পুরস্কার পেলেন সৌমিত্র এবং কাজী আরিফ
পুরস্কার পেলেন সৌমিত্র এবং কাজী আরিফ
২০১৬-০৩-০৪ ০১:২৭:৫৪
প্রিন্টঅ-অ+


প্রবাদপ্রতিম আবৃত্তিশিল্পী ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ পুত্র কাজী সব্যসাচীর ৩৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে প্রথমবারের মত প্রদান করা হয়েছে কাজী সব্যসাচী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৬। বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মূল মঞ্চে এ পুরস্কার প্রদানের আয়োজন করে কাজী সব্যসাচীর পরিবার।

পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত আবৃত্তিশিল্পী ও অভিনেতা সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় এবং দেশের বিশিষ্ট আবৃত্তি শিল্পী কাজী আরিফ পেলেন এই পুরস্কার। কাজী পরিবারের সদস্যরা অনুষ্ঠানের শুরুতেই অতিথিদের ফুল ও উত্তরীয় দিয়ে বরণ করে নেন।

বক্তরা বলেন, প্রবাদপ্রতীম কাজী সব্যসাচীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে এই প্রথমবারের মতো পুরস্কার প্রবর্তন বাংলা সংস্কৃতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল। দেরিতে হলেও এ পুরস্কার উভয় বাংলাকে আরো সমৃদ্ধ করবে এবং সম্প্রীতির বন্ধন আরো সৃদৃঢ় হবে।

আলোচনার পর কাজী পরিবারের পক্ষ থেকে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় ও কাজী আরিফের হাতে পুরস্কারের সম্মাননা স্মারক, এক লাখ টাকার চেক ও উত্তরীয় পরিয়ে দেয়া হয়।

পুরস্কার প্রাপ্তির পরে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমি অত্যন্ত আনন্দিত হঠাৎ করে পুরনো দিনের মুখোমুখি হতে পেরে। আমি আর সানি (কাজী সব্যসাচী) একসঙ্গে কাজ করতাম অল ইন্ডিয়া রেডিওতে। বয়স কম ছিলো দুজনেরই। সারাদিন হৈ হুল্লোর করে বেড়াতাম। আমরা একসঙ্গে আবৃত্তি করতাম। পুরোপুরি ছেড়ে না দিলেও আমি ব্যস্ত হয়ে পড়লাম সিনেমায়। সানি আবৃত্তি চালিয়ে যেতে থাকলো। আমার মনে হয় আবৃত্তি শিল্পকে প্রায় বাঁচিয়ে রেখেছে সানি। ওর কবিতা শোনার জন্য হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাতো। ওর কণ্ঠে মারাত্মক এক ইন্দ্রজাল ছিলো যা আমি অন্য কারো কণ্ঠে পাইনি। সানিকে স্মরণ করার এ প্রচেষ্টাকে আমি সাধুবাদ জানাই। সব্যসাচী পরিবার দেশবাসীর প্রতি তিনি আহবান জানান যেন এই প্রচেষ্টা থেমে না যায়।

কাজী আরিফ বলেন, গুরুর নামে প্রবর্তিত পুরস্কার পেয়েছি এটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জনের অন্যতম। সব্যসাচীর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ওনার মত আবৃত্তিকার ভারতীয় উপমহাদেশে এখনও তৈরি হয়নি আর হবেও না হয়তো। গুরুকে স্মরণ করার এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার উদার আহবান জানান তিনি সব্যসাচী পরিবারের প্রতি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সভাপতি ছিলেন বিশিষ্ট নজরুল গবেষক এবং নজরুল ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম। আলোচক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক, জাতীয় কবি কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মোহিত-উল-আলম, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুস, রামেন্দু মজুমদার, ইকরাম আহমেদ প্রমুখ। কাজী পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উমা কাজী, খিলখিল কাজী, মিষ্টি কাজী, বাবুল কাজী প্রমুখ।

আলোচনা ও পুরস্কার প্রদানের পর ছিল সাংস্কৃতিক আয়োজন। দলীয় আবৃত্তি শোনান স্রোত আবৃত্তি সংসদের শিল্পীরা। এছাড়া একক গান শোনান বিশিষ্ট নজরুল শিল্পী খালিদ হোসেন, খিলখিল কাজী, ফেরদৌস আরা, ফাতেমাতুজ জোহরা, খাইরুল আনাম শাকিল, ইয়াসমিন মুশতারী, ইয়াকুব আলী খান, সুজিত মুস্তফা, স্বপ্নিল সজীব প্রমুখ। আবৃত্তি শোনান সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী আরিফ, ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ।

ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর প্রকাশিত প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, রেখাচিত্র, ভিডিও, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট অাইনে পু্র্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবেনা ।

মন্তব্য

মন্তব্যে প্রকাশিত মত মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু নিয়ে ইঞ্জিনিয়রবিডি ডটকম-এর কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো দায় নেবে না।

শিল্প সাহিত্য এর অারো খবর