হয়ে বা পাশ ফিরে, উলটো হয়ে বা চিৎ হয়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ড্রিম আপনাকে স্বপ্নের দেশে নিয়ে যাবে। সারা রাত আপনাকে গাইড করবে গভীর থেকে গভীরতর ঘুমের অলিগলিতে।

সকালে যে সময়ে উঠতে চান, তার কিছুক্ষণ আগে থেকেই কাউন্টার স্টিমুলেশনের কাজ শুরু করবে ড্রিম। নিজে থেকেই হালকা হয়ে আসবে ঘুম। সঠিক সময়ে ঘুম ভেঙেও যাবে ভালো মতো। কোনও বিরক্তি থাকবে না আপনার চোখেমুখে। কারণ ঘুমটা আপনার নিজে থেকে ভেঙে গেছে। আপনাকে জোর করে তোলা হয়নি। (অ্যালার্ম শুনে জোর করে বিছানা থেকে ওঠার মতো নয় বিষয়টি।)

যাদের ঘুমের সমস্যা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে জীবনদায়ী হতে পারে প্রোডাক্টটি। তবে হাতেনাতে পরখ না করা পর্যন্ত, আগে থেকে মতামত দেওয়া ঠিক হবে না।

দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫০ মার্কিন ডলার।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

বিজ্ঞান প্রযুক্তি এর অারো খবর