মহাসচিবের খোঁজে বিএনপি
মহাসচিবের খোঁজে বিএনপি
২০১৬-০৩-০৫ ০০:৩৯:৩৫
প্রিন্টঅ-অ+


২০১০ সালের ১৬ মার্চ বিএনপির বর্ষীয়ান মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর সুদূরপ্রসারী ও দীর্ঘকালীন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়৷ এবার আসন্ন ষষ্ঠ কাউন্সিলকে সামনে রেখে এবার পূর্ণাঙ্গ মহাসচিব খুঁজছে বিএনপি। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দলের চেয়ারপারসন ও সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান পদে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। কিন্তু কে হচ্ছেন মহাসচিব তাই নিয়ে চলছে না জল্পনা কল্পনা।

বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমদ আযম খান এ বিষয়ে বলেন, দলের মহাসচিব গণতান্ত্রিকভাবে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই করা হবে। কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে নির্বাচিত করা হবে। চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়ে গেলে ম্যাডামকে (খালেদা জিয়া) কাউন্সিলররা ক্ষমতা দেবেন তিনি মহাসচিব ও নির্বাহী কমিটি গঠন করতে পারবেন।’

মহাসচিব পদে কে আসছেন এমন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) দায়িত্ব পালন করছেন উনার বাইরে তো আর কেউকে দেখি না। তিনি এখনো এককভাবেই আছেন। এখন অপেক্ষা করতে হবে ১৯ মার্চ পর্যন্ত।

দলের কোনো কোনো নেতার অভিমত, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার অভাবে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রেখে দলীয় কর্মকাণ্ড যেভাবে চালানো দরকার, সেভাবে দল পরিচালনা করতে পারছেন না মির্জা ফখরুল। তবে তার ইমেজ ভালো থাকায় দলের নেতাকর্মীরা তাকে নিয়ে আশাবাদী।

কিছু কিছু নেতাকর্মীর এমনও অভিমত, মির্জা ফখরুল সজ্জন হয়েও সাংগঠনিক দক্ষতা নেই তার। ফলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলামের নাম সামনে নিয়ে আসেন অনেকেই। তিনি সিনিয়র হিসেবে সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ও পরীক্ষিত নেতা।

দলের মহাসচিব হওয়ার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন সদ্য কারামুক্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনেরও। আবার স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে ঘিরেও তৈরি হয়েছে আরেকটি বলয়।

লন্ডন ও ঢাকার হিসাব-নিকাশে যার পাল্লা ভারী হবে—আগামীতে তিনিই হবেন বিএনপির মহাসচিব। মহাসচিবের সেই দৌড়ে এগিয়ে আছেন মির্জা ফখরুল। লন্ডন সফরে বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে শলাপরামর্শ করে মির্জা ফখরুলকে মহাসচিব করার সিদ্ধান্ত নেন খালেদা জিয়া। দেশে ফিরেই মির্জা ফখরুলকে চিঠি দেওয়ার কথাও ছিল। সম্প্রতি দল ভাঙার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। ফলে এই নিয়ে দলের হাইকমান্ড থেকে পর্যবেক্ষণে আছেন তিনি এমনটাও বলছেন কেউ কেউ।

ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর সাতবার জেল খেটেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৮৪ মামলার খড়গ। ৩৫টি মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিটও গ্রহণ করা হয়েছে। দফায় দফায় কারাগারে যাওয়ার পর বেশ কয়েকটি জটিল রোগেও আক্রান্ত বিএনপির এই নেতা। এরপরও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

সবকিছু ছাপিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম। দলের ভেতরে-বাইরে তিনি বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। তরিকুল ইসলামের ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিজে থেকে মহাসচিব হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করবেন না তিনি। বিএনপি-প্রধান যদি চান, তাহলেই দায়িত্ব পালন করতে পারেন। তাকে মহাসচিব করা হলে মির্জা ফখরুলকে নিয়ে যাওয়া হবে স্থায়ী কমিটিতে।

দলের আরেক স্থায়ী সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ও ঘনিষ্ঠদের কাছে মহাসচিব হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে সম্প্রতি তিনি বলছেন, নিজে থেকে খালেদা জিয়ার কাছে এ দাবি তিনি করবেন না। তবে বিএনপি-প্রধান চাইলে তিনি মহাসচিবের দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত। ফলে তিনি খালেদা জিয়ার মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে ‘বিতর্কিত’ বক্তব্যের সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে দলের মহাসচিব পদ নিয়েও তৎপরতা শুরু হয়েছে। মির্জা ফখরুল মহাসচিব হচ্ছেন, তা নেতা-কর্মীদের কাছে অনেকটা নিশ্চিত ছিল। কিন্ত গত কয়েক দিনে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতাদের কেউ কেউ তরিকুল ইসলামকে মহাসচিব করতে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

এ বিষয়ে দলের সহ-তথ্য গবেষণা-বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবীব বলেন, ‘দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য তরিকুল ইসলাম, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। উনারা সিনিয়র নেতা। তাদের অবদান আছে। সংকটকালে তারা দল ছেড়ে যাননি। তাদেরকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আসলে উনারা তো এখানে প্রতিযোগিতা করতে আসবেন না।’

তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে দলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি প্রায় ৮৮টি মামলার আসামি, জেল খেটেছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো দুর্নীতির অভিযোগ নেই। ম্যাডামের কথা অবাধ্য হবেন না, সবকিছু মিলে উনার প্রতি দলে ও সারাদেশে কর্মীদের মধ্যে এক সহানুভূতি আছে। এ ছাড়া সুশীল সমাজও উনাকে পছন্দ করেন।’

‘১৯ মার্চ বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। ওখানে মহাসচিব পদে ঘোষণা আসতে পারে অথবা দলের চেয়ারপারসন ইচ্ছা করলে আগেও ঘোষণা দিতে পারেন। মনে হয় কাউন্সিলের মাধ্যমেই ঘোষণা আসতে পারে,’ বলেন তিনি।

নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে স্থাপিত রিটার্নিং অফিসারের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসন ও ভাইস-চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু এই দুই পদে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান ছাড়া অন্য কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৬ মার্চ। এর পরই চেয়ারপারসন ও ভাইস-চেয়ারম্যান পদ চূড়ান্ত হয়ে যাবে। ১৯ মার্চ কাউন্সিলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর বিএনপির সবশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

রাজনীতি এর অারো খবর